শহীদনূর আহমেদ::
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। মঙ্গলবার দুপুরে গ্রামের কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয় বাবা, মা ও ছেলেকে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় তাদের জানাজার নামাজ। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্য দেখতে গ্রামের শত শত মানুষ ভিড় করেন। স্বজনদের আহাজারি আর পিতামাতাহারা শিশুদের অসহায় চাহনি উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। নিহতরা হলেন অনন্তপুর গ্রামের নুরুল আমীন (৬৫), তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এবং ছেলে ফরহাদ শাহ (৩৫)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকেলে নুরুল আমীন ও তার ছেলে ফরহাদ শাহ বাড়ির পাশের একটি দোকানঘর মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় দোকানঘরের পাশে থাকা বিদ্যুতের মিটার সরাতে গিয়ে অসতর্কতাবশত তারা বিদ্যুতায়িত হন। তাদের চিৎকার শুনে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে নুরুল আমীনের স্ত্রী ফাতেমা বেগমও বিদ্যুৎ¯পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। একই দিনে পরিবারের তিন সদস্যকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন স্বজনরা। নিহত ফরহাদ শাহ বিবাহিত ছিলেন। তার তিন সন্তান রয়েছে। বড় সন্তানের বয়স পাঁচ বছর, দ্বিতীয় সন্তানের বয়স দেড় বছর এবং ছোট সন্তানের বয়স মাত্র তিন মাস। এক মুহূর্তে বাবাকে হারিয়ে এতিম হয়ে পড়া এই তিন শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজন ও প্রতিবেশীরা। স্বামীর মৃত্যুতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন ফরহাদের স্ত্রী। শোকাহত পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম। প্রতিবেশীদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ ব্যবহারে জনসচেতনতার অভাবের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির ঘাটতির কারণেও এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান। নিহতদের স্বজন ও গ্রামের বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, একটি পরিবারের এমন পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছে। তিনটি অবুঝ শিশুর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইনের কারণে প্রায়ই মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এসব বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন। ফতেহপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। আমাদের এলাকাটি দুর্গম এবং অধিকাংশ মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহারে পর্যাপ্ত সচেতন নন। অনেক স্থানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বিদ্যুৎ লাইন রয়েছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে দুর্ঘটনার জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিশ্বম্ভরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সাব-জোনের এজিএম সুলতান মাহমুদ। তিনি বলেন, বিদ্যুতের মিটার বা সংযোগ স্থানান্তরের আগে অবশ্যই বিদ্যুৎ বিভাগকে জানাতে হয়। কিন্তু তারা তা না করেই মিটার সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করার জন্য আমরা সবাইকে সতর্ক করে থাকি। এদিকে দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান। তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক একটি ঘটনা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও পরিবারটির সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু
শোকে স্তব্ধ অনন্তপুর, তিন এতিম শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা
- আপলোড সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:১০:১১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:১০:৩৮ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ