সরকারি জমি দখলমুক্ত হোক
- আপলোড সময় : ২২-০৭-২০২৬ ০৮:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-০৭-২০২৬ ০৮:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধিগ্রহণকৃত সরকারি জমির অবৈধ দখল সংক্রান্ত তালিকা সাত কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের জন্য চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। সরকারি সম্পত্তি রক্ষা কেবল রাষ্ট্রীয় স¤পদ সংরক্ষণের বিষয় নয়; এটি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বজায় রাখা এবং জনস্বার্থ নিশ্চিত করারও পূর্বশর্ত।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি জমি দখলের প্রবণতা একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান। বিশেষ করে সড়কের পাশের জমিগুলোর বাণিজ্যিক মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংঘবদ্ধ চক্র নানা কৌশলে এসব জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা ব্যক্তিগত মালিকানার দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে দেওয়ানি মামলা, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা প্রশাসনিক জটিলতার সুযোগ নিয়ে বছরের পর বছর সরকারি স¤পত্তি অবৈধভাবে ভোগদখলে রাখা হয়। এর ফলে সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটে, ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সুনামগঞ্জ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনায় ¯পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করা, দখলে রাখা কিংবা দখলের চেষ্টা করা একটি ফৌজদারি অপরাধ। এই আইন প্রয়োগের মাধ্যমে দখলদারদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ সবসময় নিশ্চিত হয় না। ফলে দখলদাররা অনেক সময় আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
সওজ বিভাগের কাছে অবৈধ দখলকৃত জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাওয়া নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে কেবল তালিকা প্রস্তুত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন তালিকা যাচাই, দখলদারদের শনাক্তকরণ, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধার হওয়া জমি পুনরায় দখলমুক্ত রাখার কার্যকর ব্যবস্থা। অতীতে অনেক সময় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পর কিছুদিনের মধ্যেই একই জমি আবারও দখল হয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে। এই চক্র ভাঙতে হলে নিয়মিত নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বদলি বা প্রশাসনিক জটিলতার অজুহাতে সরকারি স¤পত্তি রক্ষার দায়িত্ব থেকে সরে আসার সুযোগ নেই। প্রতিটি দপ্তরে সরকারি জমির ডিজিটাল রেকর্ড, মানচিত্র ও দখল পরিস্থিতির হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণ এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর পর্যালোচনার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, ভূমি বিভাগ, সওজ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
সরকারি জমি জনগণের সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব। যারা সরকারি জমি দখল করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে, তারা শুধু আইন ভঙ্গই করে না, বরং জনগণের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎকেও বাধাগ্রস্ত করে। তাই প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে সকল অবৈধ দখলদারের বিরুদ্ধে সমানভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে।
আমরা আশা করি, আদালতের এই নির্দেশ কেবল একটি প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি সুনামগঞ্জে সরকারি জমি উদ্ধারে একটি কার্যকর অভিযানের সূচনা করবে। তালিকা প্রণয়ন, দখলমুক্তকরণ, আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং উদ্ধারকৃত জমির স্থায়ী সংরক্ষণ - এই চারটি ধাপ সমান গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়িত হলেই সরকারি সম্পত্তির নিরঙ্কুশ মালিকানা নিশ্চিত হবে এবং জনস্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়