সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

পথে যেতে যেতে: পথচারী

  • আপলোড সময় : ২১-০৭-২০২৬ ১০:২৯:১৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৭-২০২৬ ১০:২৯:১৪ পূর্বাহ্ন
পথে যেতে যেতে: পথচারী
সিলেটের মাটি হযরত শাহজালালের (র.) মাটি, সিলেটের মাটি হযরত শাহপরাণের (র.) মাটি। এ মাটিতে জন্ম নিয়েছেন কত হাজার-লক্ষ কোটি গুণী মানুষ। তারা সিলেটকে জনপ্রিয় করেছেন বিশ্বের দরবারে। তাদেরই একজন হচ্ছেন হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী। ১০ জুলাই ছিল তাঁর মৃত্যুদিবস। এ প্রজন্মের মানুষ তাঁকে চেনার কথাই নয়। কিন্তু, তাঁকে তো আমাদের ভুলে গেছে চলবে না। কেননা তাঁদের ত্যাগ, তিতিক্ষা, সাধনা আমাদের সামনে চলার পথ দেখাবে। হুমায়ূন রশীদ চৌধুরীর জন্ম ১৯২৮ সালের ১১ নভেম্বর সিলেট শহরের দরগা গেইটস্থ রশিদ মঞ্জিলে। পিতা আব্দুর রশীদ চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় বিধান সভার সদস্য এবং মাতা সিরাজুন নেছা চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য। বরেণ্য পিতামাতার সন্তান হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী। তিনি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। একাধারে তিনি ছিলেন কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের জনপ্রতিনিধি। সিলেটের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। সিলেটের প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরকারি আলীয়া মাদ্রাসার হাই মাদ্রাসা সেকশনে প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ করেন। এরপর আসামে মাধ্যমিক শিক্ষাগ্রহণ করেন। ১৯৪৪ সালে ৮টি ক্রেডিটসহ সিনিয়র ক্যামপ্রাজ পাস করে ১৯৪৭ সালে ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞান, রসায়ন ও ভূগোল বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান যুক্তরাজ্যে। সেখানে তিনি ইংলিশ বার-এ আইনশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। মোটকথা অধ্যয়নে মি. রশীদ চৌধুরী মোটেও থেমে থাকেন নি। তাঁর অদম্য আগ্রহ পড়াশোনা আর পড়াশোনা। তাই এক বন্ধুর পরামর্শে ভর্তি হন লন্ডনস্থ ইনার টেম্পোলে। সেখানে তিনি সদস্য হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কঠিন অধ্যবসায়ে তিনি ডুবে থাকতেন দিনরাত্রির অধিকাংশ সময়। এক পর্যায়ে লন্ডন ইন্সটিটিউট অব ওয়ার্ল্ড থেকে ইন্টারনার এফেয়ার্স বিষয়ে ডিপ্লেমা লাভ করেন। ১৯৫১ সালে তিনি যুক্তরাজ্যস্থ পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। যেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ভাবতে থাকেন রাজনীতি নিয়ে। যে রাজনীতি হবে দেশের স্বার্থে। সাধারণ মানুষ বঞ্চনার শিকার যাতে না হয় সে চিন্তা মাথায় রাখতেন। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। এবার তিনি নতুন ভাবনা নিয়ে এগোতে থাকেন। শুরু করেন কর্মজীবন। যোগ দেন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে। চাকুরি জীবনে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্থান হচ্ছে ‘ফরেন সার্ভিস’। সেখানেও পড়াশোনা। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাসাচুসেটস্থ টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্লেচার স্কুল অব ল’ এন্ড ডিপ্লোমেসী থেকে পুনরায় গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা অসাধারণ। এ সময় কূটনৈতিক অঙ্গনে ঐতিহাসিক অবদান রাখেন। ১৯৭১-৭২ সালে নতুন দিল্লীস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অন্যান্য অনেক দায়িত্ব পালনের সাথে তিনিও একজন অংশীদার। সবারই ধারণা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পূর্বেই ভুটান ও ভারতের বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান তারই অবদান। এ সময় ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে যে ভাষণ দেন তা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাঁর এই ভাষণ এ জন্য বিরল ঘটনা যে, প্রধানত কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাই এ ধরনের ভাষণ দিয়ে থাকেন। দেশ স্বাধীন হলে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন জার্মানীতে। নতুন দায়িত্ব পেয়ে সুইজারল্যান্ড, অষ্ট্রিয়া এবং হলিসীর রাষ্ট্রদূত হিসাবে অরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশ গঠনেও ভূমিকা পালন করেন। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। সৌদি আরবেও রাষ্ট্রদূত নিযুক্তকালীন পাশাপাশি জর্ডান, ওমান এবং ইয়েমেনেও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। এমনই বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী জনাব হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী। ২০০১ সালের ১০ জুলাই এই অসামান্য প্রতিভার লোকটি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। আমরা তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স