বিশেষ প্রতিনিধি::
ইউরোপ নেওয়ার কথা বলে জাল ভিসা ও জাল ওয়ার্ক পারমিটের কাগজ তৈরি করে সুনামগঞ্জের এক এলাকার ১০ জনের কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে পালিয়ে গেছে এক প্রতারক।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আইনীভাবে উকিল নোটিশ পাঠানোসহ চেক জিঅনার মামলাও করেছেন। ভুক্তভোগীদের অনেকে সুদে ঋণ এনে, জমিজমা বিক্রি করে টাকা দিয়ে এখন নিঃস্ব হয়ে গেছেন। শুধু ইউরোপ নয় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও লোক পাঠানোর নামে ভুয়া ভিসা, বিমান টিকেট ও ওয়ার্ক পারমিটের কাগজ দিয়েও দরিদ্র পরিবারের মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। সচেতনতারঅভাবে যাছাই করতে না পেরে এবং কোন দালিলিক প্রমাণ না রাখায় অনেকে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছেন না। এতে ক্ষতিপূরণ আদায় নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন ভুক্তভোগীরা। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিলেট সদরের রায়নগরের বাসিন্দা মঈনুদ্দিনের ছেলে জাকারিয়া মামুন দীর্ঘদিন ধরে আদম ব্যবসার সাথে জড়িত। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নামে নানা প্রলোভন দিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। সুনামগঞ্জেও তার নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাদের মাধ্যমে জাকারিয়া মামুন নিজে এসে ভুক্তভোগীদের ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর কথা বলে প্রাথমিক চুক্তির ২ থেকে ১৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের শেষদিকে জাকারিয়া মামুন সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের শরিফ উদ্দিন, শান্ত মিয়া, কলাইয়া গ্রামের জামাল হোসেন, আফাজ উদ্দিন, সাদিকুর রহমান, নজরুল মেম্বার, রাবারবাড়ি গ্রামের ফরিদ মিয়া, নীলপুরের আফজাল হোসেন, জানিগাঁও গ্রামের মামুন মিয়াসহ এক এলাকার ১০ জনের কাছ থেকে অন্তত কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের অন্যান্য এলাকা থেকেও আরো একাধিকজনের কাছ থেকে প্রাথমিক চুক্তির টাকা নিয়েছে সে। এভাবে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে দালাল জাকারিয়া মামুন আত্মগোপনে চলে গেছে। ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা নেওয়ার পর সে বিদেশ পাঠাতে কালক্ষেপণ শুরু করে। এতে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে সে একে একে সবাইকে জাল ভিসা, জাল ওয়ার্কপারমিট, জাল টিকেট প্রদান করে। সবকিছু জাল থাকায় ভুক্তভোগীরা এক্সপার্ট দিয়ে চেক করার পর এবং অনেকে বিমানবন্দর থেকে ফেরত আসার পর তারা প্রতারণার বিষয়টি ধরতে পারেন- দালালক্রের দেওয়া ভিসা, টিকেট ও ওয়ার্কপারমিট জাল। গ্রাফিক্স ও এআই প্রযুক্তিতে দক্ষদের দিয়ে এসব ভুয়া কাগজ তৈরি করে তারা। এই প্রতারণার বিষয়টি জানতে পেরে ভুক্তভোগীরা তার কাছে টাকা দাবি করলে সে নানা টালবাহানা শুরু করে। একসময় এলাকা ছেড়ে খুলনা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের একজন ভুক্তভোগী সম্প্রতি জাকারিয়া মামুনকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন। কিন্তু উকিল নোটিশের জবাব না দেওয়ায় তিনি আদালতে চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করেছেন। এরপর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে মামুন। ভুক্তভোগী আফজাল হোসেন বলেন, আমার এলাকার অন্তত ১০ জনের কাছ থেকে কোটি টাকা নিয়েছে মামুন। আমিসহ কয়েকজনকে জাল টিকেট, ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিট দিয়েছে। আমরা যাচাই করে দেখেছি সবগুলো জাল। তারপর তার কাছে টাকা দাবি করলে কালক্ষেপণ শুরু করে। এখন পালিয়ে গেছে। আমরা তার দেখা পাচ্ছিনা। গোবিন্দপুর গ্রামের শরিফ উদ্দিন বলেন, আমরা জমি বিক্রি করে, সুদে টাকা এনে দালালকে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা দিয়েছিলাম। সে আমাদের অনেককে জাল কাগজ দিয়েছে। এখন এটা প্রমাণিত হওয়ার পর আমরা তার কাছে টাকা চাইলে দেই দিচ্ছি বলে পালিয়ে গেছে। আমরা এখন অসহায় অবস্থায় আছি। ঋণ করে টাকা দেওয়ায় পাওনাদারের তাড়ায় আছি। অভিযুক্ত জাকারিয়া মামুনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে ফোন বারবার বন্ধ পাওয়া যায়।
সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ রতন শেখ বলেন, সম্প্রতি সুনামগঞ্জে বিদেশ নেওয়ার নামে প্রতারণার ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশ যেতে হলে স্কিলড হয়ে যেতে হবে। দালালের কথায় বিশ্বাস করে লেনদেন করলে টাকা মার যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই অবশ্যই নানাভাবে যাছাই করা উচিত। নাহলে ভুক্তভোগীরা বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
ইউরোপ পাঠানোর নামে জাল ভিসা, ওয়ার্ক পারমিট ও টিকেট দিয়ে প্রতারণা
কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দালাল চক্র
- আপলোড সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ০৯:৫৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-০৮-২০২৬ ১০:৫৩:১৮ পূর্বাহ্ন
ছবি: জাল ভিসা, ওয়ার্কপারমিট ও টিকেটপ্রাপ্ত ভুক্তভোগী ফরিদ মিয়া
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি