মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৫ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক
- আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১০:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১০:৫১:৩০ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
তাহিরপুরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা
ঘটেছে। পূর্ববিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-
পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বুধবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত উপজেলার সদর ইউনিয়নের
মধ্য তাহিরপুর এলাকায় এ সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কয়েকটি টিয়ার শেল নিক্ষেপ
করে। সংঘর্ষে গুরুতর আহত তিনজনকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। মধ্য তাহিরপুর এলাকার
দুটি দোকানে হামলা ও একটি বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের
কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সপ্তাহখানেক আগে মধ্য তাহিরপুর এলাকার একটি মাঠে একদল
কিশোর ক্রিকেট খেলছিল। এ সময় পাশের সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক দিয়ে একটি ইজিবাইক
যাচ্ছিল। খেলার একপর্যায়ে মাঠ থেকে বল গিয়ে ইজিবাইকের সামনের কাচে লাগে। এ নিয়ে
মধ্য তাহিরপুর (ময়মনসিংহ হাটি) গ্রামের ইজিবাইকচালকের সঙ্গে বীরনগর গ্রামের এক
কিশোরের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এরপরদিন
বীরনগর গ্রামের এক যুবককে তাহিরপুর বাজারে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের দুই ব্যক্তি মারধর করেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মধ্য তাহিরপুর গ্রামের লোকজনের সঙ্গে বীরনগর, ধুতমা, জয়নগর ও লক্ষ্মীপুর
গ্রামের মানুষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবার রাতে আবারও বাজারে দুই গ্রামের দুই যুবকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর রাত
১২টার দিকে বীরনগর গ্রামের একটি মসজিদ থেকে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়, সকালে যার
কাছে যা আছে তা নিয়ে মাঠে থাকার জন্য। ওই ঘোষণার ভিডিও সামাজিক
যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। খবর পেয়ে রাতেই
ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান নেয় এবং দুই পক্ষকে সংঘর্ষে না জড়ানোর জন্য বোঝানোর চেষ্টা করে।
তবে বুধবার সকালে দুই পক্ষের লোকজন এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশের
উপস্থিতিতেই প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং পরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। দুপুর
১২টা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলে এ সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ
করেও প্রথমে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে পারেনি।
সংঘর্ষে বীরনগর গ্রামের সোবহান মিয়ার ছেলে আশিকনুর, আলিম উদ্দিনের ছেলে রেজাউল ও
মাইনুদ্দিন গুরুতর আহত হন। তাদের সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মধ্য
তাহিরপুর গ্রামের হারুন অর রশিদ (৫২), বাকারুল মিয়া (৫০), আজিম মিয়া (২৫), রমজান মিয়া
(৩০), আবুল কালামসহ দুই পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয়ভাবে
প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
মধ্য তাহিরপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল হোসেন বলেন, তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে এত বড়
ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা সময়মতো উদ্যোগ নিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করলে
সংঘর্ষ এড়ানো যেত।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, খবর পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাতেই
পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয় এবং দুই পক্ষকে বোঝানোর চেষ্টা করে। বুধবার সকালে দুই পক্ষের
লোকজন জড়ো হওয়ার পর একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে ইটপাটকেলের আঘাতে ৩০
থেকে ৪০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বর্তমানে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ
মোতায়েন রয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ