লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ : টাকা ফেরতের শর্তে অধ্যক্ষকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত
- আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ০৯:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ০৯:১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি ::
আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত দোয়ারাবাজার উপজেলার লিয়াকতগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল কাদিরকে শর্তসাপেক্ষে পুনর্বহালের প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটি। উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে চিহ্নিত অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ফেরত দেওয়ার শর্তে তাকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে এডহক কমিটির সভাপতি ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় আব্দুল কাদিরকে পুনর্বহালের ক্ষেত্রে তিনটি শর্ত নির্ধারণ করা হয়। শর্তগুলো হলো- তদন্ত কমিটি কর্তৃক চিহ্নিত অর্থ পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা দিতে হবে; সিলেট শিক্ষা বোর্ডের তদন্ত কমিটির অডিট পর্যালোচনায় অতিরিক্ত অর্থ পাওনা হলে তা পরিশোধ করতে হবে এবং ব্যাংকে অর্থ জমার রসিদ সভাপতির কাছে দাখিলের পরই পুনর্বহালের পত্র দেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৯ লাখ টাকার হিসাব পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ওই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্তের সুপারিশ করে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে প্রতিবেদন পাঠানো হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লিখিত অর্থের সুনির্দিষ্ট খাত, অর্থের হিসাব না পাওয়ার কারণ এবং আব্দুল কাদিরের কাছে ব্যক্তিগতভাবে কত টাকা পাওনা - এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, তদন্তে চিহ্নিত অর্থ ফেরতের শর্তে তাকে পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের বক্তব্য, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এবং শিক্ষা বোর্ডের তদন্তের ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর পুনর্বহালের বিষয়টি বিবেচনা করা হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতো।
অন্যদিকে, এডহক কমিটির সিদ্ধান্তে অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অডিটে অতিরিক্ত অর্থের দাবি উঠলে তা পরিশোধের শর্ত রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার আলী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি