সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ
শীতের দাপট

বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ, বেশি আক্রান্ত শিশু

  • আপলোড সময় : ২৪-০১-২০২৫ ০৯:৪৬:৫০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০১-২০২৫ ০৯:৪৭:৩৮ পূর্বাহ্ন
বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগ, বেশি আক্রান্ত শিশু ছবি: গতকাল সদর হাসপাতালে সিট না থাকায় ফ্লোরেই শিশুর চিকিৎসা নিচ্ছেন এক মা
তানভীর আহমেদ :: সুনামগঞ্জে গত দুইদিন ধরে চলছে শীতের দাপট। দিনভর কুয়াশায় আচ্ছাদিত থাকছে চারপাশ। পাশাপাশি হিমেল হাওয়ার কারণে অনুভূত হচ্ছে তীব্র শীত। শীতের প্রকোপের সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডা জনিত রোগ। ঠান্ডা জনিত এসব রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। রোগীদের ভিড় বাড়ছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে। যার কারণে বাড়তি চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে কথা হয় ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত দেড় বছর বয়সী মাহমুদুল হাসানের মা মোছা. সুজনা বেগমের সাথে। এসময় তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তার ছেলেকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সিরাজপুর (বাগগাঁও) থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছেন জেলা সদর হাসপাতালে। শিশুটি সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত। হাসপাতালে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে ভর্তি করার কথা বলেন। পরে তিনি তার ছেলেকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। ভর্তি করার পর তার শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় শিশুটির মা সুজনা বেগম নেবুলাইজেশনের মাধ্যমে তার ছেলের শ্বাসকষ্ট কমানোর চেষ্টা করেছিলেন। সুজনা বেগম বলেন, দুই তিন দিন ধরে ছেলেটার সর্দি-জ্বর হইছে, কিছুটা শ্বাসকষ্টও আছে। প্রাথমিকভাবে এলাকায় চিকিৎসা করাইছি, সর্দি-জ্বর না কমায় এখন সদর হাসপাতালে নিয়ে আসছি। হাসপাতালে আসার পর চিকিৎসক ভর্তি করার কথা বলছেন। ভর্তি করছি কিন্তু কোনো সিট পাইছি না। রোগীর যে ভিড় তাই বাধ্য হয়ে ফ্লোরে থাকা লাগবো মনে হচ্ছে। হাসপাতালে শুধু মাহমুদুল হাসান নয়, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একে একে নয় শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের স্বজন কিংবা বাবা-মা নেবুলাইজেশনের মাধ্যমে তাদের শিশুদের শ্বাসকষ্ট কমানোর চেষ্টা করছিলেন। আবার অনেকেই আউটডোরে চিকিৎসা সেবা নিয়ে বাড়িতে চলে যান। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের দেয়া তথ্য মতে, হঠাৎ করে ঠান্ডা বেড়ে যাওয়ায় গত তিন দিন ধরে শিশু ওয়ার্ডে অন্তত ২০ থেকে ৩০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ শিশুই সর্দি-কাশি, জ্বর, নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত। গত বুধবার (২৩ জানুয়ারি) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন ৯০ জন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে ১৭ জন শিশু। এছাড়া উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে রেফার করা হয়েছে ২ জনকে। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার বেলা ১টা পর্যন্ত হাসপাতালে নতুন করে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৯ শিশু। ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত বেশিরভাগ শিশুর বয়স ১ বছরের মধ্যে। চিকিৎসকগণ বলছেন, হঠাৎ করে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের মধ্যে ঠান্ডা জনিত রোগের দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিকভাবে শিশুদের যত্ন নিলেই এই ধরনের সমস্যা দ্রুত কমবে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নলুয়া গ্রামের ১৪ মাস বয়সী মাহিদা সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় তার মা কল্পনা বেগম তাকে নিয়ে এসেছেন সদর হাসপাতালে। হাসপাতালে আসার পর ডাক্তার জানিয়েছেন ঠান্ডা জনিত কারণে মাহিদার নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। মাহিদার মা কল্পনা বেগম বলেন, হঠাৎ করে সর্দি লাগছে বাচ্চাটার, কিছুটা জ্বরও আছে, তারপর হাসপাতালে নিয়ে আসি। আসার পর জানতে পারলাম ঠান্ডায় নিউমোনিয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এখন চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক চিকিৎসা নিতেছি। অনদিকে সদর উপজেলার আলমপুর গ্রামের ৬ মাস বয়সী শিশু বুশরাকে নিয়ে এসেছেন তার মা মিনহা বেগম। তিনি জানান, গত ৪-৫ দিন ধরে সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করেছি, কিছুটা কমেছিল। কিন্তু গত ২ দিন ধরে হঠাৎ করে ঠান্ডা আরও বেড়ে যাওয়ায় সর্দির পাশাপাশি জ্বরও দেখা দিয়েছে। গত বুধবার রাতে শ্বাসকষ্টের দেখা দিয়েছে। এজন্য সকালে সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে নেবুলাইজেশনের মাধ্যমে শ্বাসকষ্ট কমানোর চেষ্টা করছি। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের বিভিন্ন ঠান্ডা জনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ অনেকটা বেড়েছে। তবে বাড়তি চাপের মধ্যেও হাসপাতালের চিকিৎসকরা সর্বক্ষণিক রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ