যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ঘাঁটিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, ২০০ সেনা নিহতের দাবি
- আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০৯:৫৪:৪০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-০৭-২০২৬ ০৯:৫৪:৪০ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা তথা নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে মতানৈক্যের জেরে চলতি মাসে ফের সংঘাতে জড়ায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে উল্লিখিত যুদ্ধবিরতি আর কার্যকর নেই গত ৮ জুলাই ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা¤প।
এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। এই হামলার জবাব দিতে নতুন নামকরণ করে ইরান। ‘অপারেশন নাসর-২’ নামে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১৫ দিনের পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
তবে, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত আইআরজিসির এসব দাবি নিশ্চিত করেনি এবং এ ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি।
শনিবার (২৫ জুলাই) তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে ব্যবহৃত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করেই এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মোহেবির দাবি, ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রচুর সামরিক স¤পদ ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে আছে- ১১টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার, ১৭টি নজরদারি ও অপারেশনাল ড্রোন, ৮টি আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাংকার বিমান, ৪টি ভারী সামরিক হেলিকপ্টার, শক্তিশালী হ্যাঙ্গারে থাকা একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান, একটি পি-৮ পোসেইডন সামুদ্রিক টহল বিমান, একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার সামরিক পরিবহন বিমান, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, হামলায় ধ্বংস হয়েছে- ৭টি কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, ৬টি প্যাট্রিয়ট রাডার ইউনিট, ৮টি আগাম সতর্কীকরণ রাডার, ৭টি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র রাডার, ৫টি দূরপাল্লার রাডার স্থাপনা, ৫টি এফপিএস ও এফপিএস-১১৭ রাডার, ৩টি আকাশ ও সামুদ্রিক নজরদারি রাডার, ৩টি স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা।
মোহেবির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের হামলায় আরও ধ্বংস হয়েছে-৬টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের হ্যাঙ্গার, ৫টি যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, ৪টি সুরক্ষিত বিমান আশ্রয়কেন্দ্র, একটি এফ-১৫ প্রস্তুতি হ্যাঙ্গার, ৮টি ড্রোনসহ একটি ড্রোন হ্যাঙ্গার, একটি পি-৮ পোসেইডন বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, ৬টি বিমান পার্কিং ও ফ্লাইট র্যা¤প, ৪টি হিমার্স রকেট লঞ্চার, ৪টি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এ ছাড়া ১৭টি অস্ত্রভা-ার, বিমান যন্ত্রাংশ, নৌ সরঞ্জাম, ১২টি জ্বালানি ট্যাংক, একটি জ্বালানি ডক, একটি বিমানবাহী রণতরির জ্বালানি সরবরাহ প্ল্যাটফর্ম, ৬টি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র বাঙ্কার, ৬টি বিমান রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্র, দুটি সিগন্যাল গোয়েন্দা যোগাযোগ কেন্দ্র, একটি ডেটা ইন্টেলিজেন্স হাব, একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রসেসিং সেন্টার, একটি অ্যামাজন ডেটা নোড এবং একটি চালকবিহীন নৌযান সংরক্ষণাগার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।
মোহেবি যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত হতাহতের তথ্যকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন। তার দাবি, অপারেশন নাসর-২ চলাকালে ইরান ৮টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায়, যার মধ্যে একটি ঘাঁটির ২০টি হ্যাঙ্গার ধ্বংস করা হয়।
আইআরজিসির দাবি, এই অভিযানে ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এছাড়া আহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি।
তিনি ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত চিত্র যাচাই করতে মার্কিন সরকারকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের জন্য লক্ষ্যবস্তু হওয়া ঘাঁটিগুলো খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও অর্থনৈতিক স্থাপনাগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়েছে। তেহরানের ভাষ্য, অপারেশন নাসর-২ ছিল সেই অবকাঠামোর বিরুদ্ধে পরিচালিত একটি প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক