সুনামগঞ্জ , রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ , ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষার্থীদের আলোকিত মানুষ হওয়ার আহ্বান: জেলা প্রশাসক একদিনে ভর্তি রোগীর পরিমাণ ৯১২, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে হঠাৎ তিনগুণ রোগীর চাপ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, ভাঙনের ঝুঁকিতে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কবরস্থান বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারও নেই জনবল সংকটে ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা প্রফেসর পরিমল কান্তি দে : মানুষ গড়ার কারিগর, মানুষেরই আপনজন সুরমা নদীর তীর যেন ‘আমন চারার হাট’ : স্বাবলম্বী শত শত কৃষক কাজ হস্তান্তরের আগেই ব্রিজের এপ্রোচে ধস ও ফাটল, অনেক জায়গায় লাগানো হয়নি ব্লক একই ব্যক্তি পেয়েছেন চার লটের ইজারা, টেন্ডার ও গাছের মূল্য নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ১৭৬ বছরের পুরোনো ‘ইংলিশ টিলা’ ৬৪ জেলার তদারকি-সমন্বয়ের দায়িত্বে ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-হুইপ, সুনামগঞ্জের দায়িত্ব পেলেন হুইপ জি কে গউস নেপালে ভয়াবহ বন্যা, মৃত্যু ছাড়াল ৩৬০, এখনও নিখোঁজ ১৪০০ মানুষ অনিয়ম, অবহেলা, শিক্ষক সংকটে রুদ্ধ শিক্ষা টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত : অবৈধ জাল ও সরঞ্জাম ধ্বংসের নির্দেশ নতুন আঙ্গিকে মাষ্টার ওয়ান টেইলার্স এন্ড ফেব্রিকসের উদ্বোধন সুনামগঞ্জে সিজারের সময় নবজাতকের গলা কাটার অভিযোগ, আটক ১ ‎দ্রোহের কবি নজরুল: গুলশান আরা রুবী ‎জামালগঞ্জে ৩৯৮ পিস ভারতীয় শাড়ি ও স্পিডবোট জব্দ, দুজনকে আসামি করে মামলা টাঙ্গুয়ার হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কড়া ব্যবস্থা: অবৈধ জাল ও সরঞ্জাম ধ্বংসের নির্দেশ ‎সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা হুফফাজুল কোরআন ফাউন্ডেশনের সভাপতি হেলাল, সম্পাদক হাসান ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সুনামগঞ্জে জসনে জুলুছ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

পথে যেতে যেতে: পথচারী

  • আপলোড সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ০৯:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৭-২০২৬ ০৯:২৮:৫০ পূর্বাহ্ন
পথে যেতে যেতে: পথচারী
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক আবুল ফজলের জন্ম ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দের ১ জুলাই চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেউচিয়া ইউনিয়নে। পিতা মৌলভী ফজলুর রহমান, মাতা গুলশান আরা ছিলেন গৃহিণী। তাঁর স্কুল জীবন কাটে সরকারি মাদ্রাসা চট্টগ্রামে। ১৯২৩ সালে এসএসসি এবং ১৯২৫ সালে ঢাকা ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বর্তমানে কবি নজরুল ইসলাম সরকারি কলেজ) হতে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ১৯২৮ সালে বিএ এবং ১৯৪০ সালে কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে এমএ পাশ করেন। মহান এই পুরুষ ছিলেন খুবই মেধাবী। শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনের সর্বত্রই দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর কর্মজীবন শুরু হয় চট্টগ্রামে স্কুল শিক্ষক হিসেবে। পরে কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেন। দেশ বিভাগের পরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) এসে যুক্ত হন অধ্যাপনা কাজে। এক পর্যায়ে সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন। কর্মের ব্যস্ততার ভেতরও তিনি বিশ্বাস করেন একজন মানুষের বিশ্বস্ত সঙ্গী কেবল বই আর বই। খাবার মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজন, কিন্তু মনের সজীবতার জন্য প্রয়োজন কেবল বই আর বই। একজন উত্তম সঙ্গী হিসেবে বইয়ের বিকল্প আর কিছুই হতে পারে না। জনাব আবুল ফজল একজন সু-সাহিত্যিক হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত ছিলেন। তাঁর অনেক সমৃদ্ধ রচনা আজও পাঠক প্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে। তাঁর রচিত উপন্যাস ‘চৌচির’ ও ‘রাঙা প্রভাত’ তৎকালীন পাঠক মহলে ব্যাপক সারা জাগিয়েছিলেন। অন্যান্য রচনা ‘পথের যাত্রী’, ‘সাহসিকা’, ‘প্রদীপ ও পতঙ্গ’, ‘পরিবর্তন’, ‘বিচিত্র কথা’, ‘মাটির পৃথিবী’, ‘প্রবন্ধ সংকলন’ ইত্যাদি। তিনি একজন স্বাধীন চিন্তার মানুষ। সমাজ সচেতনতা তাঁর রচনায় আমরা পাই। তাঁর কর্মজীবন অনেক আলো উজ্জ্বল প্রভায় দীপ্ত। অধ্যাপক আবুল ফজল এক পর্যায়ে শিক্ষা ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা নিয়োজিত হয়েছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের ৪র্থ উপাচার্য নিয়োগ হওয়ার পর অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর দায়িত্বকাল ছিল ৯ এপ্রিল ১৯৭৩ থেকে ২৭ নভেম্বর ১৯৭৫ পর্যন্ত। আবুল ফজল একটি ধর্মীয় পরিবেশে বেড়ে ওঠেছিলেন। তাঁর পিতা মৌলভী ফজলুর রহমান এবং পিতামহ মৌলভী হায়দার আলী। মৌলভী হায়দার আলী চট্টগাম জামে মসজিদে দীর্ঘদিন পেশ ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে অধ্যায়নকালে আবুল ফজল ‘ঢাকার মুসলিম সাহিত্য সমাজ’ সামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত হন। দীর্ঘদিন এই প্রতিষ্ঠানের হয়ে অনেক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করেন। এক পর্যায়ে ১৯৩০ সালে এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। ব্যক্তিগত জীবনে আবুল ফজল এক পুত্র সন্তানের জনক। পুত্র সন্তানের নাম আবুল মোমেন প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ আবুল ফজল বাংলা একাডেমি সাহিত্য পদক (১৯৬২) এবং স্বাধীনতা পদক (২০১২) ছাড়াও অন্যান্য যে সকল পদক পানÑ রাষ্ট্রপতি জাতীয় পদক (১৯৬৬), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮১), নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৮০), মুক্তধারা সাহিত্য পদক (১৯৮১) আব্দুল হাই সাহিত্য পদক (১৯৮২)। চিন্তাশীল সাহিত্য সাধনার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৭৪ সালে তাঁকে সম্মাননাসূচক ‘ডক্টরেট’ ডিগ্রি প্রদান করে। অধ্যাপক আবুল ফজলের পুরো নাম আবুল ফজল ইবনে মোবারক। তিনি ছদ্মনামেও অনেক রচনা লিখেছেন। তাঁর ছদ্মনাম ছিল ‘শমসের উল আজাদ’। তাঁর বিখ্যাত রচনা ‘রেখাচিত্র’ প্রকাশিত হয় ১৯৬৬ সালে। এছাড়া ১৯৭২ সালে প্রকাশিত ‘দুর্দিনে দিনলিপি’ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। মুঘল স¤্রাট আকবরের রাজত্বকালের ইতিহাস নিয়ে গ্রন্থ ‘আকবরনামা’ উল্লেখযোগ্য একটি রচনা। তেমনি অপর একটি রচনা ‘আইন-ই আকবরী’। আবুল ফজল বাংলা সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় নাম। চিন্তাশীল লেখক হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি চির অম্লান। ১৯৮৩ সালের ৪ মে ৭৯ বছর বয়সে এই মহান প্রতিভার জীবনের ইতি ঘটে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
একদিনে ভর্তি রোগীর পরিমাণ ৯১২, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে হঠাৎ তিনগুণ রোগীর চাপ

একদিনে ভর্তি রোগীর পরিমাণ ৯১২, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে হঠাৎ তিনগুণ রোগীর চাপ