সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ , ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি কার্যালয়ে বীজের মজুত ও বিক্রির অভিযোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদের প্রস্তুতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা পোশাক কারখানা সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাবা-মা-ভাইবোনসহ ছাত্রলীগ নেতার পুরো পরিবার গ্রেফতার, সঙ্গে ৩ বন্ধুও শীতকালীন সবজি চাষে নেই প্রণোদনা, ভালো দাম, প্রকৃতি ভরসা কৃষকের জাতীয় যুব দিবস পালিত ছাতকে আমন ধান কাটা উৎসব তাহিরপুরে নামমাত্র শিশু পার্ক, দুই বছরেও চালু হয়নি কার্যক্রম জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠল গাগলী সুপার লীগ সিজন-৪ এর এইচএসসিতে সুনামগঞ্জের দুই কলেজে পাস করেনি কেউ শাল্লায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ তাহিরপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, অর্ধেকই ফেল, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ জন এমপি নূরুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, প্রতিবাদে সোচ্চার বিএনপি নেতাকর্মীরা

পাগনার হাওরের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না, বোরো চাষে অনিশ্চয়তায় ৫০ গ্রামের কৃষক

  • আপলোড সময় : ২৫-০১-২০২৫ ১২:২৪:৪৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৫-০১-২০২৫ ১২:২৪:৪৬ অপরাহ্ন
পাগনার হাওরের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না, বোরো চাষে অনিশ্চয়তায় ৫০ গ্রামের কৃষক
শহীদনূর আহমেদ :: মাঘ মাসের এই সময়টাতে যেখানে হাওরে ধান গাছে সবুজের সমারোহ দেখার কথা, কিন্তু সেখানে ঢেউ খেলছে থৈ থৈ পানি। সময়মতো পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় জলাবদ্ধতার কারণে বোরো চাষ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ৫০ গ্রামের কৃষক। এই অবস্থা জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরের। পানি নিষ্কাশন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার কবলে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকরা। জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সংশ্লিষ্টদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও প্রতিকার না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় কয়েক হাজার কৃষক। জরুরি ভিত্তিতে হাওরের পানি নিষ্কাশন না করা হলে অনাবাদি থেকে যাবে এই হাওরের অন্তত ৫ হাজার হেক্টর জমি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট হাওরপাড়ের কৃষকরা। সুনামগঞ্জ জেলার ৯৫টি হাওরের মধ্যে অন্যতম পাগনার হাওর। পাগনার হাওরে ১৬ হাজার ১১৭ হেক্টর জমির মধ্যে আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ রয়েছে ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর। এই হাওরের ফসল ঘরে তুলতে পারলেই হাসি ফুটে দুর্গম এলাকার প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের মুখে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে এই হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় ঠিকমতো বোরো চাষাবাদ করতে পারছেন কৃষকরা। চলতি বোরো মৌসুমেও জলাবদ্ধতার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। পাগলার হাওরপাড়ের কৃষকরা জানিয়েছেন, হাওরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম দুইটি খাল হচ্ছে গজারিয়া ও ডালিয়া খাল। উজান থেকে আসা পলি মাটিতে খালের উৎসমুখ ভরাট হয়ে যাওয়ায় হাওরের পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। ফলে কৃষকের জমিতে পানি আটকে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। যেখানে মওসুমের এই সময়টাতে ধানের চারার সবুজের সমারোহ দোল খাওয়ার কথা সেখানে হাওরে ঢেউ খেলছে জলাবদ্ধতার পানি। এতে বিপাকে পড়েছেন জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ও ফেনারবাক ইউনিয়নের পাগনার হাওরপাড়ের ৫০ গ্রামের কৃষক। ফেনারবাঁক গ্রামের শাহ আলম নামের এক কৃষক বলেন, হাওরে আমার ৪০ কেয়ার জমি রয়েছে। জমিতে এখনো কোমরের নিচে পানি। পানি না কমায় চাষাবাদ করা যাচ্ছে না। আমার মতো হাজারো কৃষক রয়েছেন যাঁরা এক কেয়ার জমিও রোপণ করতে পারেননি। চাষাবাদের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে কিন্তু হাওরে থেকে পানি সরছে না। গজারিয়া খাল খনন করে পানি নিষ্কাশনের জন্য চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়েছি কিন্ত কেউ আমাদের কথা আমলে নিচ্ছেন না। রইস উদ্দিন চৌধুরী নামের আরেক বুনিয়াদি কৃষক বলেন, এক ফসলি জমির উপর আমাদের নির্ভর করতে হয়। ধান চাষ না করতে পারলে পরিবার-পরিজন চালানো কষ্ট হয়ে যায়। জলাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার কৃষক তাদের জমি রোপণ করতে পারেনি। আমি নিজেও ভুক্তভোগী। জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কাজ হয়নি। এখন আমাদের ভরসা কেবল উপরওয়ালার প্রতি। হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য গত অর্থ বছরে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে গজারিয়া খাল খননের উদ্যোগ নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। অপরিকল্পিত খনন কাজ এবং লুটপাটের কারণে এই প্রকল্প সাফল্যের মুখ দেখেনি বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় কৃষক নেতা জুলফিকার চৌধুরী রানা বলেন, পাগনার হাওরের পানি নিষ্কাশন গজারিয়া ও ডালিয়া খাল দিয়ে হয়ে থাকে। গত বর্ষায় খালের স্লুইসগেইট খুলে পানি প্রবেশ করানো হয় হাওরে। এসময় উজানের পলি এসে খালের উৎসমুখ ভরাট হয়ে যায়। এ কারণে এবার হাওরের পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। আমরা দীর্ঘদিন ধরে খাল খননের দাবি জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খাল খননের নামে ভাউতাভাজি প্রকল্প দিয়ে অনিয়ম লুটপাট করে থাকেন। দ্রুত সময়ে খাল খনন করে হাওরের জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনের দাবি তার। হাওরের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমস্যা নিরসনে খাল খননের কথা জানিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জনি বলেন, পাগনার হাওরের পানি নিষ্কাশন না হওয়ার একামাত্র কারণ খাল ভরাট হয়ে যাওয়া। আমরা বিগত সময়ে ছোট ছোট প্রকল্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটির কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। জলাবদ্ধতার স্থায়ি সমাধানে বড় একটি প্রকল্পের মাধ্যমে খনন কাজ করা জরুরি বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে আবারও খাল খননের জন্য প্রকল্প গ্রহণে কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। আশা করছি প্রকল্পের অনুমোদন হলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমস্যার সমাধান হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ

প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ