স্টাফ রিপোর্টার::
ছাতক উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাউসা-কেশবপুর গ্রামে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সুরমা নদীর ভাঙন। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে এখন হুমকিতে রয়েছে নদীতীরবর্তী বসতি, সড়ক ও আরও কয়েকটি স্থাপনা। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে সুরমা নদীর প্রবল স্রোত ও ঢেউয়ের আঘাতে প্রতিদিনই নতুন করে নদীতীর ভাঙছে। বছরের পর বছর ধরে চলা ভাঙনে বাউসা ও কেশবপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। নদীভাঙনে জমি ও বসতভিটা হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। কেউ দিনমজুরি, কেউ রিকশা চালিয়ে কিংবা শহরে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা বলেন, কয়েক বছর আগেও যেখানে সবুজ ধানের ক্ষেত, ফলের বাগান, বসতঘর, খেলার মাঠ ও ধর্মীয় স্থাপনা ছিল, সেখানে এখন নদীর পানি। ভাঙনের কারণে পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে নদীতীরবর্তী সড়কের বিভিন্ন অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে। কেশবপুর ও বাউসার বাসিন্দারা বলেন, বছরের পর বছর নদীভাঙনে তাদের ঘরবাড়ি, জমি ও স্থাপনা হারিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন নদীর পাড় ভাঙার শব্দে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে। কখন নিজের বসতভিটাটিও নদীতে চলে যায়, সেই শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। তাদের দাবি, ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে ঝুঁকিতে থাকা জনবসতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন বলেন, সুরমা নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং করণীয় বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
সুরমা নদীর ভাঙন অব্যাহত : অস্তিত্ব সংকটে বাউসা-কেশবপুর গ্রাম
- আপলোড সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০৭:২৪:১৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-০৮-২০২৬ ০৭:২৫:৩২ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ