বিশেষ প্রতিনিধি::
তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চারাগাঁও গ্রামের আছিয়া বেগম (৫৫) জীবনের শেষ বয়সে এসে হারিয়েছেন মাথা গোঁজার একমাত্র আশ্রয়টুকু। সাম্প্রতিক পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে তাঁর বসতঘর। এখন মেয়ের বাড়িতে আশ্রিত হয়ে কাটছে দিন। নিজের ভিটায় পড়ে আছে শুধু ভাঙা ঘরের ধ্বংসস্তূপ, আর সেই ধ্বংসস্তূপের দিকে তাকালেই অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আছিয়া বেগমের দুই ছেলে আলাদা সংসার নিয়ে ব্যস্ত। তারা মায়ের খোঁজখবরও তেমন নেন না। ১৪ বছর বয়সী ছোট ছেলেকে নিয়েই জীবনের কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু পাহাড়ি ঢল তাঁর সেই শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নিয়েছে। নিজের কোনো আশ্রয় না থাকায় বাধ্য হয়ে মেয়ের বাড়িতে উঠেছেন। আছিয়া বেগম বলেন, চোখের সামনে পানির তোড়ে ঘরটি ভেঙে যেতে দেখেও কিছুই করার ছিল না। দীর্ঘদিনের কষ্টে গড়ে তোলা ঘর হারিয়ে এখন কোথায় থাকবেন, কীভাবে আবার নতুন করে ঘর তুলবেন সেই দুশ্চিন্তাই তাঁকে প্রতিনিয়ত তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। মেয়ে সাবানা আক্তার বলেন, সংসারের সীমিত সামর্থ্যে মাকে আশ্রয় দিলেও স্থায়ীভাবে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন করে একটি ঘর নির্মাণের মতো আর্থিক সক্ষমতা তাঁদের নেই। দিনমজুরের সামান্য আয় এবং পাহাড়ি ঢলে ভেসে আসা বাংলা কয়লা কুড়িয়ে বিক্রির টাকায় কোনোমতে চলত আছিয়া বেগমের সংসার। যেখানে প্রতিদিন দুবেলা খাবারের সংস্থান করাই কঠিন, সেখানে নতুন করে বসতঘর নির্মাণ তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো। প্রতিবেশীরা জানান, আছিয়া বেগমের মতো সীমান্ত এলাকার অনেক পরিবারই পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে বয়স, দারিদ্র্য ও পারিবারিক অসহায়ত্বের কারণে আছিয়ার দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। তাঁরা দ্রুত সরকারি সহায়তায় তাঁর জন্য একটি নিরাপদ বসতঘর নির্মাণের দাবি জানান। আছিয়া বেগম বলেন, চোখের সামনে আমার ঘরটা পানির স্রোতে ভেঙে ভেসে গেল। কিছুই করতে পারিনি। এখন মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। নিজের একটা ঘর ছিল, সেটাও আর নেই। নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য আমার নেই। সরকার বা কোনো দয়ালু মানুষ যদি একটু সাহায্য করতেন, তাহলে শেষ বয়সে মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই পেতাম।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
পাহাড়ি ঢলে ভেঙেছে আছিয়ার শেষ আশ্রয়, অনিশ্চয়তায় জীবন
- আপলোড সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ১০:০৫:০৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ১০:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি