সুনামগঞ্জ , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ , ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তাহিরপুরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ “আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউএনও” ফেসবুকে সহকারী কমিশনারের পোস্ট, পরে হাসপাতালে ভর্তি আমন চাষে খরচের বোঝা, লাভ নিয়ে শঙ্কায় কৃষক চিকিৎসক সংকটে নাজুক সুনামগঞ্জের স্বাস্থ্যসেবা, ৩৭১ পদের বিপরীতে কর্মরত ১১২ জন সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জে মানববন্ধন কোজাগরী লক্ষ্মীপূজার প্রস্তুতি, প্রতিমা ও প্রসদসামগ্রী কিনতে ব্যস্ত ভক্তরা জগন্নাথপুরে বিয়ের দাওয়াতকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইকে হত্যা, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার শীতের সবজির নতুন চালানে কাঁচাবাজারে স্বস্তি, তবে অসন্তোষ শিম-টমেটোর দামে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে বিশ্ব, মুনাফায় কারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই : তথ্যমন্ত্রী জাউয়াবাজারে ১৩০ পিস ইয়াবাসহ দুইজন গ্রেপ্তার শাল্লায় ফেসবুকে চিরকুট লিখে যুবকের মৃত্যু ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার আশ্বাস হাইকমিশনারের দিল্লিতে যোগাযোগ করে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাত করছে বিএনপি : গোলাম পরওয়ার দিরাইয়ে সাংবাদিক হত্যাও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে স্বাধীন-শ্রীমতি দম্পতির জীবনযুদ্ধ: পাশে দাঁড়াচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর মোল্লাপাড়ায় প্রবাসীর বাড়ির ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ এক মাঠেই ৫২ জাতের ধান, সেরা জাত বাছাইয়ের সুযোগ কৃষকের দেশে সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী দেখে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেন এমপি কামরুল
ঝুলে পড়া লোহার সেতু বাঁশ দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা, দুর্ঘটনার শঙ্কা

তাহিরপুরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

  • আপলোড সময় : ২৪-১০-২০২৬ ১০:০৭:০৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-১০-২০২৬ ১০:০৭:৩০ অপরাহ্ন
তাহিরপুরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ
জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া::
তাহিরপুরে মাটিকাটা কুড়ির খালের ওপর নির্মিত লোহার সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেতুর বিভিন্ন স্থানে পাটাতন উঠে গেছে, কোথাও পাটাতন নেই, আবার কোথাও ভেঙে পড়েছে অংশবিশেষ। ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে কোনো রকমে চলাচলের উপযোগী রাখার চেষ্টা চলছে। সেতুতে উঠলেই কেঁপে ওঠে, হয় বিকট শব্দ। যেকোনো সময় সেতুটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেতুটি তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের লিলা বাজার-মাটিকাটা এলাকার মানুষের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিকল্প সড়ক বা সেতু না থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মোটরসাইকেল, ঠেলাগাড়ি ও পায়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ। সেতু পার হতে গিয়ে পায়ে আঘাত পেয়ে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সেতুটির পাটাতন উঠে গেছে। কয়েকটি স্থানে পাটাতন নেই। দুই পাশে রেলিং থাকলেও দক্ষিণ পাশের বেশ কিছু অংশের রেলিং ভেঙে গেছে। সেতুর পিলার মাটির নিচে দেবে যাওয়ায় তিনটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশের নিচে দুর্বল বাঁশ দিয়ে ঠেকা দেওয়া হয়েছে। সেতুতে মানুষ বা মোটরসাইকেল উঠলে সেটি কেঁপে ওঠে এবং এদিক-ওদিক নড়াচড়া করে। ফলে শিশু, নারী, বয়স্ক ব্যক্তি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আতঙ্ক নিয়ে সেতু পার হতে হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একসময় খালের ওপর বাঁশের সাঁকো দিয়ে মানুষ চলাচল করতেন। পরে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের দিকে তৎকালীন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উদ্যোগে খালের ওপর দুটি পিলার স্থাপন করে লোহার পাটাতনের সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সেতুটি নির্মিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছিল। তবে বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম এবং উত্তর বড়দল ও দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়নের আমতৈল, চরগাঁও, ব্রাহ্মণগাঁও, বোরোখারা, ট্যাটাপাড়া, হলহলিয়া, রামেশ্বরপুর, পুরানঘাট, একতা, কাউকান্দি, বড়দল, কামারকান্দি, পুরানখালাস, সাধেরকলা ও মাটিকাটাসহ আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ এ সেতু দিয়ে চলাচল করেন। বড়ছড়া শুল্ক স্টেশন ও পর্যটনকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া মাটিকাটা রহমানিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, প্রতিভা কিন্ডারগার্টেন, মাটিকাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজী এম এজাহের উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এক হাজারের বেশি মানুষ প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সাতগ্রাম ঈদগাহ মাঠ, মাটিকাটা গ্রামের একাংশের কবরস্থান এবং খালের অপর পাশে অবস্থিত মসজিদে যাতায়াতের জন্যও সেতুটির ওপর নির্ভর করতে হয় তাদের। স্থানীয় বাসিন্দা ছফুর উদ্দিন বলেন, সেতুতে উঠলেই ভয় লাগে, কখন ভেঙে পড়ে। পায়ে আঘাত পাওয়ারও আশঙ্কা আছে। তারপরও কী করব, আস্তে আস্তে দেখে-শুনে সেতু পার হয়ে বাজারে ও মসজিদে যাই। হায়দর আলী বলেন, সেতুটি সংস্কার না করায় তাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। কয়েক দিন আগে সেতু পার হতে গিয়ে একজন পায়ে আঘাত পেয়েছেন। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক সুহেল ও আশরাফ উদ্দিন বলেন, ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠানোর পর সেতুটি পার হয়ে নিরাপদে পৌঁছেছে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। কখন যে সেতু ভেঙে পড়ে, সেই ভয় সব সময় কাজ করে। জনস্বার্থে দ্রুত সেতুটি মেরামত করতে হবে। সম্ভব না হলে নতুন সেতু নির্মাণ করতে হবে। দক্ষিণ বড়দল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইউনুস আলী বলেন, সেতুটির বর্তমান অবস্থা জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে। বিষয়টি বিভিন্ন সভায় তুলে ধরা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কয়েক দিন আগে সেতুটি পরিদর্শন করেছেন। আশা করছেন, উপজেলা প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, আপাতত সেতুটি মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামণি দেবী বলেন, সেতুটির বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সমস্যাটির সমাধান করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
“আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউএনও” ফেসবুকে সহকারী কমিশনারের পোস্ট, পরে হাসপাতালে ভর্তি

“আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউএনও” ফেসবুকে সহকারী কমিশনারের পোস্ট, পরে হাসপাতালে ভর্তি