সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
যন্ত্রপাতি আসছে, চিকিৎসা শুরু হবে কবে?
- আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:২০:৩৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:২০:৩৯ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য ৩৩ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি কেনার অনুমোদন আশার খবর। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, যন্ত্রপাতি কেনার পাশাপাশি হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা চালুর কার্যকর উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান? একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মূল উদ্দেশ্য শুধু অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ নয়; এর প্রধান লক্ষ্য মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসক তৈরির উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা। অথচ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি চালু না হলে বিপুল সরকারি বিনিয়োগের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না।
সম্প্রতি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য ৩৩ কোটি ৪৭ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৮ টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে। এসব যন্ত্রপাতির মধ্যে রয়েছে স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা, জরুরি বিভাগ, সার্জারি, অস্ত্রোপচার কক্ষ, ক্যানসার চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিভাগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। সুনামগঞ্জের মানুষের জন্য এটি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এই অনুমোদন তখনই অর্থবহ হবে, যখন দ্রুত যন্ত্রপাতি সরবরাহ, স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করে হাসপাতালের কার্যকর চিকিৎসাসেবা চালু করা হবে।
হাওরাঞ্চল অধ্যুষিত সুনামগঞ্জের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সংকট দীর্ঘদিনের। জটিল রোগের চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার, প্রসূতিসেবা কিংবা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে অনেক রোগীকে সিলেটসহ অন্য জেলায় যেতে হয়। এতে বাড়তি অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এমন বাস্তবতায় সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়া এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম চালু করতে শুধু যন্ত্রপাতি কেনাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজনীয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ, বিভাগভিত্তিক চিকিৎসাসেবা চালুর পরিকল্পনা, পরীক্ষাগার সচল রাখা, অস্ত্রোপচার কার্যক্রম পরিচালনা এবং যন্ত্রপাতির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা উপকরণ, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কারিগরি সুবিধাও থাকতে হবে। এসব প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি অব্যবহৃত পড়ে থাকার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত মেয়াদ ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এই সময়কে সামনে রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত চিকিৎসা কার্যক্রম চালুর জন্য একটি সুস্পষ্ট সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা। কোন বিভাগ কখন চালু হবে, কতজন চিকিৎসক ও কর্মী প্রয়োজন, যন্ত্রপাতি কবে স্থাপন করা হবে এবং রোগীরা কবে থেকে প্রয়োজনীয় সেবা পাবেন - এসব বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকা দরকার।
প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং মান যাচাই নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ক্রয় থেকে শুরু করে সরবরাহ, স্থাপন ও ব্যবহার - প্রতিটি ধাপে কার্যকর তদারকি থাকতে হবে।
আমরা মনে করি, সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে আর দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়। প্রকৃতপ্রস্তাবে যন্ত্রপাতি কেনার অনুমোদনকে চিকিৎসাসেবা চালুর শেষ লক্ষ্য নয়, বরং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির একটি ধাপ হিসেবে দেখতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে সমন্বিতভাবে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়