সুবিপ্রবি’র স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন জনগণের যৌক্তিক দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করুন
- আপলোড সময় : ৩০-০৬-২০২৬ ০৯:২৫:১৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-০৬-২০২৬ ০৯:২৫:১৪ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সুবিপ্রবি) এই জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার ফসল। একটি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি অঞ্চলের জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও সামগ্রিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস কোথায় স্থাপিত হবে, সেটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়; বরং জেলার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সম্প্রতি সুনামগঞ্জ শহরে অনুষ্ঠিত সমাবেশ, গণমিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরের নিকটবর্তী এলাকায় স্থাপনের দাবি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়; এটি বৃহত্তর জনস্বার্থের দাবি। এই দাবির পেছনে রয়েছে শক্তিশালী যুক্তি ও বাস্তবতা।
প্রথমত, একটি বিশ্ববিদ্যালয় এমন স্থানে হওয়া উচিত যেখানে জেলার সব উপজেলার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট জনগণ সহজে যাতায়াত করতে পারেন। সুনামগঞ্জ জেলা সদর ভৌগোলিক ও প্রশাসনিকভাবে জেলার কেন্দ্রবিন্দু। সদর এলাকার নিকটবর্তী কোনো স্থানে ক্যাম্পাস স্থাপিত হলে তাহিরপুর, ধর্মপাশা, মধ্যনগর, দিরাই, শাল্লা, জগন্নাথপুর, ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও শান্তিগঞ্জসহ সব উপজেলার শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে সমান সুযোগ পাবেন। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই ভারসাম্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রস্তাবিত দেখার হাওর একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন এলাকা। হাওর শুধু সুনামগঞ্জের নয়, জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে বিশাল অবকাঠামো নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ, কৃষিজমি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।
তৃতীয়ত, জেলার উন্নয়ন কোনো একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। অতীতে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অবস্থান নির্ধারণ নিয়ে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় পুরো জেলার সম্পদ। তাই এর অবস্থানও এমন হওয়া প্রয়োজন, যা জেলার সব মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য এবং সমান সুবিধা নিশ্চিত করে। উন্নয়নের সুফল সবার মধ্যে বণ্টিত হওয়াই হওয়া উচিত রাষ্ট্রীয় নীতির মূল লক্ষ্য।
চতুর্থত, আন্দোলনকারীরা সদর উপজেলার যোগীরগাঁও মৌজার সরকারি খাসজমিতে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার দাবি রাখে। সেখানে বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি থাকলে অধিগ্রহণ ব্যয় কমবে, সরকারি অর্থ সাশ্রয় হবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নও সহজ হবে। একই সঙ্গে পরিবেশগত ক্ষতির ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।
আমরা মনে করি, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব নয়, জনস্বার্থ, পরিবেশগত নিরাপত্তা, যোগাযোগ সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে নতুন করে সম্ভাব্য স্থানসমূহের পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা উচিত।
সুনামগঞ্জের মানুষ বিশ্ববিদ্যালয় চায়, তবে এমন বিশ্ববিদ্যালয় চায় যা পুরো জেলার উন্নয়নের প্রতীক হবে। জেলা সদরের নিকটবর্তী সুবিধাজনক ও পরিবেশসম্মত স্থানে সুবিপ্রবি’র স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন করা হলে তা হবে শিক্ষার প্রসার, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং টেকসই উন্নয়নের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণের এই যৌক্তিক দাবিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে - এটাই সুনামগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়