মাদক ও চুরি প্রতিরোধে তিন ইউনিয়নবাসীর জনসভা
মঙ্গলকাটায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের আশ্বাস ওসি’র
- আপলোড সময় : ০৬-১১-২০২৬ ০৯:৫৪:২৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-১১-২০২৬ ০৯:৫৪:২৪ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার রঙ্গারচর, জাহাঙ্গীরনগর ও সুরমা ইউনিয়নে মাদক ও চুরির বিস্তার রোধে প্রতিরোধমূলক যৌথ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহ¯পতিবার বিকালে মঙ্গলকাটা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মাদক ও চুরি বিরোধী তিন ইউনিয়নের আহ্বায়ক কমিটির উদ্যোগে এ জনসভার আয়োজন করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রঙ্গারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিন ইউনিয়নের মাদক ও চুরি বিরোধী কমিটির আহ্বায়ক মো. আবদুল হাই।
জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক ছাত্রনেতা মো. জাহাঙ্গীর আলম সভা সঞ্চালনা করেন।
সভায় প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল এলাকায় মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন, গরু চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ, জাহাঙ্গীরনগর ইউপি চেয়ারম্যান রশিদ আহমদ, সুরমা ইউপি চেয়ারম্যান মো. খুরশেদ আহমদ, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. উছমান গণী, জেলা বিএনপি নেতা রেজাউল হক ও জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি সুহেল আহমদ।
এছাড়াও বক্তব্য দেন জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলহাজ আব্দুল লতিফ, সুরমা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাজুল মিয়া, ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মো. তাহের আলী, ব্যবসায়ী জাকির হোসেন, সমাজসেবক নুরুল ইসলাম, শিক্ষক খোরশেদ আহমদ ও হাফিজুর রহমান সজিব।
এ সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতাউর রহমান সজিব, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক জুবায়ের আহমদ, সমাজসেবক তাজুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মমিন মিয়া ও সমাজসেবক বাহাউদ্দিন খন্দকার বাহারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বলেন, এলাকার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় খোঁজ নিয়ে মাদকসেবী, মাদক কারবারি ও চোরদের চিহ্নিত করতে হবে। মাদকের কারণে এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। মাদকসেবীদের মাতলামি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এসব অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, মাদক ও চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবীদের না দাঁড়ানোর জন্যও অনুরোধ জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে মো. আবদুল হাই বলেন, বাসস্থান, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আমরা উন্নত হয়েছি। কিন্তু সমাজকে এখনো চুরি ও মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পারিনি। আমরা অনেক সময় চোরকে চোর বলতেও সাহস পাই না। একজন চোরকে জেলে পাঠানোর পরও ওই রাতেই আবার চুরির ঘটনা ঘটে। এমনকি অনেক প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানও চুরির মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
গরু চুরি বন্ধে মাংস ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গরুর ছবি, ক্রেতা-বিক্রেতার ছবি সংরক্ষণ এবং মসজিদের ইমামকে দিয়ে জবাই করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এতসব উদ্যোগের পরও চুরি হওয়া গরু জবাই করে বিক্রির ঘটনা বন্ধ হয়নি। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের বাধা দিলে তারা বাধাদানকারীদের শত্রু মনে করে এবং সুযোগ পেলে হামলা চালায়। তাই মাদক ব্যবসায়ী, সেবনকারী ও তাদের সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি রতন শেখ বলেন, চুরি প্রতিরোধে এলাকাবাসীকে নিজেদের উদ্যোগে পাহারার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রত্যেকে পালাক্রমে পাহারা দিলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হবে। একটি গরু একজন দরিদ্র মানুষের সারা জীবনের স্বপ্ন। চোর-ডাকাতের কারণে সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ভেঙে যায়।
তিনি বলেন, চুরি, ডাকাতি, জুয়া ও মাদক নির্মূলের পাশাপাশি সুদের বিরুদ্ধেও সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। এ সময় তিনি মঙ্গলকাটা বাজার এলাকায় একটি পুলিশ ক্যা¤প স্থাপনের আশ্বাস দিয়ে জানান, এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মহোদয় উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করছেন।
জনসভায় মঙ্গলকাটা সমাজকল্যাণ যুব সংঘের উদ্যোগে একটি বিশাল মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। তিন ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ