সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি ‎পটিয়া থেকে ৫১৪৮, এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগের চিত্র জেলায় ৫১ নদী-খালের ২০০ কি.মি. খননের পরিকল্পনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে ‘প্রতিষ্ঠা প্রকল্পে’র অবহিতকরণ কর্মশালা দোয়ারাবাজারে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সুনামগঞ্জ শহরে মারামারি, নিরপেক্ষ তদন্ত চায় শ্রাবণের পরিবার দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ, সুনামগঞ্জে যুবদলের মিছিল সমাবেশ ‎বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে হাওরের সড়কজুড়ে শতাধিক তালগাছের চারা রোপণ ‎জাতিসংঘে তারেকের প্রথম ভাষণ, সামনে বাংলাদেশের নতুন বার্তা ‎বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতবিনিময় সভা ও র‍্যালি রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ, প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনসাধারণের ক্ষোভ তাহিরপুরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বহিষ্কার সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজারের তান্ডব থামেনি সাদাসিধে জীবন, আলোকিত কর্মযাত্রা নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদরে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন ফারুকীকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফুটবল উৎসব উদ্বোধন প্রকল্পের অপেক্ষায় ভাগাড়ে পরিণত পুরাতন পৌরসভা চত্বর
৩৪ সাংস্কৃতিক সংগঠনের মিলনমেলা

সংগীত উৎসবে মুগ্ধতা ছড়ালেন শিল্পীরা

  • আপলোড সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৯:৩১:২৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৯:৩৬:২৭ পূর্বাহ্ন
সংগীত উৎসবে মুগ্ধতা ছড়ালেন শিল্পীরা
স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ যেন আবারও প্রমাণ করল, এই জনপদ শুধু হাওর-নদীর নয়, সুর-সংগীতেরও এক চিরসবুজ ভুবন। বিশ্ব সংগীত দিবস উপলক্ষে রবিবার বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংগীত উৎসব পরিণত হয় জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক বিরল মিলনমেলায়। জেলার ৩৪টি সাংস্কৃতিক ও সংগীত সংগঠনের অংশগ্রহণে এই আয়োজন হয়ে ওঠে সুর, আবেগ ও ঐতিহ্যের এক অনন্য উৎসব। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন ভরে ওঠে শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, সংগীতপ্রেমী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে। মঞ্চে একের পর এক পরিবেশনায় উঠে আসে বাংলার সংগীত ঐতিহ্যের নানা রূপ। লোকসংগীত, বাউল, ধামাইল, রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলসংগীত, দেশাত্মবোধক ও আধুনিক গানের সম্মিলনে সৃষ্টি হয় এক বর্ণিল সাংস্কৃতিক আবহ। সংগীত উৎসবের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সমর কুমার পাল। উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা বলেন, সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষের আত্মিক বিকাশ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম শক্তিশালী বাহন। বিশ্বায়নের এ সময়ে নিজস্ব সংগীত ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দৈনিক সুনামকণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক বিজন সেন রায়, দৈনিক সুনামগঞ্জের ডাক সম্পাদক ও প্রকাশক এবং সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) শেরগুল আহমেদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পরিষদের সদস্য শাহ নুর জালাল, জেলা জাসাসের সদস্য সচিব মুহাম্মদ মুনাজ্জির হোসেন সুজন এবং জেলা বিএনপির সদস্য রেজাউল হক। সভাপতিত্ব করেন জেলা কালচারাল অফিসার আহমেদ মঞ্জুরুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সৌরভ অধিকারী অয়ন ও দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী। বিশ্ব সংগীত দিবসের এই আয়োজনের একটি আবেগঘন মুহূর্ত ছিল প্রয়াত গীতিকার জবান আলীকে স্মরণ। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে শিল্পীরা তাঁর জনপ্রিয় গান ‘প্রেমের মানুষ ঘুমাইলে চাইয়া থাকে’ পরিবেশন করলে মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সুনামগঞ্জ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক উর্বর জনপদ। হাছন রাজা, রাধারমণ দত্ত, শাহ আবদুল করিম, দুর্ব্বিণ শাহসহ অসংখ্য মরমী সাধক, বাউল ও লোকসংগীত শিল্পীর পদচারণায় এ অঞ্চল সমৃদ্ধ হয়েছে। এখান থেকেই বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের বহু খ্যাতিমান শিল্পীর উত্থান ঘটেছে। বক্তারা আরও বলেন, গুণীজনদের স্মৃতি ও কর্মকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রচার করা গেলে নতুন প্রজন্ম সংস্কৃতি চর্চায় আরও বেশি আগ্রহী হবে। এতে সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পকলার বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটবে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শিল্পী শুক্লা রায়, শামীম সারোয়ার, রূপশ্রী রায়, সন্তোষ কুমার চন্দ, সিনিয়র সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন, শিল্পী সোহেল রানা, তপন কর, অমিত বর্মণ প্রমুখ। এই সংগীত উৎসবে জেলার ৩৪টি সাংস্কৃতিক ও সংগীত সংগঠন অংশগ্রহণ করে। অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর পরিবেশনায় উঠে আসে লোকসংগীত, নজরুলসংগীত, রবীন্দ্রসংগীত, দেশাত্মবোধক গান, ধামাইল, বাউল ও আধুনিক সংগীতের বৈচিত্র্যময় আয়োজন। এক মঞ্চে জেলার এত সংখ্যক সংগঠনের অংশগ্রহণ সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। উৎসবে অংশ নেওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল জেলা শিল্পকলা একাডেমি, বুলবুল সংগীত নিকেতন, সপ্তক সংগীত বিদ্যালয় (ছাতক), সুর নিকেতন একাডেমি (ছাতক), আনন্দলোক সংগীত একাডেমি (দিরাই), মেঠোসুর সাংস্কৃতিক বিদ্যাপীঠ, সুরালোক সংগীত বিদ্যালয় ও সাংস্কৃতিক সংস্থা, সুন্দরম শিল্পীগোষ্ঠী, জেলা খেলাঘর, বাউল স¤্রাট শাহ আবদুল করিম পরিষদ, জ্ঞানের সাগর বাউল ফকির দুর্ব্বিণ শাহ পরিষদ, লোকদল শিল্পীগোষ্ঠী ও লোকজ সংগীত বিদ্যালয়, বাউল কামাল পাশা সংস্কৃতি পরিষদ, স্বরবিতান সংগীত নিকেতন, স্পন্দন সাংস্কৃতিক সংস্থা, সোহিনী সংগীত বিদ্যালয়, ধ্রুবতারা শিল্পীগোষ্ঠী, সপ্তসুর সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, সুনামগঞ্জ কালচারাল ফোরাম, লোকসংগীত একাডেমি, মনোরঞ্জন সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, মাটিরালয় সংগীত একাডেমি, জালালী বাউল সমাজকল্যাণ সংস্থা, সফর আলী শিল্পীগোষ্ঠী, সুনামগঞ্জ জেলা বাউল সমিতি, বাংলাদেশ ধামাইল উন্নয়ন পরিষদ, ফ্রেন্ডস টার্গেট ব্যান্ড, লাল শাহ সংগীতালয়, টাঙ্গুয়া শিল্পীগোষ্ঠী এবং জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংস্থা। সংগীত পরিবেশনাকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে বাদ্যযন্ত্রে সহযোগিতা করেন কীবোর্ডে সন্তোষ কুমার চন্দ, ঢোলে শৈলেন দাশ, হারমোনিয়ামে সোহেল রানা, তবলায় কপিল ঋষি ও অমিত বর্মণ, গিটারে অনুপম প্রতীক, বাঁশিতে প্রণয় এবং অক্টোপ্যাডে উত্তম দাশ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি