নিম্নমানের নির্মাণের দায় জনগণ কেন বহন করবে?
- আপলোড সময় : ২৮-০৭-২০২৬ ১০:২৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৮-০৭-২০২৬ ১০:২৬:৫৬ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আটটি খাদ্যগুদামের ছাদ নির্মাণের মাত্র ছয় বছরের মাথায় নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঘটনা শুধু একটি নির্মাণ প্রকল্পের ব্যর্থতা নয়; এটি সরকারি অর্থের অপচয়, দুর্বল তদারকি এবং জবাবদিহিতাহীনতার এক উদ্বেগজনক চিত্র। যে খাদ্যগুদামগুলো দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে নির্মিত হয়েছিল, সেগুলোতেই আজ বৃষ্টির পানি চুইয়ে ধান-চাল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর চেয়েও উদ্বেগের বিষয়, এখন এসব গুদাম সংস্কারে আবারও কোটি কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে, যার বোঝা শেষ পর্যন্ত জনগণের কাঁধেই পড়বে।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে নি¤œমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, কাজের মান বজায় না রাখা এবং তদারকির ঘাটতির অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু একটি প্রকল্প নির্মাণের পর অল্প সময়ের মধ্যেই যদি তার মৌলিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার, প্রকৌশলী, তদারককারী কর্মকর্তা এবং কাজ গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ - সবার ভূমিকা খতিয়ে দেখা অপরিহার্য। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় যদি অনিয়ম হয়ে থাকে, তবে তা কেন তখন ধরা পড়েনি? আর ধরা পড়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন - এই প্রশ্নের উত্তর জনগণ জানতে চায়।
খাদ্যগুদাম কেবল একটি ভবন নয়; এটি জাতীয় খাদ্য মজুত ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে সংরক্ষিত খাদ্যশস্য নষ্ট হলে শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, খাদ্যনিরাপত্তার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই গুদামের ছাদ দিয়ে পানি চুইয়ে পড়ার বিষয়টি কোনোভাবেই সাধারণ অবকাঠামোগত ত্রুটি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি রাষ্ট্রীয় স¤পদের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন।
বর্তমানে ছাদ সংস্কারের উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও সেটিই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। প্রথমত, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে নির্মাণ ত্রুটির প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যারা নিুমানের কাজ করেছে বা দায়িত্বে অবহেলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং সম্ভব হলে ক্ষতিপূরণের অর্থ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বা দায়ীদের কাছ থেকেই আদায়ের উদ্যোগ নিতে হবে। তৃতীয়ত, ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্পে তদারকি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে এবং প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
উন্নয়ন প্রকল্পের সফলতা শুধু উদ্বোধনের মাধ্যমে নয়, তার দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতার মাধ্যমে মূল্যায়িত হয়। জনগণের করের টাকায় নির্মিত অবকাঠামো যদি কয়েক বছরের মধ্যেই অকার্যকর হয়ে পড়ে, তবে তা উন্নয়নের সাফল্য নয়; বরং পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের দুর্বলতার প্রতিফলন।
সুনামগঞ্জের খাদ্যগুদামের এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু সংস্কার নয়, অনিয়মের বিচার এবং ভবিষ্যতে এমন অপচয় রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণই হতে পারে জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের প্রকৃত দায়বদ্ধতার প্রমাণ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়