সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ

দিরাই-শাল্লায় বাঁধ নির্মাণকাজের বেহাল দশা

  • আপলোড সময় : ০২-০৩-২০২৫ ০৫:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৩-২০২৫ ০৫:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন
দিরাই-শাল্লায় বাঁধ নির্মাণকাজের বেহাল দশা
স্টাফ রিপোর্টার :: হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণ ও সংস্কার কাজের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে বেঁধে দেওয়ার সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয় নি। এ কারণে অকাল বন্যায় ফসল হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে। গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখাযায়, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার হাওরে এখনও কয়েকটি বাঁধ এবং ক্লোজারে মাটির কাজ শেষ হয়নি। শাল্লা উপজেলার ভান্ডা বিল হাওরের ৭২নং পিআইসিতে গিয়ে দেখা যায় মাত্র মাটির কাজ চলছে। ৬০-৬৫ ভাগ মাটির কাজ হয়েছে। এ প্রকল্পের সভাপতি হারাধন দাস। প্রকল্প এলাকায় কয়েকটি মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। মনে হচ্ছে বাঁধ দেখতে লোক যাবে এমন সংবাদে ওইদিন কাজ চলছে। এ প্রকল্পে বাজেট রয়েছে ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৮শ ত্রিশ টাকা। এখনো মাটির কাজই শেষ হয়নি। কবে কমপেকশন এবং ঘাসের কাজ হবে কেউ জানে না। সংশ্লিষ্ট পিআইসি’র সভাপতির কাছে পরিদর্শন খাতা চাইলে তিনি বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। খাতায় কেউ কিছু লিখেননি। তার মানে এই বাঁধ কেউ পরিদর্শন করেননি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ সদস্য নূরুল হক আফিন্দী ২৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ অনুযায়ী বাঁধের কাজের শেষ দিনে দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন বাঁধ পরিদর্শন করে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বাঁধ পরিদর্শনে আসলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তাকে তার সাথে বা বাঁধে দেখা যায়নি। নূরুল হক আফিন্দী বলেন, আজকে কাজ দেখে আমি হতাশ। কাজের যেমন ধীরগতি, তেমনি গুণগত মানও অনেক খারাপ। বিষয়টি নিয়ে আমি আমাদের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মহোদয়কে অবহিত করবো। পিআইসির লোকদের কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি তবে আমার সাথে পাউবো কর্মকর্তারা থাকলে কাজের এমন অবস্থা কেন তাদের কাছে জানতে পারতাম। শাল্লা উপজেলার ফয়জুল্লাপুর ৮৫ ও ৮৬ নং বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, কিছু শ্রমিক ঘাস লাগানোর কাজ করছেন। তবে এ বাঁধের সামনে গত বছরের যে বাঁধ ছিল তার মাটি কেটে বাঁধে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি নদীর পার কেটে বাঁধে মাটি দেয়ায় বাঁধ দুটি হুমকির মুখে আছে। নদীতে পানি আসলে এই বাঁধে চাপ বেশি পড়বে। দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ৫৮নং পিআইসি দায়িত্বে রয়েছে শাল্লা পাউবো। এ বাঁধের কাজের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। এই বাঁধটিতে মাত্র মাটির কাজ শুরু হয়েছে। এই ৫৮নং পিআইসি’র সভাপতি মজনু মিয়া। এ বাঁধে বাজেট রাখা হয়েছে ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ২১৬ টাকা। পিআইসি এলাকায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। কোন শ্রমিক বা মেশিন কাজ করছে না। নামেমাত্র কিছু মাটি ফেলে রাখা হয়েছে বাঁধে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বরাম হাওরের খরাপার ক্লোজারটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু এখনো কাজ শেষ না করায় আশঙ্কায় আছেন কৃষকরা। সংশ্লিষ্ট পিআইসি সভাপতির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি নামাজে আছেন। বাঁধ এলাকায় শ্রমিকরা কাজ করছে। আমরা বাঁধে আছি জানালে তিনি বলেন, শ্রমিকরা হয়তো খাইতে গেছে। উনার বাড়ি থেকে বাঁধ অনেকটা দূর হওয়ায় তিনি পরিদর্শন খাতা নিয়ে দিরাই উপজেলার ধল বাজারে আসেন। খাতা খোলে দেখাযায়, পরিদর্শন নোটের অভাব নেই। কিন্তু বাস্তবে বাঁধে সে পরিমাণ কাজ হয়নি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ সদস্য নূরুল হক আফিন্দী তার নোটে লিখেন, অদ্য ২৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ অনুযায়ী বাঁধের কাজের শেষ দিনে পিআইসি নং ৫৮ সাইটে গিয়ে পরির্দশন করি। দেখা যায় ৫০% মাটির কাজ হয়েছে। কিন্তু সাইটে শ্রমিক নেই। পিআইসি এলাকায় কোন শ্রমিক বা পিআইসি সভাপতি বা স¤পাদক সাইটে নেই। ক্লোজারটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাঁধটিতে দায়সারা মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। যেভাবে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে একটু বৃষ্টি হলেই মাটি নদীতে নেমে যাবে। বাঁধে মাটির কাজ শেখ করতে আরো ৭-৮ দিন প্রয়োজন। রেজিস্ট্রারে দেখা যায় অনেকে বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন, সে পরিমাণ কাজ হইনি। মনিটরিং কমিটির গাফিলতির কারণে এ কাজের এ অবস্থা। তিনি বলেন, আজ পাউবো’র কোন কর্মকর্তা বাঁধে থাকলে তার কাছে আসল কারণ জানতে পারতাম। তিনি এ বাঁধ পরিদর্শন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ