স্টাফ রিপোর্টার ::
ধর্মপাশায় জলমহাল জবরদখলের অভিযোগ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করায় জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ও যুবদল নেতা জহিরুল হক হীরাকে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ বলে কটাক্ষের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে উপজেলা বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে জলমহাল দখল, মাছ লুটপাট এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্প স্বাক্ষর নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। রবিবার (২৬ জুলাই) বেলা ৩টায় শহরের মুক্তারপাড়াস্থ সুনামকণ্ঠ কনফারেন্স হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বর্তমানে ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাহাটি ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য জহিরুল হক হীরা। লিখিত বক্তব্যে জহিরুল হক হীরা বলেন, গত ২৪ জুলাই শুক্রবার সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবে ডুবাইল বিল দখলের পাঁয়তারার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্য ও সাবেক সভাপতি মালেক সিকদার। তিনি পড়ালেখা না জানায় একজন রাজপথের কর্মী হিসেবে মানবিক কারণে আমি তাঁর লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শুনিয়েছিলাম। কিন্তু এর জের ধরে গত ২৫ জুলাই ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নূরুল ইসলাম (বিএসসি) ও সুখাইড় রাজাপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালাউদ্দিন মাহতাবের নেতৃত্বে কিছু নেতা সংবাদ সম্মেলন করে আমাকে ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর’ ও ‘বহিরাগত’ বলে অপপ্রচার চালান। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমি ধর্মপাশা উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং দলের দুর্দিনে দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। অথচ আমার বিরুদ্ধে কথা বলা নেতাদের অনেকেই অতীতে আওয়ামী লীগ ও বিকল্পধারার সুবিধাবাদী রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং আ.লীগ নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, জলমহাল দখলের ঘটনা ধামাচাপা দিতেই মূলত প্রতিপক্ষরা হীরাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ২১ জুলাই মো. নুরুল ইসলাম বিএসসি ও সালাউদ্দিন মাহতাবের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি দল দুটি নৌযান নিয়ে অবৈধভাবে ডুবাইল বিলে প্রবেশ করে হামলা চালায়। তারা পাহাদারদের মারধর, নৌকা ভাঙচুর ও মাছ লুটপাটসহ ইজারাদারদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। হুমকির মুখে সমিতির বৈধ সদস্য মালেক সিকদার দীর্ঘদিন ধরে গ্রাম ছেড়ে সুনামগঞ্জ জেলা শহরে আত্মগোপনে রয়েছেন। এর আগে তিনি গত ১৯ জুলাই বিচার ও নিরাপত্তা চেয়ে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। হীরা আরও জানান, গত ৮ জুন ডুবাইল বিলের বাৎসরিক ৬২ লাখ টাকার খাজনার চালান নিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ফেরার পথে আব্দুজ জহুর সেতুর কাছে প্রতিপক্ষের কামরুল হাসান চৌধুরী, আশিক খান, পলাশ ও মিলনসহ কয়েকজন তার গতিরোধ করে। তারা হত্যার ভয় দেখিয়ে ১০০ টাকা মূল্যমানের ৩টি নন-জুডিসিয়াল খালি স্ট্যা¤েপ জোরপূর্বক তার স্বাক্ষর নেয়। বর্তমানে এই চক্রটি স্ট্যা¤পগুলো দিয়ে বড় ধরনের ক্ষতির ষড়যন্ত্র করছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। উল্লেখ্য, উক্ত জলমহালে অনধিকার প্রবেশ ও মাছ চুরির ঘটনায় আগে থেকে ধর্মপাশা থানায় একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে (মামলা নং-০৩, তারিখ: ০৩/০১/২০২৫)। সংবাদ সম্মেলন থেকে বলা হয়, চিহ্নিত চক্রটির অপকর্মের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীরা জীবিকা হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ অবস্থায় জলমহালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ছিনতাই হওয়া স্ট্যা¤প উদ্ধার এবং প্রকৃত মৎস্যজীবীদের সুরক্ষায় প্রশাসনের সর্বাত্মক ও দ্রুত আইনানুগ হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জয়ধনা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি কামাল মিয়া, সিনিয়র সহ-সভাপতি ইদ্রিস মিয়া, সাধারণ স¤পাদক উসমান মিয়া, সদস্য মালেক শিকদার, মোহন মিয়া, আব্দুল মতিন, ফেন মিয়া, আলকাস মিয়া, মোর্শেদ মিয়া ও মোবারক শিকদারসহ সমিতির সাধারণ সদস্যরা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
যুবদল নেতাকে কটাক্ষের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
- আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০৯:৩৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০৯:৫৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ