মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি
- আপলোড সময় : ০৮-০৬-২০২৬ ১০:৫৭:১৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৬-২০২৬ ১০:৫৭:১৫ অপরাহ্ন
দেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মূল্যস্ফীতি আবারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে অবস্থান করায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
মূল্যস্ফীতি কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়; এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা। যখন খাদ্যপণ্য, পরিবহন, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে, তখন সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়ে সীমিত আয়ের মানুষ, শ্রমজীবী জনগোষ্ঠী এবং নি¤œ ও মধ্যবিত্ত পরিবার। আয় বাড়ার তুলনায় ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার মান ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যার প্রভাব উৎপাদন, সরবরাহ ও বিপণন ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে পড়ে। ফলে কৃষিপণ্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য - সবকিছুর দাম বাড়তে থাকে। মে মাসের তথ্যেও এর প্রতিফলন ¯পষ্ট। বিশেষ করে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশে পৌঁছানো এ সংকেতই দিচ্ছে যে ব্যয় বৃদ্ধির চাপ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ছড়িয়ে পড়েছে।
উদ্বেগের বিষয় হলো, মূল্যস্ফীতির প্রভাব এখন গ্রাম ও শহর উভয় এলাকাতেই সমানভাবে অনুভূত হচ্ছে। আগে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি থাকলেও বর্তমানে কৃষি উপকরণ, পরিবহন ও ভোগ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেখানেও জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। অন্যদিকে শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আয়ের তুলনায় ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নীতি-সহায়তা, বাজার তদারকি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। শুধু মুদ্রানীতি কঠোর করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বাজারে অযৌক্তিক মুনাফা রোধ করা এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নি¤œআয়ের মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণ ও কার্যকর করা প্রয়োজন।
প্রকৃতপ্রস্তাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল তখনই অর্থবহ হবে, যখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষিত থাকবে। মূল্যস্ফীতির লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি সেই ক্রয়ক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত, সমন্বিত ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের মধ্য দিয়েই জনগণের স্বস্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়