যাদুকাটা ও ধোপাজান বালু-পাথর মহাল ইজারা পদ্ধতি বাতিল করে সরকারি ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র চালুর দাবিতে স্মারকলিপি
- আপলোড সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৯:৪০:৫৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-০৬-২০২৬ ০৯:৪০:৫৭ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
যাদুকাটা ও ধোপাজান বালু-পাথর মহালে ইজারা পদ্ধতি বাতিল করে সরকারিভাবে ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র চালুর দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সুনামগঞ্জ জেলা বারকি শ্রমিক সংঘ।
রোববার বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবর এ স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল, সুনামগঞ্জ জেলা বারকি শ্রমিক সংঘের সভাপতি নাসির মিয়া, সহ-সভাপতি সিদ্দিক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মিয়া, সদস্য আবুল বাশার, মরম আলীসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন যাদুকাটা ও ধোপাজান বালি-পাথর মহাল। জেলার অধিকাংশ উপজেলা বছরের প্রায় আট মাস পানির নিচে থাকায় এ সময় বিপুল সংখ্যক কৃষক পরিবারের সদস্যরা বারকি শ্রমিক হিসেবে বালি-পাথর আহরণের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, যুগ যুগ ধরে স্থানীয় শ্রমিকরা পরিবেশবান্ধব উপায়ে বেলচা, বালতি ও নেট ব্যবহার করে বালি, পাথর ও কয়লা আহরণ করলেও বর্তমানে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধ ড্রেজার, বোমা মেশিন ও বিভিন্ন খননযন্ত্র ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে বালি-পাথর উত্তোলন করছে। এতে নদীর গভীরতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, নদীভাঙন দেখা দিচ্ছে এবং ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, অবৈধ খননযন্ত্র ব্যবহারের ফলে হাজার হাজার বারকি শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে ইঞ্জিনচালিত স্টিলবডি নৌকা সরাসরি মহালের ভেতরে প্রবেশ করে বালি-পাথর উত্তোলন করায় ছোট বারকি নৌকার ব্যবহার কমে গেছে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে।
বারকি শ্রমিক নেতারা দাবি করেন, বর্তমান ইজারা পদ্ধতির কারণে একদিকে পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় শ্রমজীবী মানুষ জীবিকার সংকটে পড়ছেন। তাই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা এবং অবৈধ খনন বন্ধে ইজারা ব্যবস্থা বাতিল করে সরকারিভাবে বালি-পাথর ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র চালু করা প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে সরকারিভাবে ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্র চালু, শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন, বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরি নির্ধারণ, বারকি শ্রমিকদের পরিচয়পত্র প্রদান, সার্বজনীন রেশনিং ব্যবস্থা চালু, পরিবেশ বিধ্বংসী ড্রেজার ও বোমা মেশিন বন্ধ এবং মহালের ভেতরে ইঞ্জিনচালিত স্টিলবডি নৌকা, ট্রাক, ভ্যান ও লরির প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, যাদুকাটা ও ধোপাজান মহালকে অবৈধ খননযন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা করা না গেলে পরিবেশের অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা আরও হুমকির মুখে পড়বে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তারা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ