সুনামগঞ্জ , বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২৬ , ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অবশেষে বালু লুটকান্ডে এক মামলায় চার্জশিট রাতের আঁধারে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাঁকো কেটে দিল দুর্বৃত্তরা জগন্নাথপুরে রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস খাদে, আহত ১০ শোকে স্তব্ধ অনন্তপুর, তিন এতিম শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠা কোটি টাকার নৌকা বানিয়েও সচ্ছল নন কারিগররা, চান সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প ৯৯৫টি আফটারশক, মৃত বেড়ে ৩৩৪২ প্রধানমন্ত্রীর গুলশানের বাসভবনকে কেপিআই ঘোষণা সরকারের অবৈধভাবে বালু উত্তোলন রোধে টাস্কফোর্স অভিযান জোরদারের সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পায়নি মানবিক সহায়তা, তালিকায় জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের ঘনিষ্ঠজনেরা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মা-বাবা ও ছেলের মৃত্যু সমৃদ্ধ পল্লীই গড়ে তুলবে উন্নত বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী দেড় বছর ধরে অচল অ্যাম্বুলেন্স, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা ১৬ জুলাই ‘জুলাই শহিদ দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত জুনে সুনামগঞ্জে ১১ দুর্ঘটনায় নিহত ১০ তাহিরপুরে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে নৌযান ধর্মঘট জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই না : প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ আর দেশে রাজনীতি করতে পারবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেট বিভাগের উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদন হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত

ঐতিহ্যের নৌকা শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-০৭-২০২৬ ১১:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন
ঐতিহ্যের নৌকা শিল্প টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন
হাওরাঞ্চলের জীবন-সংস্কৃতি, যোগাযোগ ও অর্থনীতির সঙ্গে নৌকার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। বিশেষ করে সুনামগঞ্জে বর্ষা এলেই নৌকাই হয়ে ওঠে মানুষের প্রধান বাহন। সেই প্রয়োজন পূরণে সদর উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের মাইজবাড়ি গ্রামের শত শত কারিগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নৌকা নির্মাণ করে আসছেন। আজ এই গ্রাম শুধু একটি জনপদ নয়, বরং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পের এক উজ্জ্বল উদাহরণ। প্রতি বছর প্রায় ২২ কোটি টাকার নৌকা উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত কারিগরদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে সচ্ছল নন। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঠের সংকট, পর্যাপ্ত মূলধনের অভাব এবং মহাজননির্ভর ব্যবসা তাদের লাভের বড় অংশ কেড়ে নিচ্ছে। ফলে যে শিল্প স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে, সেই শিল্পের মূল চালিকাশক্তি কারিগররাই বঞ্চিত থেকে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পের উন্নয়নের কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে অনেক ঐতিহ্যবাহী শিল্প এখনো প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত। মাইজবাড়ির নৌকা শিল্প তার একটি বাস্তব উদাহরণ। সহজ শর্তে ঋণ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ, কাঁচামাল সংগ্রহে সহায়তা এবং দেশব্যাপী বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে এই শিল্প আরও বিকশিত হবে। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মও এই পেশায় আগ্রহী হবে, যা একটি ঐতিহ্যকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর চলমান উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। তবে প্রশিক্ষণ ও সীমিত ঋণ কর্মসূচির বাইরে গিয়ে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের সময় এসেছে। প্রয়োজন নৌকা শিল্পকে সম্ভাবনাময় গ্রামীণ শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ, সহজ অর্থায়ন, কারিগরদের নিবন্ধন, সমবায়ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থা এবং বাজারজাতকরণে সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা। নৌকা কেবল একটি যানবাহন নয়; এটি হাওরাঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার প্রতীক। এই শিল্প টিকে থাকলে যেমন হাজারো পরিবারের জীবিকা সুরক্ষিত হবে, তেমনি সংরক্ষিত হবে দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য। তাই কোটি টাকার এই শিল্পকে শুধু পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, এর সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
অবশেষে বালু লুটকান্ডে এক মামলায় চার্জশিট

অবশেষে বালু লুটকান্ডে এক মামলায় চার্জশিট