সুনামগঞ্জ , সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন ফারুকীকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফুটবল উৎসব উদ্বোধন প্রকল্পের অপেক্ষায় ভাগাড়ে পরিণত পুরাতন পৌরসভা চত্বর কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন সফর সংক্ষিপ্ত, কূটনৈতিক কর্মসূচি বিস্তৃত: নিউইয়র্কে তারেক রহমান নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি ঢাকা-সিলেট সড়কের ৬ লেনের নির্মাণকাজ শেষ হবে ২৯ সালে : সড়কমন্ত্রী দিরাই সরকারি ডিগ্রি  কলেজে ‎"অধ্যক্ষ বিহীন ১৭ বছর" ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক উন্নয়নে ১৭৪ কোটি টাকার কাজ উদ্বোধন ভিপি জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে মমতাজ বেগম ছাতকে ১৫ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালান পণ্যসহ আটক ১ ডাকসুতে ইতিহাসের বিতর্ক, বাংলাদেশের জন্মপথ কি মুছে ফেলা যায়? ‎তিন সন্তানকে বিষপান করানোর পর বাবারও বিষপান, তাহিরপুরে তিন শিশুর মৃত্যু সংকটে ধুঁকছে সদর হাসপাতাল শহরের পাসপোর্ট অফিস রোড এলাকায় ঘনঘন চুরি বাংলাদেশ হয়ে উঠার ঐতিহাসিক গল্প আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৬৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা ছাতকের চরমহল্লায় মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৯ ওয়ার্ডে ৯ সেলাই মেশিন বিতরণ তাহিরপুরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ‎হ্যান্ডবলে বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন জামালগঞ্জের আলাউদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়

টাঙ্গুয়ার হাওরের বিশ্রাম প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০২:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০২:২৭:৪৫ পূর্বাহ্ন
টাঙ্গুয়ার হাওরের বিশ্রাম প্রয়োজন
টাঙ্গুয়ার হাওর শুধু সুনামগঞ্জের নয়, এটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও জীববৈচিত্র্যের আশ্রয়স্থল। রামসার সাইট হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়া এই হাওর প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। অথচ মানুষের অতিরিক্ত পর্যটন, হাউজবোটের অবাধ চলাচল, বর্জ্য ফেলা ও শব্দদূষণে সেই প্রকৃতিই আজ ক্রমশ বিপন্ন হয়ে উঠছে। সম্প্রতি সংরক্ষিত ও প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন (ইসিএ) এলাকায় অবৈধভাবে প্রবেশ করে পরিবেশ দূষণের দায়ে ছয়টি পর্যটকবাহী হাউজবোটকে ১৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানটি নিঃসন্দেহে প্রয়োজনীয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো- শুধু জরিমানা করে কি টাঙ্গুয়ার হাওরকে রক্ষা করা সম্ভব? উত্তরটি খুব সহজ নয়। কারণ হাওরের ক্ষতি কেবল আইন ভঙ্গের ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিদিন অসংখ্য পর্যটক, হাউজবোট, প্লাস্টিক বর্জ্য, খাবারের উচ্ছিষ্ট, পয়োনিষ্কাশনের বর্জ্য ও উচ্চ শব্দের চাপ পড়ছে এর জলজ ও স্থলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর। মানুষের বিনোদনের জায়গা হিসেবে হাওরকে যত বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে, প্রকৃতির স্বাভাবিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ ততই কমে যাচ্ছে। তাই এখন টাঙ্গুয়ার হাওরের জন্য সবচেয়ে জরুরি হতে পারে ‘বিশ্রাম’। প্রকৃতিকে সব সময় মানুষের পাহারায় রাখতে হয় না। বরং অনেক সময় প্রকৃতিকে মানুষের হাত থেকে কিছুটা দূরে রাখাই সবচেয়ে কার্যকর সংরক্ষণ। টাঙ্গুয়ার হাওরকে যদি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যটন ও হাউজবোটের চাপ থেকে মুক্ত রাখা যায়, তাহলে প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মে অনেক ক্ষতই সারিয়ে তুলতে পারে। মাছের প্রজনন, জলজ উদ্ভিদের পুনরুদ্ধার, পাখির নিরাপদ বিচরণ এবং পানির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারে হাওর নিজেই। তাই টাঙ্গুয়ার হাওরকে কেবল পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে দেখার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এটি একটি জীবন্ত প্রতিবেশব্যবস্থা। এখানে মানুষের আনন্দের চেয়ে প্রকৃতির অস্তিত্বের গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রয়োজনে পর্যটনের জন্য মৌসুমি বিরতি, নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা, হাউজবোটের সংখ্যা সীমিত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাধ্যতামূলক করা এবং সংরক্ষিত এলাকায় কঠোর নজরদারি চালু করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে স¤পৃক্ত করে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযানকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে অভিযান যেন কেবল জরিমানা আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। টাঙ্গুয়ার হাওরের জন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক সংরক্ষণ পরিকল্পনা। টাঙ্গুয়ার হাওরকে সব সময় মানুষের উপস্থিতিতে ‘রক্ষা’ করতে হবে - এমন নয়। কখনো কখনো মানুষকে একটু সরে দাঁড়াতে হয়, প্রকৃতিকে একটু নিঃশ্বাস নিতে দিতে হয়। টাঙ্গুয়ার হাওর আজ সেই বিশ্রামই চায়। তাকে একটু সময় দেওয়া হোক। প্রকৃতিকে নিজের মতো করে নিজেকে সারিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। কারণ প্রকৃতিকে বাঁচানোর সবচেয়ে বড় উদ্যোগ কখনো কখনো হয়- প্রকৃতির ওপর থেকে আমাদের চাপটা সরিয়ে নেওয়া।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রকল্পের অপেক্ষায় ভাগাড়ে পরিণত পুরাতন পৌরসভা চত্বর

প্রকল্পের অপেক্ষায় ভাগাড়ে পরিণত পুরাতন পৌরসভা চত্বর