সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি! দিরাইয়ে একাধিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম পৌর প্রশাসকের সাথে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণকাজ অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে তদন্ত কমিটি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হচ্ছে : রিজভী লাইসেন্সের দাবিতে অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের বিক্ষোভ শান্তিগঞ্জে দিনমজুরের বসতভিটার বারান্দা ভেঙে জোরপূর্বক রাস্তা তৈরি পৌর জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল দিরাইয়ে মৎস্যজীবীদের সংবাদ সম্মেলন জলমহালে মাছ লুটের অভিযোগ রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি চুরি এল নিনো’র প্রভাব : আসন্ন মৌসুমে বোরো উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা জামালগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে সভাপতি তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ বহিষ্কার তাহিরপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 'সাক্ষরতায় সমৃদ্ধি' সুনামগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় বেতন জটে বিপাকে শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি আগস্টে সড়কে মৃত্যু ৪৮১, প্রতিদিন ১৫ জনের বেশি কোটি টাকা রাজস্ব দিয়েও মাছ ধরতে পারছেন না মৎস্যজীবীরা যানজট ঠেকাতে সুনামগঞ্জে পৌরসভার বড় অভিযান জামালগঞ্জে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন

  • আপলোড সময় : ১০-০৬-২০২৬ ১১:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৬-২০২৬ ১১:০৫:৩৭ পূর্বাহ্ন
স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি কেবল একটি অবকাঠামোগত দাবির বহিঃপ্রকাশ নয়; এটি একটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব, মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের প্রতিফলন। শিক্ষার্থীদের স্থায়ী ক্যাম্পাসের দাবিকে তাই কোনোভাবেই সাধারণ আন্দোলন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ২০২০ সালে জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার ফল। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণা কার্যক্রমের বিকাশ এবং পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচনের লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পরও বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজস্ব ক্যাম্পাসের মুখ দেখতে না পারা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বিভিন্ন ভাড়া করা ও অস্থায়ী স্থাপনায় পরিচালিত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন প্রয়োজনীয় শিক্ষা-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তেমনি একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অভিজ্ঞতাও অর্জন করতে পারছেন না। গবেষণাগার, লাইব্রেরি, আবাসন, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রম - সব ক্ষেত্রেই রয়েছে সীমাবদ্ধতা। ফলে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ উভয়ই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে যে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে, তা অমূলক নয়। তারা জানতে চান, কবে নির্মিত হবে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাস? প্রকল্পের অগ্রগতি কোথায়? সরকারের পরিকল্পনা কী? এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর পাওয়া তাদের ন্যায্য অধিকার। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তবে এও সত্য যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন এবং প্রকল্পটি বর্তমানে প্রি-একনেক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এটি ইতিবাচক সংবাদ হলেও বাস্তবতা হলো- শিক্ষার্থীরা এখন আর আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, কিন্তু অবকাঠামোগত সংকট আরও প্রকট হচ্ছে। আমরা মনে করি, সুনামগঞ্জের মতো একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চলের জন্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। হাওরাঞ্চলের উন্নয়ন, গবেষণা ও দক্ষ মানবস¤পদ তৈরিতে এই প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিতভাবে শিক্ষার্থীদের অবহিত করার ব্যবস্থাও জরুরি। প্রকৃত অর্থেই শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক, গণতান্ত্রিক এবং সময়োপযোগী। সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল, পরিকল্পনা কমিশন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত পরিচয় তার স্থায়ী ক্যা¤পাস, একাডেমিক পরিবেশ ও গবেষণা সক্ষমতায়। সেই বাস্তবতা নিশ্চিত না হলে সুবিপ্রবির কাক্সিক্ষত বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পূর্ণাঙ্গ আধুনিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীসহ সুনামগঞ্জবাসীর ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে দ্রুত স্থায়ী ক্যা¤পাস নির্মাণের কাজ শুরু হোক - এটাই কাম্য।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি! দিরাইয়ে একাধিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম

নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি! দিরাইয়ে একাধিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম