সুনামগঞ্জ , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ , ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে দুই দিনব্যাপী মহালয়া উৎসব সম্পন্ন দিরাই প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন সড়কপথে পাচার হচ্ছে লুটের বালু, রাতের আঁধারে অর্ধশতাধিক যানবাহনে বালু পরিবহন, ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিককে হেনস্তা নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাভি পিল্লাই ৬৪ জেলায় কনস্টেবল নিয়োগ দেবে পুলিশ আজ শুভ মহালয়া আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ সুনামগঞ্জে বাণিজ্য মেলা ঘিরে নতুন প্রত্যাশা প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসছে ৩৩ কোটি টাকার যন্ত্রপাতি পথে যেতে যেতে: পথচারী তাহিরপুরে আবারও সংঘর্ষের প্রস্তুতি, লাঠি হাতে পরিস্থিতি শান্ত করলেন এমপি কামরুল ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে বিদায়ী সম্মাননা প্রদান ‎সাচনা বাজারে আইএফআইসি ব্যাংকের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত, এক পরিবারে একাধিক সারের ডিলারশিপ নয় সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জে সড়ক-সেতু পুনর্নির্মাণে ৩৮৭ কোটি টাকা অনুমোদন জেলা পরিষদ প্রশাসকের সাথে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ৫ বছরেও স্থায়ী ঠিকানা পায়নি সুবিপ্রবি, ভাড়া ভবনে চলছে কার্যক্রম মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৫ গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

নদী ভাঙন আতঙ্কে সুরমাপাড়ের মানুষ

  • আপলোড সময় : ১৩-০২-২০২৫ ১১:১৮:০৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-০২-২০২৫ ১১:১৮:০৫ অপরাহ্ন
নদী ভাঙন আতঙ্কে সুরমাপাড়ের মানুষ
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী :: শত কোটি টাকায় নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও ভাঙন আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে এখন দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমাপাড়ের মানুষ। ইতিমধ্যে ভাঙন শুরু হয়েছে নতুন নতুন এলাকায়। খোদ উপজেলা সদরের মুরাদপুর, মাঝেরগাঁও, নৈনগাঁও, মাছিমপুর নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলো রয়েছে ভাঙন ঝুঁকিতে। শতকোটি টাকার নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই মুরাদপুর, মাঝেরগাঁও গ্রামের বিভিন্ন স্পটে জিও ব্যাগ সঠিকভাবে না ফেলায় ব্লক সরে গিয়ে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে এবং ব্লকের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। ইউপি সদস্য এরশাদুর রহমান বলেছেন, মুরাদপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা লালমিয়ার বাড়ির নিকটে ব্লক সরে গিয়ে ফাটল দেখা দিয়েছে। কাজের শুরুতে এখানে সঠিকভাবে কাজ হচ্ছে না জানিয়ে আসলেও তারা কোন কর্ণপাত করেনি। এখন ঝুঁকিপূর্ণ স্পটে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা না হলে বর্ষা শুরু হলেই ভাঙন শুরু হবে। মুরাদপুর গ্রামের হাবিবুর রহমান হবিব জানিয়েছেন, মুরাদপুর গ্রামে দায়সারা ভাবে বসানো ব্লকগুলোর নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। এতে ফাটল এবং গর্তের সৃষ্টি হয়ে এখন আমরাও ভাঙন ঝুঁকিতে আছি। নদী ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পে পাউবো’র কর্মকর্তাদের উদাসীনতা এবং ঠিকাদার সংশ্লিষ্টদের অনিয়ম দুর্নীতিই এর জন্য দায়ী। এছাড়াও নদীতে জিও ব্যাগ সঠিকভাবে না ফেলার কারণে এমনটি হয়েছে। অপরদিকে, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর থেকে উপজেলার অন্যান্য এলাকায় সুরমার ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়েছে। উপজেলার নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হওয়ার দৃশ্য প্রতিদিন বাড়ছে। দোয়ারাবাজার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম মাছিমপুর গ্রামের শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের কবলে তাদের ভিটে-মাটি সর্বস্ব হারিয়ে এখন মানবতর জীবন যাপন করছে। এখানকার মানুষের শতশত ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার কারণে অনেকেই ভূমিহীন হয়ে পড়েছেন। উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের শরীফপুর গ্রামের পঞ্চায়েতি কবরস্থান, দোকানপাট ও বোগলা-দোয়ারাবাজার সড়কের শরীফপুর অংশটি ভাঙনের চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যে ভুজনা গ্রামের ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়াও একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম ভুজনা-দোয়ারাবাজার সড়কটি ও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ওই এলাকার নদী পাড়ের বেশ কিছু সড়কের অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাই আগে থেকে সরকারি উদ্যোগে ভাঙন কবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এসব এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম (নেয়ামত) বলেন, প্রতিবছর ভুজনা এলাকার ঘরবাড়ি ও শতশত বিঘা ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সরকারের কোন উদ্যোগ নেই। মাছিমপুর গ্রামের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান (মিজু) বলেন, সুরমা নদীর ভাঙনের কারণে এই এলাকার অনেক মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। শরীফপুর গ্রামের শাহীন বলেন, প্রতি বছর সুরমা নদীর পানি কমতে থাকলেই ভাঙন দেখা দেয়। শরীফপুর কবরস্থানের অধিকাংশ কবর ভেঙে গেছে। সেই সাথে সাইডিং ঘাটে আমার দোকানঘরগুলো হুমকির মুখে রয়েছে। এই এলাকায় জিওব্যাগ না ফেললে বোগলা-দোয়ারাবাজার সড়কটিও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। ভুজনা গ্রামের হানিফ মিয়া বলেন, ভুজনা গ্রামের অনেক বাড়িঘর ইতিমধ্যে বিলীন হয়েছে। এখন শতশত বিঘা জমি ফসলসহ ভেঙে যাচ্ছে। সরকার কোন উদ্যোগ না নিলে একমাত্র সড়কটিসহ বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে। এ ব্যাপারে পাউবো’র উপজেলা এসও সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিষয়টি জেলা অফিসকে অবহিত করেছি। আশা করছি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সুনামগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সুরমা নদীর তীর সংরক্ষণের কাজ চলমান রয়েছে। পরবর্তীতে ঐসব এলাকাতে ও নদীর তীর সংরক্ষণের আওতায় নেওয়া হতে পারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সড়কপথে পাচার হচ্ছে লুটের বালু, রাতের আঁধারে অর্ধশতাধিক যানবাহনে বালু পরিবহন, ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিককে হেনস্তা

সড়কপথে পাচার হচ্ছে লুটের বালু, রাতের আঁধারে অর্ধশতাধিক যানবাহনে বালু পরিবহন, ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিককে হেনস্তা