সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিরাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর, নাগরিক সুবিধা সেই তিমিরে ছাতকে অনুমোদনহীন দুই শতাধিক চুনের কারখানা সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ক্লিনিক নয়, প্র্যাকটিসও বন্ধ পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি ‎পটিয়া থেকে ৫১৪৮, এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগের চিত্র জেলায় ৫১ নদী-খালের ২০০ কি.মি. খননের পরিকল্পনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে ‘প্রতিষ্ঠা প্রকল্পে’র অবহিতকরণ কর্মশালা দোয়ারাবাজারে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সুনামগঞ্জ শহরে মারামারি, নিরপেক্ষ তদন্ত চায় শ্রাবণের পরিবার দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ, সুনামগঞ্জে যুবদলের মিছিল সমাবেশ ‎বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে হাওরের সড়কজুড়ে শতাধিক তালগাছের চারা রোপণ ‎জাতিসংঘে তারেকের প্রথম ভাষণ, সামনে বাংলাদেশের নতুন বার্তা ‎বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতবিনিময় সভা ও র‍্যালি রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ, প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনসাধারণের ক্ষোভ তাহিরপুরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বহিষ্কার সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজারের তান্ডব থামেনি সাদাসিধে জীবন, আলোকিত কর্মযাত্রা নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদরে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

সরকারি ভবনের ছাদ হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র, লক্ষ্য ৩০০ মেগাওয়াট

  • আপলোড সময় : ২৪-০৯-২০২৬ ১০:৫৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০৯-২০২৬ ১০:৫৪:১৬ পূর্বাহ্ন
সরকারি ভবনের ছাদ হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র, লক্ষ্য ৩০০ মেগাওয়াট
বিশেষ প্রতিনিধি::
বৈশ্বিক অস্থিরতা ও বৈরী পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমানে বাড়তি চাপের মুখে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসের ব্যবহার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বড় ধরনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। কর্মসূচির আওতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন সারা দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারি অবকাঠামোর অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের এ উদ্যোগকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় কর্মপরিকল্পনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বুধবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচিটির বিস্তারিত তুলে ধরেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩৭০ কোটি টাকা সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ দিয়ে পূরণ করার পাশাপাশি জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় শুধু রাজধানী বা বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও মাঠপর্যায়ের সরকারি স্থাপনাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভবন; স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) মাঠপর্যায়ের কার্যালয়; বিভিন্ন অঞ্চলের ওয়াসা (WASA) কার্যালয়; জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভবন; দেশের বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্র, হাট-বাজার ও গ্রোথ সেন্টার। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অব্যবহৃত ছাদে আধুনিক সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হবে। উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করতে পারবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডেও যুক্ত করা যাবে। তিনি আরও জানান, কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রশাসনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা সংবলিত চিঠিও পাঠানো হয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী বছরের ২৭ জানুয়ারির মধ্যে পুরো কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশের ৬ হাজার ৫৪৪টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি ভবনের ছাদকে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা হলে একদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের ওপর বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিরূপ প্রভাবও কমানো সম্ভব হতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ের বিপুলসংখ্যক সরকারি ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত ছাদকে একটি সমন্বিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় আনার এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে সরকারি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়লে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার একটি কাঠামো গড়ে উঠতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ছাতকে অনুমোদনহীন দুই শতাধিক চুনের কারখানা

ছাতকে অনুমোদনহীন দুই শতাধিক চুনের কারখানা