সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ

৭১ ভুলে গেলে চলবে না, রাজনৈতিক দলকে প্রতিপক্ষ বানাবেন না : মির্জা ফখরুল

  • আপলোড সময় : ১৪-১২-২০২৪ ০৮:৫৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-১২-২০২৪ ০৮:৫৩:৪৮ পূর্বাহ্ন
৭১ ভুলে গেলে চলবে না, রাজনৈতিক দলকে প্রতিপক্ষ বানাবেন না : মির্জা ফখরুল
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকে ভুলে গেলে চলবে না বলে মনে করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের বক্তব্য প্রত্যাহার করা উচিত। তিনি বলেন, দয়া করে রাজনৈতিক দলগুলোকে বা রাজনীতিকে আপনাদের প্রতিপক্ষ বানাবেন না। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই মন্তব্য করেন। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজনে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) বুদ্ধিজীবী দিবসের দিন সকাল ১১টায় বিএনপির নেতারা মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। রাজনৈতিক দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে বলে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম যে বক্তব্যে দিয়েছেন তার প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, একজন উপদেষ্টা যখন এই কথা বলেন যে, রাজনৈতিক দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য কাজ করছে - এটা গুরুতর অভিযোগ। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের উক্তি তার প্রত্যাহার করা উচিত। বিএনপি মহাসচিব যোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে বা রাজনীতিকে আপনাদের প্রতিপক্ষ বানাবেন না। রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের সহযোগিতা করছে। সেখানে আপনি যদি বলেন, এটা ব্যর্থ করার জন্য কাজ করছে। আমাদের চেয়ারম্যান বলেছেন, আমরা হাজার বার বলেছি, এই সরকার ব্যর্থ হওয়া মানে, জনগণ ব্যর্থ হয়ে যাবে, আমরা ব্যর্থ হয়ে যাবো। তাহলে এ রকম কথা কেনও বলবেন আপনি? একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানসহ বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, একাত্তর একটু পেছনে রাখার এখন একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটা আরেকটা ষড়যন্ত্রের অংশ। দেশের মূল ইতিহাস থেকে জাতিকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। বিএনপি মহাসচিব সতর্ক করে বলেন, আমাদের মূল যে ইতিহাস, আজ এই স্বাধীন বাংলাদেশ, এই ইতিহাস নিয়ে এসে আমরা ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি। সেই ইতিহাস যেন বিকৃত না করি। গত ১৫ বছর ধরে ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে, ঠিক তেমনই করে এখন যাতে ইতিহাস বিকৃত না হয়, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ করছি। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসুন এই শপথ নেই - আমরা নিজেদের গড়ে তুলবো একটি উপযোগী রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেব, গণতন্ত্রের কর্মী হিসেবে এবং বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে। মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্রের কথা আমরা বলছি, সেই গণতন্ত্র একটা কথার কথা নয়। এটা একটা কালচার, এটা একটা সংস্কৃতি। আপনি-আমি কীভাবে কথা বলবো, প্রতিবেশীর সঙ্গে আমার কেমন কথা বলবো, আমার রাজনীতির প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে কথা বলবো, সেই বিষয়গুলো আমাদের গণতন্ত্রের ভেতর দিয়ে শিখতে হবে। গণতন্ত্র মানে এই নয় যে, আওয়ামী লীগ করলে তাকে গলা কেটে ফেলো; আর বিএনপি করলে তার মু-চ্ছেদ করো। গণতন্ত্র হচ্ছে, পরমত সহিষ্ণুতা। তোমার কথা বলার অধিকার আছে, আমার বিরুদ্ধেও কথা বলার অধিকার আছে। আমি সেটাকে রক্ষা করবো এটাই হলো গণতন্ত্র। মির্জা ফখরুল বলেন, এখন সময়টা সবচেয়ে কঠিন। আপনার একটা পদক্ষেপ যদি ভুল হয়, পেছনে পড়ে যাবেন, খাদে পড়ে যাবেন। যদি সঠিকভাবে পা দিতে পারেন, তাহলে সামনে এগিয়ে যাবেন। শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই দিবসগুলো আপনারা অবহেলা করবেন না, জানার চেষ্টা করবেন। অনেকে জানেই না কী হয়েছিল। ওই দিন কী তালি মারার দিবস, না তালি মারার দিবস না; ওই দিন কি মিলাদ করার দিবস, না খিচুড়ি খাওয়ার দিবস...। আমাদের দেশের সবচেয়ে বরেণ্য ব্যক্তিদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে ভালো শিক্ষকদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের তুলে নিয়ে গেছে। ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদেরও তুলে নিয়ে যেতো। আমাদের গুম করে দিতো, ঠিক ওইভাবে তাদের (শহীদ বুদ্ধিজীবীদের) তুলে নিয়ে গেছে। বাসা থেকে নেওয়ার সময়ে জিজ্ঞেস করা হতো, কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন। তারা বলতো, কিছুক্ষণ পরে চলে আসবে। এভাবে নিয়ে গেছে। নেওয়ার পর আর ফিরে আসেনি। রায়ের বাজারে তাদের হাত-পা বাধা মরদেহ পাওয়া গেছে। এটা আমাদের মনে রাখতে হবে, বুদ্ধিজীবীদের কেনও প্রাণ দিতে হলো। তখনও আয়নাঘরের মতো ঘর ছিল। আয়নাঘরে কেন নিয়ে যাওয়া হয়েছে ছেলেদের? কেনও নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের? একটাই উদ্দেশ্য ছিল, ভয় পাইয়ে দেওয়া, শেষ করা, ধবংস করা। কেন? হাসিনার ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে হবে, সে জন্য আয়নাঘরে নিয়ে যাওয়া হতো - যোগ করেন মির্জা ফখরুল। বৃহ¯পতিবার লন্ডন থেকে দেশে ফেরা বিএনপি মহাসচিব বলেন, প্রতিটি মুহূর্ত এখন আমাদের সর্তকতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে। আমাদের প্রতিটি কথা মেপে বলা দরকার। আমরা এমন কোনও কথা বলবো না যা আমাদের বিজয়কে নষ্ট করে দেয়, অর্জনকে বিনষ্ট করে দেয়। বিএনপির প্রচার স¤পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মামুন আহমেদ প্রমুখ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ