সুনামগঞ্জ , রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ , ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯ মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা তাহিরপুরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ “আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউএনও” ফেসবুকে সহকারী কমিশনারের পোস্ট, পরে হাসপাতালে ভর্তি আমন চাষে খরচের বোঝা, লাভ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক চিকিৎসক সংকটে নাজুক সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা, ৩৭১ পদের বিপরীতে কর্মরত ১১২ জন সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার প্রস্তুতি, প্রতিমা ও প্রসদসামগ্রী কিনতে ব্যস্ত ভক্তরা জগন্নাথপুরে বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইকে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার শীতের সবজির নতুন চালানে কাঁচাবাজারে স্বস্তি, তবে অসন্তোষ শিম-টমেটোর দামে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে বিশ্ব, মুনাফায় কারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই : তথ্যমন্ত্রী জাউয়াবাজারে ১৩০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার শাল্লায় ফেসবুকে চিরকুট লিখে যুবকের মৃত্যু ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস হাইকমিশনারের দিল্লিতে যোগাযোগ করে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি : গোলাম পরওয়ার দিরাইয়ে সাংবাদিক হত্যাও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে স্বাধীন-শ্রীমতি দম্পতির জীবনযুদ্ধ: পাশে দাঁড়াচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর মোল্লাপাড়ায় প্রবাসীর বাড়ির ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ এক মাঠেই ৫২ জাতের ধান, সেরা জাত বাছাইয়ের সুযোগ কৃষকের দেশে সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি
আফালের তান্ডবে বিপর্যস্ত বাহাদুরপুরবাসীর আকুতি

“ত্রাণ চাই না, বসতভিটা রক্ষায় স্থায়ী সমাধান চাই”

  • আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০৯:৪৩:০৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০৯:৪৩:৪৭ পূর্বাহ্ন
“ত্রাণ চাই না, বসতভিটা রক্ষায় স্থায়ী সমাধান চাই”
বিশেষ প্রতিনিধি::
“ত্রাণ চাই না, চিড়া-মুড়ি চাই না। বসতভিটা রক্ষায় স্থায়ী সমাধান চাই। সরকারের কাছে আর কিছু চাই না। বাচ্চাকাচ্চা নিয়া বাঁচতে চাই। কত কষ্ট কইরা ঘর বানাই। আফালের ঢেউ আইয়া সব ভাইঙা নিয়া যায়। বাঁশ দিয়া, বস্তা দিয়া কত চেষ্টা করি, তবু আটকাইতাম পারি না।” কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা হিমানি রানী বর্মণ। তার এই আকুতি শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং করচার হাওরপাড়ে বসবাসকারী শত শত মানুষের দীর্ঘদিনের বেদনার প্রতিধ্বনি। বর্ষা শুরু হলেই হাওরের মানুষের জীবনে ফিরে আসে স্থানীয়দের কাছে পরিচিত এক আতঙ্ক ‘আফাল’। হাওরের উত্তাল ঢেউকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘আফাল’। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল, প্রবল বাতাস ও বিশাল জলরাশির প্রভাবে সৃষ্ট এই ঢেউ মুহূর্তেই ভেঙে দেয় বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি। চলতি বর্ষায় সেই আফালের সবচেয়ে নির্মম রূপ দেখা যাচ্ছে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরপাড়ের বাহাদুরপুর গ্রামে। ইতোমধ্যে অন্তত ২০-২৫টি ঘরবাড়ি হাওরের পানিতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অনেক বসতভিটা। জানা যায়, করচার হাওরের তীরঘেঁষে গড়ে ওঠা বাহাদুরপুর গ্রামের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা মাছ ধরা ও হাওরকেন্দ্রিক চাষাবাদ। গত এক দশকে পাহাড়ি ঢল ও আফালের আঘাতে গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা হাওরগর্ভে বিলীন হয়েছে। অনেক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে সিলেট, ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। যারা এখনও গ্রামে আছেন, তারা প্রতিদিন ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। দিন-রাত অবিরাম আছড়ে পড়া ঢেউ ঠেকাতে গ্রামের মানুষ নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাঁশ, বালুর বস্তা ও কচুরিপানা দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রকৃতির প্রবল শক্তির সামনে সেই চেষ্টা বেশিক্ষণ টেকে না। এক রাতের ভাঙনেই বিলীন হয়ে যায় একটি পরিবারের আজীবনের সঞ্চয়। বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা সবুজ বর্মণ বলেন, আগে এই গ্রামে আরও অনেক ঘর ছিল। আফালের ভাঙনে একে একে সব শেষ হয়ে গেছে। অনেকে ভিটেমাটি হারিয়ে ঢাকা, সিলেটসহ বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছেন। আমরা এখনও আছি, কিন্তু আর কতদিন টিকতে পারব জানি না। সুপ্রভা বর্মণ নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, বর্ষা এলেই আমাদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে যায়। ঘরে ঘুমাই না, কখন ঢেউ এসে ঘর ভেঙে নিয়ে যায় সেই ভয়ে জেগে থাকি। অনেক কষ্ট করে ঘর বানাই, কিন্তু এক রাতের আফাল সব শেষ করে দেয়। গ্রামবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর একই দুর্ভোগের মুখোমুখি হলেও ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভাঙনের পর সাময়িক ত্রাণসামগ্রী মিললেও সমস্যার মূল সমাধান হয় না। তাই প্রতি বর্ষায় নতুন করে শুরু হয় বসতভিটা হারানোর আতঙ্ক। তাদের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ হাওরপাড়ে দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ বা ওয়েভ প্রটেকশন ওয়াল নির্মাণ, তীর সংরক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় আফালের তা-বে এভাবেই হারিয়ে যাবে আরও অসংখ্য বসতভিটা, আর বাড়বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি টিন বরাদ্দ রয়েছে। আবেদন পেলে যাচাই-বাছাই শেষে তা বিতরণ করা হবে। এছাড়া আফাল ও নদীভাঙন থেকে বসতভিটা রক্ষায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
“আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউএনও” ফেসবুকে সহকারী কমিশনারের পোস্ট, পরে হাসপাতালে ভর্তি

“আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউএনও” ফেসবুকে সহকারী কমিশনারের পোস্ট, পরে হাসপাতালে ভর্তি