প্রযুক্তি উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির চার তরুণ
পরীক্ষা হলে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করবে এআই
- আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
একটি শ্রেণিকক্ষে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী একসঙ্গে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে গুগল ফর্মের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। কিন্তু এতসংখ্যক পরীক্ষার্থীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন মাত্র একজন বা দুজন শিক্ষক। ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ওপর সমানভাবে নজর রাখা, পরীক্ষার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা এবং সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্ত করা শিক্ষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এমন অবস্থায় একদিকে যেমন কিছু শিক্ষার্থীর অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ তৈরি হতে পারে, অন্যদিকে সৎভাবে প্রস্তুতি নেওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
এই সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সিলেটের মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের চার তরুণ শিক্ষার্থী। তাঁদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মের নাম “ঈযবধঃখড়পশ”। প্লাটফর্মটির লক্ষ্য, পরীক্ষার সময় সম্ভাব্য অনিয়ম শনাক্তকরণে প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া এবং শিক্ষক ও পরীক্ষকদের জন্য পরীক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণকে আরও কার্যকর করে তোলা।
আট মাসের প্রচেষ্টায় ঈযবধঃখড়পশ :
ঈযবধঃখড়পশ-এর ধারণা বিকাশ, সফটওয়্যার আর্কিটেকচার তৈরি, ডেভেলপমেন্ট এবং টেস্টিং - একাধিক ধাপ পেরিয়ে প্রায় আট মাস ধরে প্রকল্পটি নিয়ে কাজ করেছে দলটি। তাদের উদ্দেশ্য কেবল একটি অনলাইন পরীক্ষার অ্যাপ তৈরি করা নয়; বরং পরীক্ষার আয়োজন, পর্যবেক্ষণ, শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম বিশ্লেষণ এবং ফলাফল ব্যবস্থাপনাকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা।
প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত চার শিক্ষার্থী হলেন- জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স লিড; ঐতিহ্য সরকার অতিব, ওয়েব ও অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট লিড; আমানুর রহমান আমান, রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন লিড এবং সানদিদ হক চৌধুরী, বিজনেস অ্যানালিস্ট।
প্রযুক্তিগত উন্নয়ন থেকে শুরু করে গবেষণা, উদ্ভাবন, অ্যাপ ও ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ব্যবসায়িক পরিকল্পনা - বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে দলটি প্রকল্পটিকে একটি ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিপণ্যে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
কীভাবে কাজ করে ঈযবধঃখড়পশ? :
ঈযবধঃখড়পশ-এর প্রযুক্তিগত কাঠামোয় ব্যবহার করা হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), কম্পিউটার ভিশন এবং অডিও বিশ্লেষণভিত্তিক প্রযুক্তি। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের দৃশ্যমান আচরণ ও পরিবেশ থেকে সম্ভাব্য অনিয়মের সংকেত শনাক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্ল্যাটফর্মটির বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ক্যামেরার মাধ্যমে মুখের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ, মাথার অবস্থান ও দৃষ্টির দিক বিশ্লেষণ, একাধিক মুখ শনাক্তকরণ, সম্ভাব্য নিষিদ্ধ ডিভাইসের উপস্থিতি শনাক্তকরণ এবং অস্বাভাবিক শব্দ বা কথাবার্তার সংকেত বিশ্লেষণ।
পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যক্রমের ভিত্তিতে সতর্কতা তৈরি, পরীক্ষার্থীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির ব্যবস্থাও রয়েছে।
প্রচলিত অনলাইন পরীক্ষায় একজন শিক্ষককে একই সময়ে অনেক শিক্ষার্থীর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করতে হয়। ঈযবধঃখড়পশ-এর লক্ষ্য হলো প্রযুক্তির সহায়তায় এই কাজের একটি অংশ স্বয়ংক্রিয় করা, যাতে শিক্ষক বা পরীক্ষক প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত পর্যালোচনা করতে পারেন।
তবে কোনো শিক্ষার্থীর মাথা ঘোরানো, ক্যামেরার বাইরে তাকানো কিংবা আশপাশে শব্দ হওয়া মানেই অসদুপায় অবলম্বন নয়। তাই এআই থেকে পাওয়া সতর্কতাকে চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা না করে মানবিক পর্যালোচনার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা গুরুত্বপূর্ণ। ন্যায্য মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে এই নীতিকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
অনলাইন থেকে অফলাইন পরীক্ষা - বিস্তৃত প্রয়োগের লক্ষ্য ঈযবধঃখড়পশ-এর উদ্যোক্তারা প্ল্যাটফর্মটিকে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষার পরিবেশে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন। সম্ভাব্য প্রয়োগক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে অনলাইন পরীক্ষা, শ্রেণিকক্ষভিত্তিক পরীক্ষা, কম্পিউটার ল্যাবের ব্যবহারিক পরীক্ষা, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন, ভর্তি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা এবং অধ্যায়ভিত্তিক মডেল টেস্ট।
একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা যাতে পরীক্ষার ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং ফলাফল প্রস্তুতের কাজ একটি সমন্বিত ব্যবস্থার মাধ্যমে করতে পারেন, সে লক্ষ্যও রয়েছে।
বিশেষ করে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিলে সীমিত জনবল দিয়ে প্রত্যেকের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে এআই-সহায়ক ব্যবস্থা শিক্ষকদের কাজ সহজ করতে পারে। তবে বড় পরিসরে ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে প্রযুক্তির নির্ভুলতা, হার্ডওয়্যার সক্ষমতা, ইন্টারনেট সংযোগ এবং বিভিন্ন পরীক্ষার পরিবেশে কার্যকারিতা যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রত্যেক সৎ শিক্ষার্থীর ন্যায্য পরীক্ষাব্যবস্থা প্রাপ্য :
প্রকল্পটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে ঈযবধঃখড়পশ-এর রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন লিড আমানুর রহমান আমান বলেন, আমি বিশ্বাস করি, প্রত্যেক সৎ শিক্ষার্থীর একটি ন্যায্য ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষাব্যবস্থা প্রাপ্য, আর ঈযবধঃখড়পশ-এর মাধ্যমে আমরা সেটাই গড়ে তুলতে চাই।
দলটির মতে, পরীক্ষার স্বচ্ছতা শুধু অনিয়ম শনাক্ত করার বিষয় নয়; বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রস্তুতি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়িত হওয়ার বিষয়ে আস্থা রাখতে পারে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শিক্ষকদের পর্যবেক্ষণক্ষমতা বাড়াতে এবং পরীক্ষার ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংগঠিত করতে সহায়তা করতে পারে।
নকল করে ডিগ্রি অর্জন করা যায়, কিন্তু যোগ্যতা নয় :
পরীক্ষার সততা এবং ভবিষ্যৎ পেশাজীবীদের দক্ষতা গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরে ঈযবধঃখড়পশ-এর বিজনেস অ্যানালিস্ট সানদিদ হক চৌধুরী বলেন, নকল করে ডিগ্রি অর্জন করা যায়, কিন্তু যোগ্যতা নয়। আজকের অনলাইন পরীক্ষায় অসততা, আগামী দিনের জন্য হতে পারে ভয়ংকর ঝুঁকি। ঈযবধঃখড়পশ অঙ্গীকারবদ্ধ সৎ, যোগ্য ও দক্ষ পেশাজীবী গড়ে তুলতে।
তার বক্তব্যে উঠে এসেছে পরীক্ষার সততা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। একটি পরীক্ষার ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীর একাডেমিক অর্জনের পরিচায়ক নয়; এটি অনেক ক্ষেত্রে তার জ্ঞান, দক্ষতা ও প্রস্তুতির মূল্যায়ন হিসেবেও বিবেচিত হয়। তাই মূল্যায়নব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা শিক্ষার্থী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ভবিষ্যৎ নিয়োগদাতা - সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
ঈযবধঃখড়পশ-এর উদ্যোক্তারা মনে করেন, প্রযুক্তির সহায়তায় পরীক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ আরও কার্যকর করা গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বাড়াতে এবং প্রকৃত যোগ্যতার মূল্যায়নে সহায়তা করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তির পাশাপাশি নৈতিকতা, সঠিক নীতিমালা এবং মানবিক বিচারবোধের ভূমিকাও অপরিহার্য।
কোভিড-পরবর্তী ডিজিটাল শিক্ষার চ্যালেঞ্জ থেকে অনুপ্রেরণা :
কোভিড-১৯ মহামারির পর বিশ্বজুড়ে অনলাইন শিক্ষা ও ডিজিটাল মূল্যায়নের ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দূরবর্তী স্থান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে অনলাইন পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষার নিয়ম অনুসরণ নিশ্চিত করা এবং মূল্যায়নের ওপর আস্থা বজায় রাখা এখনও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।
এই বাস্তবতা থেকেই ঈযবধঃখড়পশ তৈরির অনুপ্রেরণা পেয়েছে দলটি।
তাদের লক্ষ্য, এমন একটি প্রযুক্তিপ্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, যা অনলাইন পরীক্ষার পাশাপাশি উপযুক্ত প্রযুক্তিগত পরিবেশে শ্রেণিকক্ষ ও ল্যাবভিত্তিক পরীক্ষায়ও কাজে লাগতে পারে।
দলটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হলো বাংলাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্ল্যাটফর্মটির ব্যবহার সম্প্রসারণ করা। তাদের প্রত্যাশা, পরীক্ষার ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু সময় ও শ্রম সাশ্রয় করবে না; বরং মূল্যায়নের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতেও ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সাফল্য :
ঈযবধঃখড়পশ দলটি ইতিমধ্যে রয়েছে অনেক জাতীয় অর্জন। এগুলোর মধ্যে, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ওফবধ ঃড় ওসঢ়ধপঃ প্রতিযোগিতায় তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ঈটঊঞ-এর ঝপরইষরঃু ২০২৬-এ প্রকল্প প্রদর্শনী বিভাগে প্রথম রানার-আপ হওয়ার পাশাপাশি হ্যাকাথনে বাংলাদেশের ১০৮টি দলের মধ্যে ষষ্ঠ স্থান অর্জনের কথাও জানিয়েছে দলটি। এ ছাড়া উটঊঞ ঈঝঊ ঈধৎহরাধষ ২০২৬-এ পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে তারা।
এসব অর্জন তরুণ শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, গবেষণা এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানভিত্তিক উদ্যোগের প্রতি আগ্রহের পরিচয় বহন করে। একই সঙ্গে প্রকল্পটিকে আরও উন্নত করা এবং বৃহত্তর পরিসরে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে এসব অভিজ্ঞতা দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
উদ্যোক্তাদের চোখে ঈযবধঃখড়পশ :
স্বপ্ন থেকে বাস্তবতায় ঈযবধঃখড়পশ শুধু একটি প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপ নয়; বরং চার তরুণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন, বন্ধুত্ব, পরিশ্রম ও উদ্ভাবনী চিন্তার সম্মিলিত প্রতিফলন। প্রকল্পটির ডেভেলপমেন্ট লিড (ওয়েব অ্যান্ড অ্যাপ) ঐতিহ্য সরকার অতিব বলেন, ঈযবধঃখড়পশ আমাদের একটি ড্রিম প্রজেক্ট। আড্ডার টেবিলে জন্ম নেওয়া একটি ধারণা থেকে জাতীয় পর্যায়ের সাফল্য, হ্যাকাথন পেরিয়ে আজ ইন্ডাস্ট্রির পথে - এই যাত্রাটা আমাদের কাছে সত্যিই অসাধারণ। জুবায়ের, সানদিদ ও আমানকে টিমমেট হিসেবে পেয়ে আমি গর্বিত। আমাদের পথচলা তো সবে শুরু। সামনে যেতে চাই আরও বহুদূর!
অন্যদিকে, প্রকল্পটির প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বিভাগের দায়িত্বে থাকা জুবায়ের রহমান চৌধুরী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে তা মানুষের জীবনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও উন্নত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ব ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। প্রযুক্তির এই সম্ভাবনার একটি বাস্তব উদাহরণ আমরা ঈযবধঃখড়পশ-এর মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ শুধু বাংলাদেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; ভবিষ্যতে জাতীয় গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উদ্যোক্তাদের বিশ্বাস, গবেষণা, উদ্ভাবনী চিন্তা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার সমন্বয়ে তৈরি ঈযবধঃখড়পশ ভবিষ্যতে ডিজিটাল পরীক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে তাঁদের এই উদ্যোগ দেশের তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে।
সামনে কী? :
ঈযবধঃখড়পশ-এর পরবর্তী লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে প্ল্যাটফর্মটির নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো, বাস্তব পরীক্ষার পরিবেশে কার্যকারিতা যাচাই করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজের সুযোগ তৈরি করা এবং ব্যবহারকারীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন চালিয়ে যাওয়া। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা, তথ্যের নিরাপত্তা, ভুল সতর্কতার ঝুঁকি কমানো এবং এআই-এর সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া কোনো সতর্কতার ভিত্তিতে যেন যথাযথ পর্যালোচনা ছাড়া শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের শিক্ষা প্রযুক্তির বিকাশে ঈযবধঃখড়পশ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে সামনে আসছে। মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির চার শিক্ষার্থীর এই প্রচেষ্টা দেখায়, স্থানীয় পর্যায়ের বাস্তব সমস্যাকে কেন্দ্র করেও তরুণরা প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যেতে পারেন।
পরীক্ষা আরও ডিজিটাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনও বাড়ছে। ঈযবধঃখড়পশ-এর উদ্যোক্তারা সেই প্রয়োজনেরই একটি প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান গড়ে তুলতে চান - যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষকদের বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পরীক্ষার পরিবেশকে আরও ন্যায্য, স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করে তোলার সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ