স্টাফ রিপোর্টার ::
একটি ক্রিকেট বল, অটোরিকশাচালকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি, এরপর মারধর - ধীরে ধীরে সেই বিরোধ ছড়িয়ে পড়ে একাধিক গ্রামে। উত্তেজনা বাড়তে বাড়তে রূপ নেয় সংঘর্ষে। আহত হন দুই পক্ষের অর্ধশতাধিক মানুষ। কেউ চিকিৎসা নেন সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে, কেউ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এলাকাবাসী। অবশেষে সালিশের মধ্য দিয়ে সেই উত্তেজনা প্রশমিত হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় বিরোধ নি®পত্তির উদ্যোগ নেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পাঁচ গ্রামের মানুষের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুলের মধ্যস্থতায় এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রচেষ্টায় উভয়পক্ষের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়। এতে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে। সালিশে সভাপতিত্ব করেন সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় কৃষকদলের যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক আনিসুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বাদল মিয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জুনাব আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান উজ্জ্বল, উত্তর বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম, উপজেলা বিএনপির সদস্য সাখাওয়াত হোসেন, এ কে এম নাসের উজ্জ্বলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সালিশকারীরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক সপ্তাহ আগে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে বীরজয় লক্ষ্মী দুতমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে ক্রিকেট খেলার সময় একটি বল জালাল মিয়ার অটোরিকশায় গিয়ে পড়ে। অটোরিকশাচালক সেখান থেকে চলে গেলেও পরে হাফিজ আলী এসে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটিতে জড়ান। এর জের ধরে গত রোববার রাতে তাহিরপুর বাজারে আবারও উত্তেজনা দেখা দেয়। দুতমা গ্রামের হান্নানের ছেলে জসিমের সঙ্গে ময়মনসিংহা হাটি গ্রামের হাফিজ মিয়া, নবাব মিয়া, মানিক মিয়াসহ কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জসিমকে মারধর করা হয় বলে জানা গেছে। একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে হাফিজকে জয়নগর ও বীরনগর গ্রামের কয়েকজন মারধর করেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। বুধবার রাতে এশার নামাজের সময় বীরনগর গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়- পরদিন সকালে গ্রামের সবাইকে যার কাছে যা আছে, তা নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। এমন ঘোষণার পর এলাকায় সংঘর্ষের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন দুপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। আহতদের কেউ সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে, আবার কেউ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের এমন বিস্তার স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। এদিকে, সংঘর্ষের পর এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হন সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বিরোধ নি®পত্তির উদ্যোগ নেন। শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত সালিশে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত হয়। হৃদয়ের আকাশ
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
বিরোধ নিষ্পত্তি
তাহিরপুরের পাঁচ গ্রামে শান্তি ফেরালেন এমপি কামরুল
- আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:২২:৩৩ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ