সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ , ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালগঞ্জে বিএনপি’র দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫ এক এক করে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেব : প্রধানমন্ত্রী জামালগঞ্জে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার অটোরিকশাচালকের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন দিরাইয়ে বিএনপি’র দুই বলয়ের পৃথক কর্মসূচি “পলাতকের বংশধররা আর বাংলাদেশে ফিরবে না” যাদুকাটায় বালুখেকোদের দাপট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন ৭ নভেম্বরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবিক দেশ গড়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল : প্রধানমন্ত্রী গণহত্যাকারীদের দেশে রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হারিয়ে যাচ্ছে হাওরাঞ্চলের ধানের বহু জাত ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের সময়ে কর্মকর্তাদের বদলির হিড়িক দুই-এক মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন : প্রধানমন্ত্রী আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০ উদ্বোধন হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ মানুষের ভালোবাসায় লোকালয়ে গড়ে উঠেছে পাখিদের অভয়াশ্রম ধর্মপাশা চৌকি আদালত লিগ্যাল এইড কমিটি সক্রিয়করণে সভা মঙ্গলকাটায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের আশ্বাস ওসি’র জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা, সুনামগঞ্জে তীব্র ক্ষোভ

বৈঠার টানেই চলে জীবন-সংসার

  • আপলোড সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৮-২০২৬ ০১:৪৮:৩৫ অপরাহ্ন
বৈঠার টানেই চলে জীবন-সংসার
বিশেষ প্রতিনিধি::
এক পাশে নদী, অন্য পাশে অপেক্ষমাণ মানুষ। মাঝখানে একটি ভাঙাচোরা খেয়া নৌকা আর বৈঠা হাতে মাঝি জিল্লু মিয়া। প্রতিদিনের এই দৃশ্যই শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ঘোড়াডুম্বুর-আলমপুর খেয়াঘাটের বাস্তবতা। ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বোকা নদীর দুই পাড়ের শত শত মানুষকে পারাপার করান তিনি। আর বৈঠার প্রতিটি টানে শুধু মানুষই নদী পার হন না, এগিয়ে চলে তাঁর নিজের জীবনসংগ্রামও। দীর্ঘদিন ধরে বোকা নদীর এই খেয়াঘাটে যাত্রী পারাপারের দায়িত্ব পালন করছেন জিল্লু মিয়া। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রমের পর দিন শেষে তাঁর হাতে আসে মাত্র ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই সামান্য আয় দিয়েই কোনোমতে চলে পরিবারের ভরণপোষণ। নদীর পাড়েই পলিথিনে মোড়ানো একটি জরাজীর্ণ কুঁড়েঘরে বসবাস করেন ভূমিহীন জিল্লু মিয়া। চারদিকে নদী আর নদীভাঙনের স্থায়ী শঙ্কা। যে কোনো সময় নদীর করাল গ্রাসে হারিয়ে যেতে পারে তাঁর শেষ আশ্রয়টুকুও। তারপরও থেমে থাকার সুযোগ নেই। কারণ নৌকার বৈঠা থেমে গেলে থেমে যাবে পরিবারের একমাত্র আয়ের পথ। তাই প্রতিদিন ভাঙাচোরা নৌকাটিকে সঙ্গী করেই নদীতে নামেন তিনি। বোকা নদীর এই খেয়া শুধু একটি পারাপারের মাধ্যম নয়। এটি আলমপুর, ঘোড়াডুম্বুর, ডিগারকান্দি, নাজিমপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের ভরসা। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, শ্রমজীবী, চাকরিজীবীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন এই খেয়ার ওপর নির্ভর করেই নদী পারাপার করেন। স্থানীয়দের কাছে জিল্লু মিয়া কেবল একজন মাঝি নন, তিনি এই জনপদের অপরিহার্য অংশ। মাঝি জিল্লু মিয়া বলেন, এই খেয়া নৌকা চালিয়েই দীর্ঘদিন ধরে সংসার চালাচ্ছি। প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয়। এই টাকা দিয়ে সংসার চালানো খুব কষ্টের। তারপরও মানুষের পারাপারের সুবিধার কথা ভেবে প্রতিদিন নদীতে নামি। যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, ততদিন এই কাজ করে যেতে চাই। স্থানীয়রা বলেন, আমাদের নিত্যদিনের যাতায়াত সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও মাঝি জিল্লু মিয়া আজও রয়ে গেছেন অবহেলিত। তাঁর ব্যবহৃত নৌকাটি অনেক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাঁকে একটি নতুন ও নিরাপদ খেয়া নৌকা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে তাঁর জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনি আরও নিরাপদ হবে নদীর দুই পাড়ের হাজারো মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াত। স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলাম বলেন, বোকা নদীর এই খেয়া দিয়ে প্রতিদিন অনেক মানুষ যাতায়াত করেন। জিল্লু মিয়া নিষ্ঠার সঙ্গে মানুষ পারাপার করছেন। তাঁর নৌকা না থাকলে স্থানীয়দের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
এক এক করে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেব : প্রধানমন্ত্রী

এক এক করে সব ষড়যন্ত্রের জবাব দেব : প্রধানমন্ত্রী