সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ , ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি সাংবাদিক আলিফ হত্যা ও মোত্তালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন দিরাইয়ে মাদকবিরোধী সভার পর প্রবাসী লিমনের ওপর হামলার অভিযোগ ‎সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি : প্রধানমন্ত্রী ‎সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই : আইনমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ১৬২ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত ‎মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক দুর্গাপূজা উপলক্ষে পশ্চিম নতুনপাড়ায় ৮৮ প্রবীণকে সম্মাননা দিরাইয়ে মোটরবাইক দুর্ঘটনায় আহত ২ সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন, খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি সুনামগঞ্জে দুই যুব সংগঠন পেল ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা অনুদান দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ : রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজার শুভেচ্ছাবার্তায় প্রধানমন্ত্রী ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, মাঠে তৎপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুনামগঞ্জে এসআরবি উইং কমান্ডার দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত ছেলের হাতে মা খুন সীমান্তবর্তী পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন সুনামগঞ্জে সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা সহ্য করা হবে না : এমপি নূরুল ইসলাম পতিত জমিতে মাল্টার বাগান, প্রবাসফেরত সাইফুরের সাফল্য

সামাজিক স্বশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর হবে না

  • আপলোড সময় : ০৩-০৯-২০২৪ ১১:২০:০২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৩-০৯-২০২৪ ১১:২০:০২ পূর্বাহ্ন
সামাজিক স্বশাসন প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজ থেকে বৈষম্য দূর হবে না
সম্পাদকীয়:: খবরে প্রকাশ, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে যেন কোনো বৈষম্য না হয়। বড় মিয়ার বাড়ির রাস্তা আগে হবে আর ছোট মিয়ার বাড়ির রাস্তা পরে হবে, এমনটা আমরা শুনতে চাই না। যাঁরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তাঁরাই পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। বৈষম্যের দিনের অবসান ঘটেছে।’ গত রোববার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৪) মিরসরাইয়ে উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে বন্যাপরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক-ই-আজম। অপর একটি খবরে প্রকাশ, ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিদেশে গেছেন এক নেতা।’ অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা বন্যাদুর্গতের ত্রাণসহায়তা প্রদানে ‘যাঁরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তাঁরাই পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন’ নীতিতে অটল থেকে ‘বৈষম্যের দিনের অবসান’ ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে দেশের হাজার হাজার মানুষকে চিকিৎসাবঞ্চিত রেখে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর জন্যে বিদেশযাত্রী হয়ে ওই নেতা নিজের মধ্যে বৈষম্যবোধকেই ধারণ করছেন। এই দুই ঘটনার নিহিতার্থ এই যে, ত্রাণপাওয়া ও চিকিৎসা পাওয়ার দুটি ভিন্ন বিষয় হলেও একটির ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনের প্রচেষ্টা বিদ্যমান এবং অন্যটির ক্ষেত্রে অনুপস্থিত। যে-কেউ এমনটি ভাবতেই পারেন, যদিও ভাবনাটা একটু ব্যতিক্রমী এবং মনে হয় কেমন যেনো একটা কী। কিন্তু এর মধ্যে একটি সত্য নিহত আছে। সে-সত্যটা হলো, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যতই তীব্র হোক বা কার্যকর হোক না কেন শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাস্তবত বৈষম্য থেকেই যাবে। ধনী-দরিদ্রের তফাৎটা কীছুতেই ঘুচানো যাচ্ছে না। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন অব্যাহত রাখলেই একজন কারখানা শ্রমিকের সঙ্গে একজন কারখানা মালিকের সম্পদসাম্যতা সম্ভব হয়ে উঠবে না। তার জন্যে চাই সুনির্দিষ্ট আর্থনীতিক কর্মসূচির বাস্তবায়ন আর এর পেছনে চাই শোষণবিরোধী সমতার নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ রাজনীতিক দল। ভুলে গেলে চলবে না, সমাজে বদ্ধশূল একটি বৈষম্যসঞ্জাত মানসতা চালু আছে। যে-মানসতা বর্ণ কিংবা জাতিগত জন্মসূত্র, লিঙ্গভেদ, রাজনীতিক ও ধর্মীয় ভাবদর্শের কারণে মানুষের মনে উদ্ভব ঘটে এবং সমাজসদস্যদের একাংশের অধিকার সংকোচন শুরু হয় বা একশ্রেণির মানুষ কর্তৃক অন্য শ্রেণির মানুষের অধিকার হরণ করার অপকর্ম ঘটতেই থাকে এবং আত্মসাতের সর্বগ্রাসী রূপে আবির্ভূত হয়ে শেষ পর্যন্ত দানবীয় যুদ্ধমূর্তি ধারণ করে। সেটা এমনি এমনি হয়ে যায় না, সেটা হওয়ার জন্য সম্পদের উপর ব্যক্তিমালিকনার উদ্ভব ও ব্যক্তির হাতে সম্পদ সঞ্চয়ের ফলে সে পুঁজিপতি থেকে একচেটিয়া মুনাফাখোর হয়ে যথারীতি সমাজের ঊর্ধ্বে উঠে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ক্ষমতাধর হিসেবে এবং রাষ্ট্রের নিয়ন্তা হতে কসুর করে না। আর ক্ষমতা মানুষকে করে স্বৈরাচারী দানব, তার মানবিকতা লোপ হয়ে সে পশুতে পর্যবশিত হয়, সমাজের মানুষ নির্যাতিত হয়ে স্বাধীনতাহীনতায় বেঁচে থাকে। এই অবস্থা থেকে উত্তীর্ণ হতে হলে যা করতে হবে তার বিশদ বিবরণ এখানে বিবৃত করার অবকাশ নেই। যদিও বিবৃত করাটা জরুরি। একেবারে সংক্ষেপে বলতে গেলে যা বলতে হবে সেটা হলো এই যে, অর্থনীতিটাকে এমনভাবে বদলে দিতে হবে, যাতে শ্রমশক্তি ও উৎপাদনশীলতার উচ্চতর বিকাশ ঘটে এবং এর ফেলে একটি সামাজিক স্বশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, নাগরিকদের প্রত্যেকে সমাজকে দেয় সাধ্য বা সামর্থ্য অনুসারে, সমাজ থেকে নেয় প্রয়োজনানুসারে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য

সর্বশেষ সংবাদ
সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি

সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি