সুনামগঞ্জ , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুরমা নদী ক্যাপিটাল ড্রেজিংয়ের দাবি ধীরে চলছে চারলেন প্রকল্পের কাজ ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই কিশোর আটক জন্মজয়ন্তীতে কবি নজরুল ইসলামকে স্মরণ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক র‌্যালি গাছের সঙ্গে ট্রাকের ধাক্কায় শ্রমিক নিহত, অটোরিকশার চাপায় প্রাণ গেল ৬ বছরের শিশুর পুশইনে মরিয়া বিএসএফ, সীমান্তে উত্তেজনা মে মাসে গণপিটুনি ও সহিংসতায় নিহত ৩১, ধর্ষণের শিকার ৮৩ নারী ও শিশু বাদাম চাষে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ালেও ফলন নিয়ে শঙ্কা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে ছাড় দেওয়া হবে না ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অনিয়ম, ক্ষোভে ফুঁসছেন বঞ্চিতরা টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ছোট্ট সৌম্যতার জীবনপ্রদীপ তাহিরপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ও আলোচনা সভায় এমপি কামরুল মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ”

নদী কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়

  • আপলোড সময় : ০৬-০৩-২০২৫ ১২:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৩-২০২৫ ১২:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন
নদী কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়
গত সোমবার (৩ মার্চ ২০২৫) তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে নদীর জায়গা দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ১০ জন। এমন হলে বলাই যায় যে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই এবং বিরোধটা যেহেতু জায়গা দখলে, সুতরাং বিরোধের নিরসন না হলে কী হবে সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কীছু বলা যায় না। ঘটনা যেকোনও মুহূর্তে তা রক্তারক্তি থেকে হতাহতের ঘটনায় পর্যবসিত হতে পারে। নদী কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ইচ্ছে করলেই যে কেউ নদীর জায়গা দখল করে নিতে পারেন না। সরকার নদী থেকে মৎস্য অহরণ কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে বালু-পাথর উত্তোলনের জন্যে আইন অনুসারে ইজারা দিয়ে থাকেন। সুনামগঞ্জের উত্তরাঞ্চলে নদীর তলদেশের বালু-পাথর আহরণের তাগিদে বালুপাথর মহাল সৃষ্টির পর থেকে নদী ইজারা দেওয়ার প্রচলন হয়েছে। ফলে ইজারা ও ইজারাবিহীনতার ফাঁকতালে আজকাল লোকেরা নদীর জায়গা দখল নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামতে কসুর করেন না এবং সেটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গিয়ে সাধারণ ঝগড়াঝাটির সীমানা ছাড়িয়ে মামলা-মোকদ্দমা হয়ে রক্তারক্তি কা-কারখানা হয়ে যাওয়া পর্যন্ত গড়ায়। এইসব পুরনো কাসুন্ধি আপাতত ঘাঁটতে চাই না। নদীর জায়গা বলে কথা। নদী কারও ব্যক্তিগত মালিকানার জায়গা হতেই পারে না। নদীর মালিক রাষ্ট্র অর্থাৎ সরকার। এই দিক থেকে বিবেচনায় সরকারি অনুমোদন ব্যতীত কোনও ব্যক্তিবিশেষ নদীর বালুপাথর আহরণ কিংবা উত্তোলন করার অধিকারী নন। আইন অনুসারে সরকার ব্যক্তিকে মৎস্য-আহরণ অথবা বালুপাথর সংগ্রহের জন্যে ইজারা দিয়ে থাকেন। আইনের এই নীতি মেনে চললে ইজারা দেওয়ার পর এখন যেমন দখল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিবাদ হচ্ছ তা হবার কথা নয়। নদীর বালুপাথর লুটের প্রসঙ্গ তোলছি না, এতো ঘুরপ্যাচের দরকার নেই। নদীদখলের বিবাদের নিরসন চাই। সোজা কথায় বলি, নদী ‘ইজারা দেওয়া হয়ে থাকলে’ সরকারের উচিত ইজারাদারকে সুরক্ষা দেওয়া, বিপরীতে ‘ইজারা দেওয়া না-হয়ে থাকলে’ অথবা বালুপাথর উত্তোলনের কোনও সরকারি অনুমোদন না থাকলে নদীর বর্তমান দখলদারকে উচ্ছেদ করাসহ দখল করতে প্রত্যাশীকে কঠোর হস্তে দমন করা উচিত, সরকারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বলে দিতে হবে যে, নদী কারও বাপের জায়গা নয়, নদী রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি, যার ইচ্ছে সেই দখল করে নিয়ে বালুপাথর লুট করে নিতে পারে না। রাষ্ট্রের প্রতি এটি একটি অপরাধ, প্রশাসনকে তা দমন করতেই হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স