শহীদনূর আহমেদ::
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে বহিরাগতদের উপদ্রব বেড়েছে। স্থানীয় কিছু যুবকের বিরুদ্ধে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর প্রভাব বিস্তার এবং রোগীদের চিকিৎসায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসাবিদ্যায় প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তাদের কেউ কেউ রোগীর শরীরে ইনজেকশন প্রয়োগ ও ক্ষতস্থানে সেলাই দেওয়ার মতো সংবেদনশীল চিকিৎসাকাজে যুক্ত হচ্ছেন বলে জানাগেছে। এতে রোগীদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসাসেবার মান নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া রোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় এবং রোগী ভাগিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে এই চক্রের বিরুদ্ধে। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে বহিরাগতদের এমন উপদ্রবে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। সরেজমিনে গত ৮ অক্টোবর রাতে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মাথায় আঘাত পাওয়া এক বয়স্ক রোগীর ক্ষতস্থানে চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগের পাশাপাশি সুঁই-সুতা দিয়ে সেলাই করছেন সাব্বির নামের এক যুবক। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সাব্বির নিজেকে হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মী বলে দাবি করলেও এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার চিকিৎসাবিষয়ক কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতার তথ্যও পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হাসপাতালের পাশের হাসননগর এলাকার বাসিন্দা সাব্বিরের সঙ্গে জাহির আলী, মিজান, জমিরুল, রবিন ও রুমনসহ আরও কয়েকজন যুবক এ ধরনের কর্মকা-ে যুক্ত। তাদের বিরুদ্ধে হাসপাতালের ভেতরে প্রভাব বিস্তার, চিকিৎসাসেবায় হস্তক্ষেপ ও রোগীদের স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালে স্থানীয় একটি চক্রের প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি স্বীকার করেছেন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, হাসপাতাল প্রশাসন তো রাতে থাকেন না। তখন মেডিকেল অফিসার ও নার্সরা সেবা দিয়ে থাকেন। কর্তব্যরতদের বেশি ভাগ অন্য জেলার মানুষ। তাই তাদের সাথে প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় কিছু লোক সুযোগ নিয়ে থাকে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে অবগত করেছি। আমরা চাই হাসপাতাল বহিরাগত মুক্ত থাকুক।
এদিকে গত ৯ অক্টোবর রাতে হাসপাতাল অনাধিকার প্রবেশ ও চিকিৎসা কাজে হস্তক্ষেপের দায়ে জমিরুল ইসলাম নামের এক দালালকে আটক করে হাসপাতালে আইনশৃঙ্খলায় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যগণ। দালাল বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে আনসারের তৎপরতা বৃদ্ধির কথা জানিয়ে জেলা আনসার কমান্ডার মোরশেদা খানম বলেন, এক্ষেত্রে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। হাসপাতালে দালাল ও বহিরাগতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের ড্রেসআপ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি। ড্রেসআপের বাইরে কেউ সেবা দিতে চাইলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আলী আশরাফ সোহাগ বলেন, বহিরাগতের উৎপাতে আমরা বিরক্ত। এটি বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মহোদয় সম্প্রতি হাসপাতাল সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। তিনি হাসপাতালের শৃঙ্খলা ফেরাতে আন্তরিক। আমরা হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য অভিন্ন পোশাকের ব্যবস্থা করছি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
জরুরি বিভাগে চিকিৎসায় হস্তক্ষেপ, অর্থ আদায়ের অভিযোগ
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে বহিরাগতদের উপদ্রব
- আপলোড সময় : ১৫-১০-২০২৬ ০৯:০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-১০-২০২৬ ০৯:১০:২৮ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ