সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের বিকল লিফটে আটকা ছিলেন রোগী-স্বজনরা,
বারবার ত্রুটিতে ক্ষোভ “মনে হচ্ছিল, জীবিত আর বের হতে পারব না”
- আপলোড সময় : ১০-০৬-২০২৬ ১১:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-০৬-২০২৬ ১১:৩৮:১৮ পূর্বাহ্ন
মোহাম্মদ নূর ::
“লিফট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মনে হচ্ছিল আর বের হতে পারব না। রোগীকে নিয়ে লিফটে আটকে ভাবছিলাম, হয়তো লাশ হয়ে ফিরতে হবে।” সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের বিকল লিফটে প্রায় ১৫ মিনিট আটকা পড়ে আতঙ্কের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলেন এক রোগীর স্বজন।
মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে হাসপাতালের লিফটে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে ভেতরে থাকা ১০ থেকে ১২ জন রোগী ও স্বজন আটকা পড়েন। দীর্ঘ সময় লিফটের ভেতরে বন্দি অবস্থায় থাকায় নারী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেলের দিকে লিফটটি চলাচলের সময় হঠাৎ বিকল হয়ে যায়। ভেতরে থাকা যাত্রীরা চিৎকার করে সাহায্য চাইতে থাকেন। বাইরে অবস্থানরত স্বজনরাও উৎকণ্ঠায় ছুটোছুটি শুরু করেন। প্রায় ১৫ মিনিট পর লিফটের দরজা খুলে আটকে পড়াদের বের করা সম্ভব হয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের দুটি লিফট দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে। প্রায় দেড় মাস আগেও একই ধরনের ঘটনায় কয়েকজন রোগী ও স্বজনরা প্রায় ২৫ মিনিট লিফটের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। এরপরও সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা জানান, এখন লিফটে উঠতেই ভয় লাগে। বিশেষ করে গুরুতর অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ওপরের তলায় নেওয়ার ক্ষেত্রে লিফটের বিকল্প নেই। কিন্তু বারবার বিকল হওয়ায় রোগী পরিবহন দুর্ভোগ ও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, গত দুই দিন ধরে বৃষ্টির পানি লিফটের ভেতরে ঢুকে পড়ছে। এতে শর্ট সার্কিটসহ বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়ে লিফটগুলো বারবার অচল হয়ে পড়ছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ এ সেবাটি নিয়ে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা চরমে পৌঁছেছে। বারবার দুর্ঘটনার পরও কার্যকর সংস্কার না হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, “লিফটে বৃষ্টির পানি ঢুকে শর্ট সার্কিট হয়েছে এবং একটি মোটরও নষ্ট হয়ে গেছে বলে অপারেটররা আমাকে জানিয়েছে। লিফটগুলো দ্রুত সংস্কার ও মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগকে আমি একাধিকবার তাগিদ দিয়েছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে দায়িত্বপ্রাপ্ত গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
সাধারণ সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর গণপূর্ত বিভাগের উদাসীনতার কারণে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা মানুষ আজ চরম ঝুঁকিতে। লিফট দুটি দ্রুত আধুনিকায়ন বা স্থায়ী সংস্কার না করা হলে যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতনমহল।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ