ঐতিহাসিক বাঁশতলায় নান্দনিক স্থাপনার নামকরণ নিয়ে ক্ষোভ
- আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:১১:০৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:১১:০৭ পূর্বাহ্ন
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি ::
মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহাসিক বাঁশতলায় নির্মিত নান্দনিক স্থাপনার নামকরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত স্থাপনাটির নাম রাখা হয়েছে ‘বিউটিফুল দোয়ারাবাজার’। তবে স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহাসিক বাঁশতলায় অবস্থিত স্থাপনাটির নামকরণে এই জনপদের নিজস্ব পরিচয়ও প্রতিফলিত হতে হবে। এ দাবিতে শুক্রবার বাংলাবাজারের শহীদ মিনারে প্রতিবাদ জানান স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা। তাদের মধ্যে ছিলেন সমাজসেকব মোরশেদ আলম, আব্দুল আজিজ ও জামাল তালুকদারসহ আরও অনেকে।
নামকরণের বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা চলছে। বাঁশতলার বাসিন্দা সমাজকর্মী জামাল তালুকদার স্থাপনাটির নাম ‘বাঁশতলা, দোয়ারাবাজার, সুনামগঞ্জ’ অথবা ‘স্বাগতম বাঁশতলা’ রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, প্রশাসনের উন্নয়ন উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও স্থাপনাটির অবস্থান ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বাঁশতলার নাম অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, মাহমুদুল হোসাইন ‘বাঁশতলা পর্যটনকেন্দ্র’ নামকরণের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তঘেঁষা পাহাড়, সবুজ প্রকৃতি ও মেঘের সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকেরা এখানে আসেন। তাই পর্যটনস্থল হিসেবে বাঁশতলার পরিচিতি প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের নাম কার্যকর হতে পারে। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি প্রস্তাবটি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন নামকরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি এলাকার সড়ক যোগাযোগের দুরবস্থার কথাও তুলে ধরেছেন। তাঁর অভিযোগ, আননপাড়া থেকে হকনগর বাজার পর্যন্ত ভাঙা সড়ক সংস্কারের জন্য একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের কাছে বরাদ্দ চেয়েও পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, সড়ক সংস্কারের মতো জরুরি জনদুর্ভোগ নিরসনে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেও বাঁশতলার রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। ১৯৭১ সালে এলাকাটি ছিল ৫ নম্বর সেক্টরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাব-সেক্টর। এখানে রয়েছে শহীদদের কবর ও স্মৃতিসৌধ। সরকারি পর্যটনবিষয়ক তথ্যেও স্থানটি ‘বাঁশতলা স্মৃতিসৌধ’ নামে পরিচিত। আমার বিবেচনায়, দোয়ারাবাজারের প্রশাসনিক পরিচয়ের পাশাপাশি বাঁশতলার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ও যথাযথভাবে তুলে ধরা জরুরি।
স্থানীয়দের মূল দাবি, উন্নয়ন উদ্যোগের বিরোধিতা নয়; বরং স্থাপনাটির নামকরণে বাঁশতলার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও স্থানীয় পরিচয়কে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পুনর্বিবেচনা ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এবিষয়ে জানতে চাইলে দোয়ারাবাজার উপজেলার বিদায়ী ইউএনও অরূপ রতন সিংহের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি