স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জে ইজারাবিহীন তিনটি বালু মহালে সরকারি সম্পদ লুটপাট রোধে ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যাপী টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। এখন থেকে এই অভিযান নিয়মিত চলবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদী বালুমহাল, সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধোপাজান বালুমহাল এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার মরাচেলা নদী বালুমহালে ইজারাবিহীনতার সুযোগে দুষ্কৃতিকারীরা বালু লুট করছে। কোথাও নদীর তীর কেটে, কোথাও ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলন করে নদীর গতিপ্রকৃতি বদলে দেওয়ার পাশাপাশি ড্রেজার তা-বে গ্রাম ও ফসলি জমি এবং প্রকৃতি হুমকিতে পড়েছে। ইজারাবিহীন থাকায় প্রতিদিন কোটি টাকার বালু লুট করছে লুটেরা চক্র। ফলে স্থানীয়ভাবে সরকারি সম্পদ সুরক্ষার জন্য দাবি ওঠায় জেলা প্রশাসন টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখন এসব বালু মহালে পুলিশ, র্যাব, নৌপুলিশ, বিজিবিসহ বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে অভিযানের খবরে বালু লুটে জড়িতরা এখন আড়ালে চলে গেছে। তারপরও গ্রেপ্তার, মামলা ও জরিমানা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। পরিবেশবিদরা জানান, যাদুকাটা বালুমহালের ইজারা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ছয় মাসের জন্য খাস আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল জেলা প্রশাসন। গত ১৩ সেপ্টেম্বর খাস কালেকশন বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। পরে ২০ সেপ্টেম্বর যাদুকাটা-১ ও যাদুকাটা-২ মহাল ইজারা নেওয়ার আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট দুই প্রতিষ্ঠানের মালিকেরা। পরবর্তী সময়ে ৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব দেওয়ার শর্তে দুটি মহালেই নাছির উদ্দিনকে বালু উত্তোলনের অনুমোদন দেওয়া হলে অনুমোদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন শাহ রুবেল নামের আরেক ইজারাদার। গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালত তিন মাসের জন্য নাছিরের অনুমোদন স্থগিত করেন। ফলে দুটি মহালই বর্তমানে ইজারাবিহীন রয়েছে। আর এই সুযোগে বিভিন্ন চক্র নদী থেকে বালু লুট করছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা মরাচেলা নদীটি ইজারাবিহীন। এই নদীর সোনাপুর এলাকায় শত শত ড্রেজার দিয়ে দিনে রাতে বালু উত্তোলন করে নদীর গতি বদলে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন কোটি টাকার বালু হচ্ছে এই নদী থেকে। ড্রেজারে অবৈধভাবে ইজারাবিহীন নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও ফসলি জমি ঝুঁকিতে পড়ছে। এ নিয়ে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ করেছেন। সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নিয়ে বিস্তৃত ধোপাজান বালুমহালেও গত ৮ বছর ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এখনো প্রতি রাতে ও দিনে নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীপথ ও সড়কপথে লুটের বালু পাচার হচ্ছে প্রতিদিন। সিসি ক্যামেরা বসিয়েও লুটকারীদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। সুনামগঞ্জ বারকি শ্রমিক সংঘের উপদেষ্টা সাইফুল আলম সদরুল বলেন, ইজারাদারদের বদলে বারকি শ্রমিকদের মাধ্যমে সনাতন পদ্ধতিতে বালু পাথর মহাল ইজারা দিলে এই লুট বন্ধ হবে। কিন্তু মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা ইজারা এনে ড্রেজারে, বোমামেশিনে নদীর প্রকৃতি বদলে দিচ্ছে। পরিবেশের বিরাট ক্ষতি করছে। এখন ইজারা না থাকার সুযোগে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুনজিত কুমার চন্দ বলেন, ইজারাবিহীন নদীগুলোর প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় টাস্কফোর্সের অভিযান চলছে। এই অভিযান ধারাবাহিক চলবে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষদেরও সচেতনভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
বালু লুটের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের অভিযান শুরু
- আপলোড সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০১:০৩:১৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১০-২০২৬ ০১:০৪:২৯ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ