নতুন পে স্কেলে বেতন পেলেন অনেকে, অপেক্ষায় বাকিরা
- আপলোড সময় : ০২-১১-২০২৬ ১২:০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-১১-২০২৬ ১২:০৫:৫০ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী অক্টোবর মাসের বেতন পেয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রবিবার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে তাদের মোবাইলে বেতন জমা হওয়ার বার্তা আসতে শুরু করে। অক্টোবরের নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বাড়তি বেতনের বকেয়া অর্থও তাদের হিসাবে জমা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং আট লাখ পেনশনভোগীর অধিকাংশই নতুন বেতনকাঠামোর সুবিধা পেয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেতন নির্ধারণ বা পে ফিক্সেশন স¤পন্ন করতে না পারায় কিছু কর্মচারী এবার বেতন পাননি। ২৫ অক্টোবরের মধ্যে যাদের বেতন নির্ধারণ স¤পন্ন হয়েছিল, তারাই রবিবার বেতন পেয়েছেন। বাকিরা আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে বেতন পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকাল ১০টার পর থেকেই তাদের মোবাইলে নতুন বেতনের হিসাব অনুযায়ী অর্থ জমার বার্তা আসে। যাদের পে ফিক্সেশন এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এদিকে প্রায় ছয় লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষকের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরাও শিগগিরই নতুন পে স্কেলের আওতায় আসছেন। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি তিনি।
নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করতে গিয়ে কিছু জটিলতার কথাও জানা গেছে। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য অর্থসচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের কাছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের মধ্যে অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরা রয়েছেন।
কর্মচারীদের অভিযোগ, নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও গ্রেডের ক্রমে কিছু অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বাড়িভাড়া ভাতা নিয়েও জটিলতা রয়েছে। এর ফলে কেউ কেউ প্রত্যাশিত আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পদোন্নতির পরও মোট আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব সমস্যার এখনো সমাধান হয়নি।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডে মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হচ্ছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাচ্ছেন। এই অর্থ গত ৩০ জুন আহরিত বা প্রাপ্য মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়তি মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিসহ নতুন বেতন স্কেলের শতভাগ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
অন্যদিকে, অন্যান্য ভাতা ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২০২৬ সালের ৩০ জুনে প্রচলিত হারেই দেওয়া হবে। নতুন প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত সংশোধিত ভাতার হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।
এর আগে সর্বশেষ জাতীয় বেতনকাঠামো চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। সে সময় সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। এবার নতুন কাঠামোয় মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক