৩৬ কোটি টাকার ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি কেন অভিভাবকহীন?
- আপলোড সময় : ১৩-০৮-২০২৬ ০৬:২৮:২৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৩-০৮-২০২৬ ০৬:২৮:২৮ পূর্বাহ্ন
সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো পড়ে থাকবে, অথচ তার সুফল মানুষ পাবে না - এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুনামগঞ্জ ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির ক্ষেত্রে ঠিক এমনই এক হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে। প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে, অথচ দেড় বছর পরও প্রতিষ্ঠানটি চালু হয়নি। আরও বিস্ময়কর বিষয়, এখনো ক্যাম্পাসটি ব্যবহারকারী কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরও করা হয়নি।
সুনামগঞ্জের মতো পশ্চাৎপদ ও হাওরবেষ্টিত জেলায় স্বাস্থ্য প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স চালু হলে জেলার শিক্ষার্থীদের অন্যত্র গিয়ে পড়াশোনার চাপ কমবে। একই সঙ্গে মেডিকেল ল্যাবরেটরি, রেডিওলজি, ফার্মেসি, ডেন্টাল, ফিজিওথেরাপিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। ভবিষ্যতে জেলার স্বাস্থ্যসেবায়ও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালুর জন্য প্রয়োজন প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল, শিক্ষা কার্যক্রম ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা। অথচ এখনো প্রয়োজনীয় জনবল সৃজন হয়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত ভবনগুলো তালাবদ্ধ পড়ে থাকার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকলে স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণ ব্যাহত হয়ে সরকারি বিনিয়োগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
আমরা মনে করি, এ অবস্থার অবসানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরকে সমন্বিতভাবে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনীয় জনবল সৃজন, ক্যাম্পাস হস্তান্তর এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম স¤পন্ন করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিতে হবে।
৩৬ কোটি টাকার এই বিনিয়োগ যেন আরেকটি পরিত্যক্ত সরকারি স্থাপনায় পরিণত না হয়। জনগণের অর্থে নির্মিত প্রতিষ্ঠানের সুফল জনগণকেই দিতে হবে - এটাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়