স্টাফ রিপোর্টার::
সুনামগঞ্জ শহরে জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনা ও নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নাগরিক সংগঠন সুনামগঞ্জ জনউদ্যোগ শহরের আলফাত স্কয়ারে এই সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক মতিউর রহমান খানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। একই দাবিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের কাছেও স্মারকলিপির অনুলিপি প্রদান করা হয়। সমাবেশে স্বাগত বক্তব্যে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, জেলা সদর একটি জেলার আয়না হলেও সুনামগঞ্জ শহর বর্তমানে জঞ্জাল ও জলাবদ্ধতায় জর্জরিত একটি অপরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মাণ, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার না করা এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে শহরের খাল দখল ও ভরাটের কারণে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। হাওর বাঁচাও আন্দোলন জেলা কমিিিটর সভাপতি ইয়াকুব বখত বলেন, শহরের ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। উকিলপাড়া, ষোলঘর, পূর্ব বাজার, আলফাত স্কয়ার থেকে জেল রোড পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া শহরের ড্রেনগুলো ময়লা-আবর্জনায় ভরে গিয়ে বর্জ্য নিষ্কাশনের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে ড্রেনের নোংরা পানি উপচে সড়কে ছড়িয়ে পড়ছে। সুরমা নদীর তীরজুড়ে আবর্জনা ও পলিথিনের স্তূপ এবং সদর হাসপাতাল এলাকায় জমে থাকা বর্জ্য জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিজন সেন রায় বলেন, শহরের কাজীর পয়েন্ট, ষোলঘর, বনানীপাড়া, বিলপাড়, জামাইপাড়া, পশ্চিম তেঘরিয়া, ওয়েজখালি, মল্লিকপুর ও নতুন হাছননগরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সেখানে পানি জমে যান ও পথচারীদের চলাচলে বিঘœ ঘটে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সংগঠনের আহ্বায়ক সুখেন্দু সেন বলেন, সুনামগঞ্জ ভৌগোলিকভাবে বৃষ্টি ও বন্যা প্রবণ এলাকা হওয়া সত্ত্বেও জলাবদ্ধতা নিরসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি কোনো পরিকল্পনা চোখে পড়ছে না। শহরের বুক চিরে প্রবাহিত পাঁচটি খাল দখল ও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দখলমুক্ত করা কিছু খালও পুনরায় দখলের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণ, ভবন নির্মাণে নীতিমালা না মানা, ড্রেনে সেফটি ট্যাংকের সংযোগ দেওয়া এবং বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান না থাকাও নগর সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি পৌরসভার পাশাপাশি নাগরিকদের নিজেদের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সমাবেশে বক্তব্য দেন জনউদ্যোগের সদস্য শামস শামীম, সনাক সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম মজনু এবং হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনসহ অন্যরা। এছাড়াও স্মারকলিপিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শহরের খাল উদ্ধার, সংস্কার ও সচল করা, ভাঙাচোরা সড়ক দ্রুত সংস্কার, জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে নতুন ড্রেন নির্মাণ ও পুরোনো ড্রেন সংস্কার এবং নিয়মিত পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা, রাস্তা উঁচু করার ফলে সৃষ্ট নতুন জলাবদ্ধতা দূর করতে পানি প্রবাহের ভারসাম্য রক্ষা, ভবন নির্মাণের নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য রাখার বিন স্থাপন ও নিয়মিত অপসারণ, নাগরিকদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতন করতে প্রচারণা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, সড়কবাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার এবং পৌর এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
নাগরিক সমাবেশ
শহরে জলাবদ্ধতাসহ নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনের দাবি
- আপলোড সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ১১:৩৩:০৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-০৭-২০২৬ ১১:৫১:৫৯ অপরাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ