বৃক্ষরোপণে অনিয়ম : লোকদেখানো কর্মসূচি বন্ধ হোক
- আপলোড সময় : ০৮-০৯-২০২৬ ০৫:১৮:২৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-০৯-২০২৬ ০৫:১৮:২৮ পূর্বাহ্ন
পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, মাটির ক্ষয় রোধ এবং সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু গাছ লাগানোর নামে যদি সরকারি অর্থ ব্যয় হয়, আর রোপণের কয়েক দিনের মধ্যেই অধিকাংশ চারা নষ্ট হয়ে যায়, তাহলে সেটি পরিবেশ রক্ষার কর্মসূচি নয়; বরং সরকারি অর্থের অপচয়।
সুনামগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়ে ওঠা অভিযোগগুলো তাই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রারিপ প্রকল্পের আওতায় জেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে পাঁচ হাজার গাছ রোপণের জন্য ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা-বীরগাঁও সড়কে প্রায় ৪০০ চারা রোপণের এক মাসের মধ্যেই অধিকাংশ চারা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছোট ছোট চারা রোপণ করে সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করা হয়নি। অনেক চারার চারপাশে নেই সুরক্ষাবেষ্টনী, দেওয়া হয়নি নিয়মিত পানি। ফলে কোনো চারা গবাদিপশুর খাদ্যে পরিণত হয়েছে, আবার কোনোটি পানির অভাবে শুকিয়ে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি চারার জন্য বরাদ্দের অর্থের তুলনায় বাস্তবে খুব সামান্য ব্যয় করা হয়েছে। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা নিছক অব্যবস্থাপনা নয়, সরকারি অর্থ ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নও বটে।
এলজিইডির কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও সমস্যাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে। রোপণের পর শক্ত বেড়া দেওয়া এবং নিয়মিত পরিচর্যার জন্য শ্রমিক রাখার প্রয়োজন থাকলেও রারিপ প্রকল্পে রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি ধরা হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী। আবার মারা যাওয়া গাছ পুনরায় রোপণের কথা বলা হয়েছে। প্রশ্ন হলো- একবার লাগানো চারা রক্ষার ব্যবস্থা না করে বারবার নতুন চারা লাগালে রাষ্ট্রের অর্থের কতটা সাশ্রয় হবে এবং পরিবেশেরই বা কতটা উপকার হবে?
বৃক্ষরোপণ কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়। একটি চারা গাছ হয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগে। তাই শুধু নির্দিষ্টসংখ্যক চারা রোপণের লক্ষ্য পূরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। রোপিত প্রতিটি চারার বেঁচে থাকা নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত প্রকল্পের মূল সাফল্যের মাপকাঠি।
আমরা মনে করি, সুনামগঞ্জে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রতিটি ধাপের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। কোথায় কতটি চারা রোপণ হয়েছে, কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কোন প্রজাতির চারা লাগানো হয়েছে এবং এক বছর পর কতটি গাছ জীবিত রয়েছে - এসব তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা যেতে পারে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে স¤পৃক্ত করে চারাগাছের দেখভালের ব্যবস্থা করা দরকার।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়