নদীপথে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে জামালগঞ্জে মানববন্ধন, বিক্ষোভ
- আপলোড সময় : ৩১-০৭-২০২৬ ০৯:৪০:৩৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩১-০৭-২০২৬ ০৯:৪০:৩৭ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
জামালগঞ্জ উপজেলার লালপুর, সুরমা ও পাটলাই নদীপথে বিআইডব্লিউটিএ এবং টোল-ট্যাক্সের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল এবং অনির্দিষ্টকালের নৌধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছেন নৌযান মালিক ও শ্রমিকরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজারসংলগ্ন সুরমা নদীর তীরে নৌযান মালিক ও শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সহ¯্রাধিক শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
এদিকে একই দাবিতে গত ২৫ জুলাই থেকে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার যাদুকাটা, মিয়ারচর ও পাঠানপাড়া স্টোন ক্রাশার মালিক-শ্রমিক সমিতিও সুরমা নদীতে সকল ধরনের মালামাল লোড-আনলোড ও নৌযান চলাচল বন্ধ রেখে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকারি গেজেট অনুযায়ী বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। পাটলাই, লালপুর ও সুরমা নদীপথে প্রতি ঘনফুট পাথরের জন্য নির্ধারিত ৫০ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং বিভিন্ন স্থানে টোল ও অন্যান্য খাতের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। একইভাবে যাদুকাটা নদীর ফাজিলপুর এলাকাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে বালু ও পাথর পরিবহনের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, কোনো বৈধ ইজারা ছাড়াই রক্তি নদীর মোহনায় জোরপূর্বক প্রতি ঘনফুটে ২ টাকা এবং খালি নৌকা প্রবেশের ক্ষেত্রেও প্রতি নৌকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এতে নদীপথে পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জামালগঞ্জ উত্তর স্টিলবডি নৌকা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ স¤পাদক কবির মিয়া বলেন, সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত হারে বিআইডব্লিউটিএ ও অন্যান্য ইজারা আদায় করতে হবে। প্রতিটি আদায় কেন্দ্রে সরকারি রেট চার্ট দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখতে হবে এবং আদায়কৃত অর্থের বিপরীতে পাকা রশিদ দিতে হবে। নির্ধারিত স্থান ছাড়া অন্য কোথাও বা চলমান নৌযান থেকে টোল আদায় বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।
আন্দোলনকারীরা জানান, অতিরিক্ত টোল আদায় ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে গত এক মাসে তারা স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের কাছে একাধিকবার স্মারকলিপি ও লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য নৌযান চলাচল এবং মালামাল লোড-আনলোড বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন, লোকমান হোসেন, জয়দর আলী, রহম আলী, হিজবুল্লাহ, আল আমিন, শফিক মিয়া, শফিকুল ইসলাম, রুবেল মিয়া, আমিনুল, রাজন পাল, বেণু পাল, মতিষ পাল, শ্রমিক সর্দার মোহাম্মদ আলী, পিউতোষ, এলো মিয়া, মন্তোষ, বুধুসহ বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী ও নৌশ্রমিক অংশ নেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ