সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পূজার ছুটিতে পর্যটকদের অপেক্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওর ১৫০ বছরের পুরোনো মূর্তি ও গহনা চুরি অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বহিরাগতদের উপদ্রব দুর্গাপূজায় থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দ্রুত আদায়ে নির্দেশ হাইকোর্টের নিউইয়র্কে হেনস্তার শিকার ড. মুহাম্মদ ইউনূস শাল্লায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীকে ৬ টুকরো করে হত্যা, আসামি জিতেশের মৃত্যুদন্ড সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে আরও ছয় বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু চারলেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ সংস্কৃতি চর্চায় সুনামগঞ্জে ইনস্টিটিউট করা হবে : এমপি কয়ছর আহমদ সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের চেক বিতরণ জামালগঞ্জে নজরুল বর্ষের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ১১৭ শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান ‎জামালগঞ্জে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত, র‍্যালি ও মহড়া ইউপি নির্বাচন ৫ ধাপে, প্রথম ধাপের ভোট ২১ জানুয়ারি ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব : প্রধানমন্ত্রী একটি সেতুর অভাবে পাঁচ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে ধর্মপাশায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য কাজলের রহস্যজনক মৃত্যু, সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু, নতুন করে ভাতা পাবেন ৪০ লাখ নারী

খাসিয়ামারা নদীর ভাঙন রোধে জরুরি ও স্থায়ী উদ্যোগ প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০১:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০১:৩৬:১৪ পূর্বাহ্ন
খাসিয়ামারা নদীর ভাঙন রোধে জরুরি ও স্থায়ী উদ্যোগ প্রয়োজন
দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের টেংরাটিলা উত্তর-পশ্চিম, আলীপুর ও টিলাগাঁও গ্রামে খাসিয়ামারা নদীর ভয়াবহ ভাঙন নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ অবকাঠামো। শতাধিক পরিবার আজ নিজ ভিটেমাটি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। এটি শুধু একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; সময়মতো কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলেও এই সংকট দীর্ঘদিন ধরে প্রকট আকার ধারণ করেছে। নদীভাঙন বাংলাদেশের একটি চিরায়ত সমস্যা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের ছোট-বড় নদীগুলোতে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, ফলে নদীতীর ভাঙনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। খাসিয়ামারা নদীর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে ভাঙন চললেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে প্রতিবছর নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। ভিটেমাটি হারানো মানে শুধু একটি জমির টুকরো হারানো নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবিকা, স্মৃতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ। কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গেলে খাদ্য উৎপাদন কমে, পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং অনেকেই বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়। তাই নদীভাঙনকে শুধু অবকাঠামোগত সমস্যা হিসেবে নয়, একটি মানবিক ও সামাজিক সংকট হিসেবেও বিবেচনা করতে হবে। এ অবস্থায় জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিওব্যাগ ও ব্লক ফেলার মতো অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নদীতীর সংরক্ষণে টেকসই বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত জরিপ স¤পন্ন করে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাসিয়ামারা নদীর ভাঙন রোধে আর বিলম্বের সুযোগ নেই। প্রতিদিনের ভাঙন মানেই নতুন করে মানুষের স্বপ্ন ও জীবিকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়া। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যদি এখনই কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে, তবে তিনটি গ্রামসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা রক্ষা করা সম্ভব হবে। আমরা আশা করি, কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং নদীভাঙনে অসহায় মানুষের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বহিরাগতদের উপদ্রব

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বহিরাগতদের উপদ্রব