সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ , ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দুই-এক মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন : প্রধানমন্ত্রী আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৩০ উদ্বোধন হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২’ মানুষের ভালোবাসায় লোকালয়ে গড়ে উঠেছে পাখিদের অভয়াশ্রম ধর্মপাশা চৌকি আদালত লিগ্যাল এইড কমিটি সক্রিয়করণে সভা মঙ্গলকাটায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের আশ্বাস ওসি’র জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা, সুনামগঞ্জে তীব্র ক্ষোভ সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত তরুণ-তরুণীর বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : আহত ২০ হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে, বন্ধ ঠিকাদারের বিল শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি কার্যালয়ে বীজের মজুত ও বিক্রির অভিযোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদের প্রস্তুতি

ধানের পর খড়ের জন্য কৃষকের ব্যস্ততা সংগ্রহ হবে আড়াইশ কোটি টাকার গো-খাদ্য

  • আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৫ ০৩:১৮:৩৯ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৫ ০৩:১৮:৩৯ অপরাহ্ন
ধানের পর খড়ের জন্য কৃষকের ব্যস্ততা সংগ্রহ হবে আড়াইশ কোটি টাকার গো-খাদ্য
স্টাফ রিপোর্টার :: হাওরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষক এখনও গৃহপালিত গবাদি পশুর ওপর নির্ভরশীল। যেমন বোরো ধান, তেমনি গরু-মহিষসহ গৃহপালিত পশুরাও তাদের মূল্যবান সম্পদ। তাই প্রতিবারের মতো এবারও ধান কাটার পাশাপাশি গো-খাদ্য (খড়) সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলার লাখ লাখ কৃষক। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় প্রায় ৮ লাখ গবাদি পশুর জন্য হাওর থেকে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন খড় সংগ্রহ করছেন কৃষকরা, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াইশ কোটি টাকারও বেশি। হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখনও অনেক এলাকায় গরু-মহিষ দিয়ে চাষাবাদ, ধান মাড়াই ও পরিবহন কাজ চালানো হয়। পাশাপাশি কৃষাণীরা ছাগল ও ভেড়া পালন করে থাকেন, যা থেকে দুধ, মাংস ও জরুরি সময় অর্থনৈতিক সহায়তা পাওয়া যায়। বর্ষায় খড় না পাওয়ায় আগেভাগেই বছরের প্রয়োজনীয় গো-খাদ্য সংগ্রহে মনোযোগ দেন তারা। এবার ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ১০০০টি কম্বাইন হার্ভেস্টার ও ১৫০-২০০টি রিপার ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে ধান কাটা সহজ হলেও খড় সংগ্রহে বাড়তি শ্রম, সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আগে শ্রমিক দিয়ে ধান কেটে খলায় এনে মাড়াই করা হতো, তখন খড় সংগ্রহ সহজ ছিল। এখন মেশিনে মাড়াই করার পর খড় জমিতেই পড়ে থাকে, যা আবার শ্রমিক দিয়ে তুলতে হয়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, জেলায় প্রায় ৪ লাখ পরিবার বোরো চাষাবাদের সাথে জড়িত। এর মধ্যে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৭ জন কার্ডধারী কৃষক। জেলার ১২টি উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ছোট বড় ১৩৭টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০২ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়েছে। ধানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১৫লাখ মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য ৫ হাজার ২ শত কোটি টাকার বেশি। আরও জানাগেছে, জেলায় স¤পূর্ণ ধান কাটা প্রায় শেষের পথে। তবে হার্ভেস্টারে ধান কাটতে গিয়ে প্রাকৃতিক গো-খাদ্য (খড়) সংগ্রহের সুযোগ পাননি কৃষক। তাই এখন গো-খাদ্য সংগ্রহ চলছে। হাওরপাড়ের বাসিন্দাগণ জানান, বর্ষার সময় প্রাকৃতিক খড় খাইয়ে চাষাবাদের গবাদিপশুকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়। কোন কারণে হাওরের ফসল ডুবি হলে গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দেয়। খরচার হাওর পাড়ের কৃষক শামীম মিয়া জানান, মেশিনে হাওরের গভীরেই ধান কেটে মাড়াই করে বস্তায় ভরে বাড়ির পাশে খলায় নিয়ে আসায় ধান কাটার পর অবশিষ্ট অংশ (খড়) জমিতেই থেকে যায়, আনা হয়নি। পূর্বে ধান কেটে শ্রমিক, ট্রলি দিয়ে খলায় এনে মাড়াই করা হত এতে করে খড় আনার ঝামেলা ছিল না। এখন এই খড় শ্রমিক দিয়ে জমি থেকে আবার খলায় আনতে হচ্ছে। শনির হাওর পাড়ের কৃষক সাদেক আলী জানান, মেশিনের সাহায্যে হাওরের ধান কাটা ও মাড়াই সহজ হলেও খড় সংগ্রহ করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। মেশিনে ধান কাটার পর নতুন করে শ্রমিক লাগিয়ে জমি থেকে খড় সংগ্রহ করায় একদিকে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয়, সেই সাথে খড়ের গুণও থাকছে না। সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এ বছর ফলন ভাল হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। হাওরে ১৫ লক্ষধিক মেট্রিক টন উৎপাদিত ধানের মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। জেলায় ১৩ লক্ষ ৭০ হাজার মেট্রিক টন ধান এবং ৯ লক্ষ ১৩ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন চাল ঘরে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। গত ৯ মে পর্যন্ত ১৩ লক্ষ ৪ হাজার মেট্রিক টন ধান ও ৮ লক্ষ ৬০ হাজার ৮শত মেট্রিক টন চাল তোলা হয়ে গেছে। উৎপাদিত ধান থেকে প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টনের বেশি চাল পাওয়া যাবে। যা স্থানীয় চাহিদার ৬ লাখ টন মিটিয়ে আরও ৩ লাখ টনের বেশি চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জেলার হাওরপাড়ের কৃষকগণ নিজেদের খাবার ধান তোলার পাশাপাশি এবার ৫ লাখ মেট্রিক টন গবাদি পশুর খাবার খড় (যার মূল্য আড়াই কোটি টাকা) নির্বিঘেœ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কৃষকগণ চাহিদামত খড় সংগ্রহ করেছেন, যা দিয়ে বর্ষা মৌসুমে ৫ লক্ষাধিক গরু মহিষ, ১ লাখ ৩৫ হাজার ভেড়া ও ৫২ হাজার ছাগলসহ ১ লক্ষাধিক অন্যান্য গবাদি পশুর খাদ্যের চাহিদা মিটবে। আর খড় সংগ্রহ করতে আরও কিছু দিন তারা ব্যস্ত সময় পার করবেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
দুই-এক মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন : প্রধানমন্ত্রী

দুই-এক মাসের মধ্যে পোশাকশ্রমিকদের নতুন বেতন : প্রধানমন্ত্রী