আদালতের আদেশ অমান্য
ছাতকের ওসি ও এসআইয়ের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে আইজিপিকে নির্দেশ
- আপলোড সময় : ০১-০৯-২০২৬ ০৮:২১:৪৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-০৯-২০২৬ ০৮:২১:৪৮ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
ছাতক থানার একটি মামলায় তদন্তে দায়িত্বে অবহেলা এবং আদালতের আদেশ অমান্যের অভিযোগে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মুহাম্মদ শরীফুল আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের চাকরির ডোসিয়ারে (চাকরির নথি) বিরূপ মন্তব্য হিসেবে আদালতের আদেশটি নোট করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ হাবিবুর রহমান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশটি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকা এবং অন্যান্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, ছাতক থানার মামলা নং-১৭, তারিখ ১৬ নভেম্বর ২০২৫ থেকে উদ্ভূত জিআর মামলা নং-৩৪৫/২০২৫ (ছাতক)-এর তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুহাম্মদ শরীফুল আলম ছাতক থানার অভিযোগপত্র নং-০২, তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ আদালতে দাখিল করেন। ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অভিযোগপত্রে প্রাথমিকভাবে কোনো ত্রুটি পরিলক্ষিত না হওয়ায় আদালত তা গ্রহণ করেন। বর্তমানে মামলাটি অভিযোগ গঠন শেষে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বিচারাধীন রয়েছে। তবে পরবর্তীতে তদন্ত কর্মকর্তা একই মামলায় দ-বিধির ৩০৭ ধারা সংযুক্ত করে একটি স¤পূরক অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন।
আদালতের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই স¤পূরক অভিযোগপত্র পর্যালোচনায় নতুন কোনো সাক্ষ্য উদঘাটনের বিষয় পাওয়া যায়নি। ফলে আদালতের পর্যবেক্ষণ, মূল অভিযোগপত্র দাখিলের সময় তদন্ত কর্মকর্তা হয় অমনোযোগী ছিলেন, অথবা দায়িত্ব পালনে উদাসীন ছিলেন।
আদেশে আরও বলা হয়, আদালতে অভিযোগপত্র দাখিলের পর নতুন কোনো সাক্ষ্য উদঘাটন ছাড়া এবং আদালতের নির্দেশনা ব্যতীত স¤পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা যায় না। তদন্ত কর্মকর্তা আইনের বিধান যথাযথভাবে উপলব্ধি না করে স¤পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করায় মামলার বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জও বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করে গতানুগতিকভাবে তা আদালতে অগ্রগামী করেছেন বলে আদালত উল্লেখ করেন।
এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওসিকে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত দিনে তারা আদালতে উপস্থিত হয়ে কোনো ব্যাখ্যা প্রদান করেননি এবং লিখিত জবাবও দাখিল করেননি।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, তাদের এ ধরনের আচরণ আদালতের আদেশের প্রতি অবজ্ঞা এবং দৃশ্যত আদালত অবমাননার শামিল। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের আদেশ অনুযায়ী উপস্থিত হননি কিংবা লিখিত জবাব দেওয়ার প্রয়োজনও বোধ করেননি। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হিসেবে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন বলে আদালত মনে করেন।
এ পরিপ্রেক্ষিতে এসআই মুহাম্মদ শরীফুল আলম ও ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার জন্য বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে আদালতের আদেশটি আইজিপি ও অন্যান্য উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার চাকরির ডোসিয়ারে আদালতের আদেশটি বিরূপ মন্তব্য হিসেবে নোট করার জন্য যথোপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ