সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ , ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার ‎জামালগঞ্জ প্রেসক্লাবের সঙ্গে নবনিযুক্ত ইউএনওর মতবিনিময় সভা নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’র ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী লিবিয়া-গ্রিসে মানবপাচার, ১৮ বাংলাদেশির মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতার ১ চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছে না সুনামগঞ্জ সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের ৭ দফা দাবি যারা ‘সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না’ বলছে তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী দোয়ারাবাজারে ভিডিও কনফারেন্সে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রকে মারধর ‎ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষীদের পাশে ইউএনও সঞ্জয় ঘোষ ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন বিশ্বকাপের উন্মাদনায় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আনন্দ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক

ভরাট হচ্ছে নদ-নদী

  • আপলোড সময় : ২০-০৪-২০২৫ ০১:০১:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২০-০৪-২০২৫ ০৮:৩৩:০২ পূর্বাহ্ন
ভরাট হচ্ছে নদ-নদী ভরাট হওয়া মরা সুরমা নদী: ছবি সুনামকন্ঠ
শহীদনূর আহমেদ ::
ছবিতে দেখা নদীটি সুনামগঞ্জের অন্যতম মরা সুরমা নদী। যা স্থানীয়দের কাছে পুরাতন সুরমা হিসেবে পরিচিত। প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই নদীটি জেলা সদরের সুরমা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে শান্তিগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে মিলিত হয়েছে দিরাই উপজেলার কালনী নদীর সাথে। এক সময়ের খরস্রোতা নদীটি এখন বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। উজান থেকে আসা পলিতে ভরাট হয়েগেছে নদীর তলদেশ। এক সময় যে নদীতে বড় বড় লঞ্চ চলাচল করতো, এখন সেই নদীর বিভিন্ন স্থানে ধান চাষ করেন কৃষকরা। ১২ মাস যে নদী পার হতে নৌকার প্রয়োজন হতো সেই নদীর বিভিন্ন স্থানে এখন হেটে পার হন স্থানীরা।
এই চিত্র শুধু মরা সুরমা’র নয়। জেলার সুরমা, কুশিয়ারা, কালনী, যাদুকাটা, রক্তি, বৌলাইসহ প্রায় সকল নদী ভরাটের কবলে পড়েছে। নদীর এমন চিত্র জানান দেয়- ভালো নেই নদী ও হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় ছোটবড় মিলে নদ-নদী রয়েছে প্রায় ১০৬টি। রয়েছে কয়েক শত খাল। জেলার প্রায় সকল নদীই ভরাটের কবলে পড়লেও সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের তালিকায় ১৯টি নদী রয়েছে।
উজানের ঢলের সাথে আসা পলিতে ভরাট হয়েগেছে এসব নদীর তলদেশ। প্রতি বছরই পরিবর্তন হচ্ছে নদীর আকৃতি। পরিবেশবাদীদের মতে, নদী ভরাটের প্রধান কারণ হলো নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টির ফলে নদীর তলদেশে পলি সঞ্চিত হওয়া এবং বিভিন্ন প্রকারের দূষণ।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, হাওর অঞ্চলে অপরিকল্পিত বাঁধ ও অবকাঠামো নির্মাণ, নদী দখল, দূষণ ও নদী ব্যবস্থাপনা ও যথাযথ সংরক্ষণ না হওয়া নদী ভরাটের অন্যতম কারণ। ফলে শুষ্ক মওসুমে নদ-নদীতে নৌ চলাচল বাধাগ্রস্তসহ হাওরে জীবন-জীবিকায় দেখা দিয়েছে বিরূপ প্রভাব। দেখা দিয়েছে কৃষি কাজে সেচের পানির সংকট। ব্যাহত হচ্ছে মাছের প্রজনন। ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে সুপেয় পানির সরবরাহ। বেড়েছে বন্যার প্রাদুর্ভাবসহ পরিবেশের বিপর্যয়। বর্ষা ও শুষ্ক মওসুমে নদীগুলো খনন করে নাব্যতা রক্ষা করা, পরিকল্পিত ও পরিবেশ উপযোগী বাঁধ ও অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করার পাশাপাশি নদী রক্ষণাবেক্ষণ প্রয়োজন বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

বাংলাদেশ পরিবশে আন্দোলন বাপা’র সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক দুলাল মিয়া বলেন, সুনামগঞ্জে সকল নদ-নদী ভরাটের কবলে। যা হাওরবাসীর জন্য অশনি সংকেত। নদী ভরাটের ফলে সুনামগঞ্জে প্রতিবছর বন্যা ঝুঁকি রয়েছে। নদী ভরাটের স্থায়ী কুফল থেকে বাঁচতে এখনই মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর উৎপত্তিস্থল হতে শেষ মোহনা পর্যন্ত স্থায়ীভাবে পরিকল্পিত ড্রেজিং প্রয়োজন। নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। পাহাড় থেকে যে পলি আসে তা বের না হলে তা অন্যান্য নদীতে যাবে। বৃহৎ প্রকল্পের আওতায় নদী খনন প্রয়োজন। এছাড়া অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। নদী শাসন ও রক্ষণাবেক্ষণে যথাযথ আইন প্রয়োগ করা জরুরি।
এদিকে জেলার ভরাট হওয়া নদী খননের জন্য একটি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। জেলার ভরাট হওয়ায় ১৯টি নদী খননের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। তবে প্রকল্পে টাকার পরিমাণ বেশি হওয়ায় অনুমোদনের ক্ষেত্রে আরও যাচাই-বাছাই হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার। তিনি বলেন, নদী খননের একটি বড় প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আশা করছি মাস দুয়েকের মধ্যে এটি অনুমোদন হয়ে যাবে। প্রকল্পটি অনুমোদন হলে খনন কাজ শুরু হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা

নিজের অর্থে গড়া বাড়িতেই উঠতে পারছেন না মেক্সিকো প্রবাসী সাজেদা