সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকুক
- আপলোড সময় : ২৩-১০-২০২৬ ১০:৫৬:২০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-১০-২০২৬ ১০:৫৬:২০ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জের পরিচয় তার প্রকৃতি, লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্যও। যুগ যুগ ধরে এ জনপদের মানুষ ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে মিলেমিশে বসবাস করে আসছেন। এক ধর্মের উৎসবে অন্য ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য এ অঞ্চলের সামাজিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। সম্প্রতি শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হওয়া সেই সম্প্রীতির বন্ধনেরই আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
দুর্গোৎসব নির্বিঘেœ স¤পন্ন হওয়ায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম নূরুল বলেছেন, এ জনপদের সম্প্রীতির সুদৃঢ় বন্ধন আবারও প্রমাণিত হয়েছে। তিনি এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই বক্তব্য কেবল একটি উৎসবের সফল সমাপ্তির মূল্যায়ন নয়, বরং বহুত্ববাদী সমাজের শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে আনন্দ, ভালোবাসা ও মিলনের আবহ তৈরি করে। কিন্তু সেই আনন্দ নির্বিঘœ রাখতে প্রয়োজন সবার দায়িত্বশীল আচরণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা। দুর্গোৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, পূজা উদযাপন পরিষদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রশংসার দাবি রাখে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, আন্তরিক উদ্যোগ ও সম্মিলিত দায়িত্ববোধ থাকলে উৎসবকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।
তবে সম্প্রীতির সাফল্য শুধু একটি উৎসব নির্বিঘেœ উদযাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। সম্প্রীতি একটি চলমান সামাজিক চর্চা। ধর্মীয় উৎসবের সময় যেমন নিরাপত্তা ও সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি বছরের অন্য সময়েও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সামাজিক মর্যাদা ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর উসকানি, গুজব, বিদ্বেষমূলক প্রচার কিংবা ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বিভাজনের অপচেষ্টা যেন মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোর দায়িত্ব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, গুজবের বিরুদ্ধে সত্য তথ্য তুলে ধরা এবং অপরাধের ক্ষেত্রে পরিচয়-নির্বিশেষে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পরিসরে অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে।
সুনামগঞ্জের সম্প্রীতির ঐতিহ্য এ অঞ্চলের মানুষের অর্জন। এই অর্জনকে টিকিয়ে রাখা এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। ধর্ম যার যার, উৎসবের আনন্দ ও মানবিকতা সবার - এই চেতনাকে ধারণ করেই এগিয়ে যেতে হবে। শারদীয় দুর্গোৎসবের শান্তিপূর্ণ উদযাপন সেই পথচলার ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এখন প্রয়োজন, উৎসবের এই সৌহার্দ্য যেন দৈনন্দিন জীবনেও প্রতিফলিত হয়।
সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় থাকুক, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতায় সমৃদ্ধ হোক সুনামগঞ্জ। কোনো বিভেদ বা বিদ্বেষ যেন এ জনপদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ম্লান করতে না পারে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়