এইচএসসির ফল বিপর্যয় : দায় এড়ানোর সুযোগ নেই
- আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬ ১১:২৯:৫৭ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৬ ১১:২৯:৫৭ অপরাহ্ন
সিলেট শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল এবার শিক্ষাব্যবস্থার গভীর সংকটের চিত্র সামনে এনেছে। গত ২০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ বোর্ডের অর্ধেক পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি। হাওরাঞ্চলের জেলা সুনামগঞ্জের ফল আরও হতাশাজনক। এ জেলায় পাসের হার মাত্র ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ১৩ হাজার ৬৬৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৬ হাজার ২৮৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪৬ জন। দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। এ ফলাফল কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতার হিসাব নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থার বিদ্যমান দুর্বলতা ও বৈষম্য নিয়ে আত্মসমালোচনারও তাগিদ দেয়।
পরীক্ষার ফল খারাপ হলেই শিক্ষার্থীদের অমনোযোগ, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা কিংবা অভিভাবকদের অসচেতনতাকে দায়ী করে আলোচনা শেষ করা সহজ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত সাফল্য নিশ্চিত করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রশাসন ও রাষ্ট্র কতটা দায়িত্ব পালন করেছে? শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান, পর্যাপ্ত শিক্ষক, মানসম্মত শিক্ষা উপকরণ, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিতকরণ এবং কার্যকর তদারকি - এসব নিশ্চিত না করে ভালো ফল প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়।
সুনামগঞ্জের মতো হাওরপ্রধান জেলায় শিক্ষার চ্যালেঞ্জ আরও জটিল। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা, নৌপথনির্ভর যাতায়াত এবং আর্থসামাজিক সীমাবদ্ধতা অনেক শিক্ষার্থীর নিয়মিত পড়াশোনায় বাধা সৃষ্টি করে। কোথাও শিক্ষকের সংকট, কোথাও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব, আবার কোথাও শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার ঝুঁকি - এসব বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে সার্বিক ফলাফল মূল্যায়ন করলে প্রকৃত সমস্যার সমাধান হবে না। পিছিয়ে থাকা অঞ্চলগুলোর জন্য প্রয়োজন বিশেষ পরিকল্পনা ও বাড়তি সহায়তা।
এবারের ফলাফলে মেয়েরা পাসের হারে এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেরা এগিয়ে। বিজ্ঞান বিভাগেও সাফল্যের হার তুলনামূলক বেশি। এসব পরিসংখ্যান শিক্ষার্থীদের বিভাগভিত্তিক প্রস্তুতি, পাঠদানের মান এবং শিক্ষাসহায়তার সুযোগ নিয়ে বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। একই সঙ্গে দুটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ অকৃতকার্যতার ঘটনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান ও ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখার দাবি রাখে।
তবে ফল বিপর্যয়ের দায় চাপিয়ে দেওয়া কিংবা শিক্ষার্থীদের হতাশায় নিমজ্জিত করাই সমাধান নয়। প্রয়োজন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ, দুর্বল বিষয়গুলো শনাক্ত করা, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সহায়ক কার্যক্রম চালু করা। যেসব প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি, সেখানে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সমস্যার প্রকৃত কারণ বের করতে হবে।
শিক্ষা জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রধান ভিত্তি। তাই সিলেট বোর্ডের এই ফলাফলকে নিছক একটি পরীক্ষার পরিসংখ্যান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের শিক্ষার্থীরা কেন পিছিয়ে পড়ছে, তার উত্তর খুঁজে বের করতে হবে এখনই। ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আগামী বছরও একই হতাশার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত শিক্ষা সবার নাগালে পৌঁছে দেওয়াই হোক এখনকার প্রধান অগ্রাধিকার।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়