সুনামগঞ্জ , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ , ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎জামালগঞ্জে ৫৫ পূজামণ্ডপে এমপির অনুদান, সিসি ক্যামেরা ও সড়ক সংস্কারে সহায়তা প্রশাসনের উৎসবের আনন্দ থেকে কোনো শিশু যেন বঞ্চিত না হয় : জেলা প্রশাসক শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু, আজ মহাষষ্ঠী রিয়াদের বিমানবন্দরে ১৫ দিনে ২০ বার হামলা চালিয়েছে হুথিরা শিশু পরিবারের শিশুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করল লায়ন্স ক্লাব শান্তিগঞ্জে বশির উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এসএসসি উত্তীর্ণদের সংবর্ধনা অস্ট্রেলিয়ার জুটিকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে রাঈদ-লিপটন ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৯০০ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে সুনামগঞ্জে ৪৪৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা, নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রশাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন পূজার ছুটিতে পর্যটকদের অপেক্ষায় টাঙ্গুয়ার হাওর ১৫০ বছরের পুরোনো মূর্তি ও গহনা চুরি অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বহিরাগতদের উপদ্রব দুর্গাপূজায় থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দ্রুত আদায়ে নির্দেশ হাইকোর্টের নিউইয়র্কে হেনস্তার শিকার ড. মুহাম্মদ ইউনূস শাল্লায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ প্রবাসীর স্ত্রীকে ৬ টুকরো করে হত্যা, আসামি জিতেশের মৃত্যুদন্ড সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে আরও ছয় বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু চারলেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ

স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা বিএনপির

  • আপলোড সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ১১:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ৩১-০৮-২০২৬ ১১:২৮:১৮ পূর্বাহ্ন
স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা বিএনপির
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সংগঠনকে নতুন করে ঢেলে সাজিয়ে তৃণমূলকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। একইসঙ্গে জনগণের সমর্থন নিয়ে ভোটের মাঠে জিততে চায় দলটি। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে তিন স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন (উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ) শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন। বিএনপি আসন্ন এই নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি তৃণমূলকে নতুন করে সাজাতে চায় বিএনপি। বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামোর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বছরের পর বছর কাউন্সিল না হওয়া। প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে বিগত দেড় যুগ তৃণমূল পর্যায়ে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি দলটি। অনেক জেলা ও উপজেলায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে একই সভাপতি ও সাধারণ স¤পাদক পদ আঁকড়ে আছেন। এর ফলে মাঠপর্যায়ে কোনো নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়নি। নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়ায় অনেক জায়গায় কেন্দ্রের প্রভাবশালী নেতাদের ‘পকেট কমিটি’ দিয়ে চলছে সংগঠন। ফলে মূল ধারার ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে উপদলীয় কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই স্থবিরতা ও কোন্দল মেটাতে চায় বিএনপির হাইকমান্ড। এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই দেশের সকল জেলা ও উপজেলাগুলোর কাউন্সিল শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিএনপি সূত্র জানায়, এবার ওপর থেকে কমিটি চাপিয়ে দেওয়ার প্রথা ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরাসরি কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে। যারা বিগত আন্দোলনগুলোতে সক্রিয় ছিলেন এবং যাদের এলাকায় ‘ক্লিন ইমেজ’ রয়েছে, তরুণ ও ত্যাগী - এমন নেতাদেরই জেলা-উপজেলার শীর্ষ পদে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। স্থানীয় নির্বাচনে বড় দলগুলোর মাথাব্যথার বড় একটি কারণ হয় বিদ্রোহী প্রার্থী। কেন্দ্র থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও দলেরই আরও ২-৩ জন নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়িয়ে যেতেন। এর ফলে দলীয় ভোট ভাগ হয়ে যেত এবং যার সরাসরি সুবিধা পেত প্রতিপক্ষ দল। ২০২৬ সালের তিন স্তরের নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে বিএনপি। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মাঠপর্যায়ের নেতাদের সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে যাকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে তার বাইরে গিয়ে কেউ যদি ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়ান, প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ষড়যন্ত্র করেন তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে বিএনপি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে একক প্রার্থী দেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার অতীতের পরিচয় বা প্রভাব যাই থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক গোলাম হাফিজ বলেন, এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু একটি গতানুগতিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়। এটি বিএনপির জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক নির্বাসন থেকে ফিরে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে নিজেদের গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার প্রমাণ দেওয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ। বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী মনে করেন, সব মিলিয়ে একটি জটিল রাজনৈতিক সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন বিএনপি। তৃণমূলের কোন্দল মেটানো এবং বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ন্ত্রণ করা তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। তারা যদি তৃণমূলের মতামতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রার্থী বাছাই করতে পারে তবে এই নির্বাচনে তারা ব্যাপক সাফল্য পাবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নতুন সরকারের জনপ্রিয়তা, মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক সক্ষমতা এবং জনগণের আস্থার প্রথম বড় ‘এসিড টেস্ট’।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
উৎসবের আনন্দ থেকে কোনো শিশু যেন বঞ্চিত না হয় : জেলা প্রশাসক

উৎসবের আনন্দ থেকে কোনো শিশু যেন বঞ্চিত না হয় : জেলা প্রশাসক